[ ] 2012-05-13 |
|
|
 |
|
চট্টগ্রাম নগরের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে আবাসন ব্যবসা |
 |
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাইরে এবং এর প্রান্তিক এলাকায় সম্প্রসারিত হচ্ছে আবাসন ব্যবসা। স্থানীয় ডেভেলপাররা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এতে ক্রেতারা অপেক্ষাকৃত কম দামে ফ্ল্যাট কিনতে পারবে বলে আশা করছে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো। স্থানীয় ডেভেলপাররা জানান, গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামে মূল শহরে জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। জমির বিনিময়ে এর মালিকরা এখন আরও বেশি ফ্ল্যাট দাবি করছেন। জানা যায়, উত্তর খুলশী এলাকায় দুই বছর আগে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাট ছয় থেকে সাত হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। নগরীর এ অভিজাত এলাকায় এখন প্রতি বর্গফুটের দাম ১৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ খুলশীতে প্রতি বর্গফুট সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন এর দাম সাত হাজার টাকার ওপর। নাসিরাবাদ হাউজিং এলাকায় প্রতি বর্গফুট বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। একইভাবে ওআর নিজাম ও পাঁচলাইশ এলাকায় প্রতি বর্গফুটের দাম ১০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে রিহ্যাব চট্টগ্রাম জোনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও এপিক প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এসএম আবু সুফিয়ান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে শহরের ভেতরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ব্যয় অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। বর্তমানে বড় বড় কোম্পানিগুলোকেও মূল শহরের বাইরে আবাসন ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটাতে হচ্ছে। ফলে কম দামে ফ্ল্যাট বিক্রি করা যাবে। উচ্চবিত্ত ছাড়াও মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতাদের সামনে অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া নগরায়ন সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো এখন ফতেয়াবাদ, বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন, হাটহাজারী, বালুচরা, শেরশাহ, বাদুরতলা, সিটি গেইট, আনোয়ারা, রাউজান প্রভৃতি এলাকায় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। নির্মাণ ব্যয় কম হওয়ায় এসব এলাকায় ২০ লাখ টাকার মধ্যেও একটি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে ক্রেতাদের। বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ৩০০ অ্যাপার্টমেন্ট বিশিষ্ট একটি ১৪ তলা ভবন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে নগরীর শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্যানমার প্রপার্টিজ লিমিটেড। হাটহাজারী, রাউজান, পতেঙ্গা প্রভৃতি এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের উদ্দেশে জমি কিনেছে স্যানমার। প্রতিষ্ঠানটির বিপণন ব্যবস্থাপক সিরাজুল হক উজ্জ্বল বলেন, ‘শহরের ভেতর ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে এখন কোটি টাকার বেশি লাগে। একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর ক্রেতা ছাড়া অন্য কারও পক্ষে এসব ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয়।’ অক্সিজেন, আতুরার ডিপো প্রভৃতি এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের উদ্দেশে চাহিদামতো জমি খুজছে নগরীর আরেক শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ইকুইটি প্রপার্টিজ। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থাপক এসএম জহিরুল আলম জুয়েল বলেন, ‘শহরের বাইরে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। আর এ জন্য চাহিদামতো ভালো জায়গার খোঁজ নেয়া শুরু করা হয়েছে। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সিপিডিএলর মহাব্যবস্থাপক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শহরের আশপাশে এমনকি গ্রামাঞ্চল বলে পরিচিত এলাকাগুলোয় ব্যবসা বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শহরের বাইরে ভালোমানের আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক বিস্তৃতিতে ক্রেতাদের এখন সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটবে। মানুষ এখন কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে শহরের কাছাকাছি যোগাযোগব্যবস্থা ভালো রয়েছে এমন এলাকায় বাস করতে পছন্দ করছে।’ নগরীর মনছুরাবাদ এলাকার বাসিন্দা জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সাধ থাকলেও তো আর কোটি টাকা খরচ করে নগরীর ভেতরে অ্যাপার্টমেন্ট কেনা সম্ভব নয়। মূল শহরের বাইরে ভালোমানের আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্প গ্রহণ করায় এখন কম দামে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব হবে।’ |
| |
|
| |