[ ] 2012-02-22 |
|
|
 |
|
জ্বালানি তেলের দাম আপাতত বাড়ছে না |
 |
রাজু হামিদ : আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। বোরো আবাদের সেচ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপো-রেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে এখনো তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এছাড়া মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা করেনি। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে 'জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে' বলে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা ধারণার বশবর্তী হয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে বলে জানান তারা। সূত্রমতে, সারাদেশে এখন বোরোর সেচ মৌসুম চলছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা কৃষিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এ কথা চিন্তা করে আপাতত বর্ধিত ভর্তুকি দেয়ার পক্ষে সরকার। বিপিসি সূত্র জানায়, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণায় গত কয়েক দিন ধরেই জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চলছে। দফায় দফায় বাড়ছে তেলের দাম। সবশেষ সোমবার এশীয় বাজারে তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১০৫ মার্কিন ডলার। এ ব্যাপারে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, সর্বশেষ বিপিসি এখন প্রতি লিটার তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে ২৫ টাকা। মাত্র দশ দিন আগে এই ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২১ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, এই অস্থিরতা আগামী মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এরপরও কৃষকদের কথা চিন্তা করে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি জানান, সারাদেশে এখন সেচ মৌসুম চলছে; সে কারণে তারা চেষ্টা করছেন সব জায়গায় যাতে সময়মত জ্বালানি পেঁৗছানো যায়। জানা যায়, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। তারা চাচ্ছে জ্বালানি তেলের ওপর থেকে ভর্তুকি পুরোপুরি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার। এ কারণে গত বছর চারবার তেলের দাম বাড়ানো হয়। সবশেষ গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর জ্বালানি তেল লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে বর্তমানে ডিজেল ৬১ টাকা, কেরোসিন ৬১, পেট্রল ৯১, অকটেন ৯৪ ও ফার্নেস অয়েল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত ২৯ ডিসেম্বর তেলের দাম বাড়ানোর প্রাক্কালে বিপিসি বলেছে, লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়ানোর পরও চলতি অর্থবছরে এ খাতে সরকারকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। কিন্তু হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই ঊর্ধ্বমুখীতার কারণে ভর্তুকির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে সাধারণত ডিজেল, কেরোসিন ও ফার্নেস অয়েলের ওপর। এই তিন ধরনের জ্বালানির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রল বিক্রি থেকে বিপিসি কিছুটা মুনাফা করে। বিমানের জ্বালানিতেও কিছুটা মুনাফা হচ্ছে। এসব জ্বালানি অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ব্যক্তিরা ব্যবহার করেন বলে এ ক্ষেত্রে লাভ করার নীতি নিয়েছে সরকার। সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হলে কৃষক এবং গরিব মানুষের ওপর বেশি চাপ পড়বে। কারণ গ্রামে বসবাসরত গরিব মানুষ কৃষি সেচ কাজে ডিজেল ও কেরোসিন বেশি ব্যবহার করেন। প্রতি লিটারে ডিজেলের দাম পাঁচ টাকা বাড়লে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় ৩৫০ কোটি টাকা। আর কোরোসিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণকে বাড়তি গুনতে হয় অন্তত ৩১৬ কোটি টাকা।
|
| |
|
| |