অবৈধ ভিওআইপি অনুসন্ধানের জন্য তথ্য চেয়ে এবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৩০ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে বিটিআরসির কাছে বৈদেশিক কলের তথ্য চেয়েছে দুদক। জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল পাঠানো অবৈধ ভিওআইপি অনুসন্ধানে দুদক তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায় ছয় সেলফোন অপারেটরকে। দুদকের পাঠানো চিঠিতে এসব তথ্য ২৬ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে বলা হয়। বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরও দুটি চিঠি পাঠায় দুদক। এ ছাড়া বিটিসিএলের কম্পিউটার সেন্টারের সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও বৈদেশিক টেলিযোগাযোগ অঞ্চলের প্রধান বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয় দুদক থেকে। তবে এসব চিঠিতে জানতে চাওয়া তথ্য সরবরাহ না করায় দুদক এবার বিটিআরসি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলো। এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার মো. বদিউজ্জামান বণিক বার্তাকে জানান, অবৈধ ভিওআইপি অনুসন্ধানে দুদক কাজ করছে। অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় বেশকিছু তথ্য চেয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে দুদকের পাঠানো চিঠি এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুদকের পাঠানো চিঠি এখনো পাইনি। পেলে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।’ বিটিআরসির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈদেশিক টেলিযোগাযোগ অঞ্চলের আওতায় মহাখালীর আইটিএক্স ও মগবাজারের আইটিএক্সের সিডিআর ডিভাইস অকার্যকর রেখে বৈদেশিক কলের ডাটা সিডিআরে ধারণ করা হয় না। আগের সিডিআরও খোয়া যায়। বিটিসিএলের এসটিএম ও ই-১ অবৈধভাবে ব্যবহার করে ভিওআইপির মাধ্যমে বৈদেশিক কল টারমিনেট করে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। বৈদেশিক ক্যারিয়ার নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে বিটিসিএলের স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর, লোকাল এজেন্টের মাধ্যমে বৈদেশিক ক্যারিয়ার কর্তৃক বিটিসিএলের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং বৈদেশিক ক্যারিয়ারের শত শত কোটি টাকা বকেয়া থাকার পরও বিশেষ কোনো পদক্ষেপ না নেয়াসহ ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে চিঠিতে। চিঠিতে ছয় সেলফোন অপারেটর ও বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিও জুড়ে দেয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য পাওয়া ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে জানান দুদকের একাধিক কর্মকর্তা।