[ ] 2011-09-30 |
|
|
 |
|
পাইলসের অপচিকিৎসায় ক্যান্সারের ঝুঁকি |
 |
চটকদার বিজ্ঞাপনে হাতুড়ে ডাক্তারদের দিকে ঝুঁকছে রোগীরা চট্টগ্রামে পাইলসের চিকিৎসার নামে চলছে ভয়াবহ অপচিকিৎসা। হাতুড়ে ডাক্তাররা ক্ষেত্রবিশেষে এসিডকে পাইলসের ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর দিকে টানা হচ্ছে রোগীদের। এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অপচিকিৎসার কারণে পাইলস রূপ নিচ্ছে ক্যান্সারে। সূত্র জানায়, নগরীর রাস্তাঘাটে নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চলছে অপচিকিৎসা। হাতুড়ে ডাক্তাররা ভ্যানে করেও পাইলসের ওষুধ বিক্রি করেন। নগরবাসীকে দিচ্ছেন বিভিন্ন চিকিৎসালয়ের ঠিকানা। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পাইলস ও পলিপ চিকিৎসালয়ের নামে নগরীর বিভিন্ন সিটিং বাসে তাদের পাইলস চিকিৎসার লিফলেট লাগানো রয়েছে। সেখানে লেখা অপারেশন ছাড়া নাকের ভিতরে পলিপ (গোটা) ও পাইলস (গেজ), অর্শ্ব, ভগন্দর, রক্তপড়া ও টিউমার ইনজেকশন দ্ধারা চিকিৎসা করা হয়। নগরীতে এদের শাখা রয়েছে বহদ্দারহাট ও সিইপিজেডে। বহদ্দারহাটে একটি অবৈধ পাইলস চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন এইচএসসিতে অকৃতকার্য এক মহিলা। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবার তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দিবেন। তিনি তার চিকিৎসা পদ্ধতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, তিনি পরীক্ষা করে রোগীর সাথে চুক্তি করেন। এ পরীক্ষার জন্য তাকে সাক্ষাত ফিসসহ ৪০০ টাকা দিতে হয়। এরপর রোগী চিকিৎসার খরচের অংকের সাথে রাজি হলে মলদ্বারের উপরে একটি ইনজেকশন দেন। এরপর তারা নিজেদের তৈরী করা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চালান। চিকিৎসা খরচ সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ পনের হাজার টাকা। নগরীর সিইপিজেড এ চিকিৎসালয়ের শাখাতেও একইভাবে চিকিৎসা চলে বলে জানান তিনি। নগরীর বিভিন্ন্ন এলাকায় হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছ থেকে পাইলসের চিকিৎসা নেয়া রোগীদের অনেকেই পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান অপচিকিৎসার শিকার হয়ে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের ৩টি ওয়ার্ড (২৪,২৫,২৭) নিজস্ব অনুসন্ধানে পাইলসের ৪৫ জন রোগী পাওয়া গেছে যারা চিকিৎসার জন্য হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে গিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নং সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নগরীর হালিশহরের জে বস্নকের নুরুন্নবী জানান, চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে তিনি পাইলস সমস্যা নিয়ে সিইপিজেডে একটি চিকিৎসালয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সাতমাসে তার চিকিৎসার নামে তারা তার পায়ুপথে পচন ধরিয়েছেন। শেষে একজন সার্জারী বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে তিনি চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. সানাইল্লাহ শেলী বলেন, পাইলসের চিকিৎসার শুরুতে সিগময়ডস্কপি পরীক্ষা ছাড়া রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়। টয়লেটে রক্ত যাওয়া, মাংসপেশি ঝুলে যাওয়া, ব্যাথা হওয়া এসব উপসর্গ দেখা দিলেই মলদ্ধারের ভিতরে এন্ডোসকপি যন্ত্র দিয়ে পাইলসের ধরন পরীক্ষা করে দেখতে হবে। চিকিৎসক নানা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবেন কি কি কারনে রক্ত যাচ্ছে। বিশেষ করে পায়ুপথের উপরে কোনো ক্যান্সার আছে কিনা। কিন্তু সাধারণ লোকজন হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে গেলে তারা মলদ্ধারে নাইট্রিক এসিড ইনজেকশন দিয়ে জায়গাটি পুড়িয়ে দেন। কিন্তু এ ইনজেকশন দেয়ার পর মলদ্বারের অংশ পচে গিয়ে এমনই সরু হয় যে, রোগী আর মলত্যাগ করতে পারেননা। নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে সিগমডয়স্কপি করতে আসা ৫২ বছরের আব্দুল মান্নান বলেন, তার পাইলসের সমস্যা শুরু হয়েছিলো ৪ থেকে ৫ বছর আগে। তখন থেকেই পায়ুপথ দিয়ে রক্ত যেতো। তিনি তার বাড়ির পাশের দোকান থেকে এক হাতুড়ে ডাক্তারের পরামর্শে পাইলসের ওষুধ কিনে খেয়েছিলেন। একই হাসপাতালে আব্দুল জব্বার নামে একজন রোগীকে পাওয়া গেলো যার মলদ্বারের রাস্তাটি নাইট্রেট এসিড ইনজেকশন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বহির্বিভাগের এক মেডিকেল অফিসার বলেন, চিকিৎসার অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকতেও শুধুমাত্র চটকদার বিজ্ঞাপনে ও রোগ গোপন রাখতে পাইলসের রোগীরা এসব হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে যায়। পাইলস কোন গোপন রোগ নয়। সার্জারী বিশেষজ্ঞরাই পারবেন শুধুমাত্র এ রোগ সারাতে |
| |
|
| |