আইনি জটিলতায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ পদ্মা অয়েলের শেয়ার লেনদেন
রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম লভ্যাংশ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে সাড়ে তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কম্পানি লিমিটেডের শেয়ারের লেনদেন। ফলে এই কম্পানির শেয়ারে লগি্নকারী সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। কম্পানি আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও এই শেয়ারের ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারীর দায়ের করা রিট মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বারবার স্থগিতাদেশ বাড়াচ্ছে এসইসি। ফলে দীর্ঘ সাত মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে কিছু দিন ধরে শেয়ারবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও পদ্মা অয়েলের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন না। মোহাম্মদ ইসমাইল নামের এক বিনিয়োগকারী লেনদেন স্থগিতের দুদিন আগে ৭৪০ টাকা করে পদ্মা অয়েলের এক হাজার শেয়ার কিনেছেন। কিন্তু এর পরই এই কম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পুরো টাকাই আটকে আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'নিজের টাকার সঙ্গে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পদ্মা অয়েলের শেয়ার কিনেছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন বন্ধ থাকায় ঋণের সুদ বাড়ছে। এ ছাড়া ধারাবাহিক পতনের পর এক মাস ধরে বাজারে যে ইতিবাচক হাওয়া বইছে, আমরা সেটা গ্রহণ করতে পারছি না_নগদ টাকার অভাবে।' তিনি বলেন, 'লেনদেনের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা অয়েলের লেনদেন বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে বলে মনে হয় না।' ইসমাইলের মতো হাজারও বিনিয়োগকারীর টাকা লভ্যাংশ নিয়ে পদ্মা অয়েলের আইনি জটিলতার কারণে আটকে গেছে। হতাশার পাশাপাশি তাঁদের ক্ষোভও বাড়ছে। পদ্মা অয়েলের লেনদেন পুনরায় চালু প্রসঙ্গে সিএসই এজিএম (কমপ্লাইয়েন্স) মোহাম্মদ মর্তুজা আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পদ্মা অয়েলের ঘোষিত লভ্যাংশ পরিবর্তন এসইসি আইন অনুযায়ী হয়নি। তাই এসইসির অনুমতি নিয়েই ডিএসই লেনদেন স্থগিত করেছে। স্বাভাবিকভাবে আমরাও লেনদেন স্থগিত রেখেছি। পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।' এ ব্যাপারে পদ্মা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) ও কম্পানিসচিব মাহফুজুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম শামসুদ্দোহার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ডিভিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, কম্পানির পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য এসইসি ও ডিএসইর চাহিদা অনুযায়ী সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ চেষ্টার পর বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। এতে বিনিয়োগকারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি পদ্মা অয়েলও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কম্পানি আইন-১৯৯৪ অনুযায়ী, যেকোনো পরিস্থিতিতে একটি কম্পানির শেয়ার লেনদেন সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখতে পারে। পরে প্রয়োজনে নতুন আবেদনের ভিত্তিতে স্থগিতাদেশ বাড়ানো যায়।