[ ] 2011-03-17 |
|
|
 |
|
তেজস্ক্রিয়ায় ক্যান্সারের ঝুঁকি |
 |
জার্মানির ৭টি পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
পরমাণু কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়ার কারণে খাবার ও পানির মাধ্যমে ক্যান্সার হতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে গর্ভবতর্ী ও শিশুরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেজস্ক্রিয়া ছড়ানোর ফলে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আর উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এক্ষেত্রে আরো বিপজ্জনক।
জাপানে ভূমিকম্পের কারণে সম্ভাব্য পরমাণু বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে জার্মানি সেদেশের সাতটি পুরনো পারমাণবিক বিদু্যৎ কেন্দ্র আগামী তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যারকেল সেদেশের পাঁচটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকশেষে তার সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই সাতটি পারমাণবিক বিদু্যৎ কেন্দ্র ১৯৮০ সালের আগে থেকে চালু ছিল। বিদু্যৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধের দাবিতে সোমবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চতুর্থ বিস্ফোরণ ঘটে মঙ্গলবার। ফলে বিদু্যৎ কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়া ছড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান এক ভাষণে বলেছেন, পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়া ছড়ানোর বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ও মানবদেহে বিষক্রিয়া বিশেষজ্ঞ লি টিন-লাপ বলেন, জাপানের চারপাশের সমুদ্রের পানিতে তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা পরিমাপ করা জরুরি। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বলেছে, ফুকুশিমায় মঙ্গলবারের প্রথম বিস্ফোরণের পর ঘণ্টায় ৪০০ মিলিসিভার্টসের চেয়ে বেশি তেজস্ক্রিয়া নির্গমন হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা হামলায় আক্রান্তদের চিকিৎসা করেছেন এমন এক জাপানি বিজ্ঞানী নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তেজস্ক্রিয়া মানুষের শরীরের কোষের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)-এর গঠনে পরিবর্তন ঘটায়। তাতে দেহকোষের অসম বিভাজন ও বৃদ্ধি ঘটে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। পরিণতদের চেয়ে গর্ভজাত ও বাড়ন্ত শিশুদের দেহকোষের বিভাজন অনেক বেশি হারে হয় বলে তেজস্ক্রিয়তায় তাদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তিনি জানান, শিশুরা দুধ বেশি খায় বলে তাদের শরীরে তেজস্ক্রিয়তা প্রবেশের ঝুঁকিও বেশি। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল প্যাথলজিস্ট লাম চিং-ওয়ান বলেন, এ বিস্ফোরণের ফলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। আর তাতে মানুষের থাইরয়েড ও বোন ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। গর্ভজাত শিশুরাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকবে।
বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে। আবার বৃষ্টির সঙ্গে সাগরের পানিতে ও মাটিতে নেমে খাদ্যশস্য, পানি ও সামুদ্রিক প্রাণীতে চলে যায়। সেগুলো গ্রহণ করলে মানুষের শরীরে তেজস্ক্রিয় উপাদান প্রবেশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেজস্ক্রিয়া থাকা ঘাস খেয়েছে এমন গরুর দুধের মাধ্যমেও তেজস্ক্রিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অধ্যাপক লি জানান, বাতাসে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়া এক সময় পানিতে যাবে এবং সমুদ্রের পানি ও জীবজগতে তা মিশে যাবে। আর বৃষ্টি হলে সুপেয় পানিতেও তেজস্ক্রিয়া মিশে যেতে পারে। |
| |
|
| |