[ ] 2012-05-17 |
|
|
 |
|
মেডিক্যাল চেকআপ দরকারি |
 |
তামিম আব্দুল্লাহ :
প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর_কথাটা সবারই কমবেশি জানা। মানে হলো চিকিৎসা করানোর চেয়ে প্রতিরোধ করা ভালো। ভোগান্তি, সময় এবং খরচ_সব অর্থেই। ঠিক সময়ে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে রোগটি হয়তো এমন পর্যায়ে চলে যায় যে ডাক্তারেরও তেমন কিছু করার থাকে না। জনস্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব হলো প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যকে সুরক্ষা দেওয়া। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থানের ময়লা নিষ্কাশন। মশাসহ অন্যান্য কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বও তাদের। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ইত্যাদির মান, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে রাখার কাজটিও তাদের। আবার তাদের পরিচালিত সার্ভেল্যান্স প্রোগ্রামের (গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের) মাধ্যমে নানা ধরনের রোগের প্রদুর্ভাব সম্পর্কে জনগণ আগেই সজাগ হতে পারে। কিছু প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থার জন্য মেডিক্যাল এক্সপার্টদের কাছে যেতে হয়; যেমন_ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে দেহে প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করে। ভ্যাকসিনের কারণেই গুটিবসন্ত নির্মূল হয়েছে, পোলিও নির্মূল হওয়ার পথে, ফুসফুসের যক্ষ্মার হার কমেছে বহুলাংশে। এ ছাড়া ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশির মতো জীবননাশকারী রোগও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তবে সরকারি সেবা আর ডাক্তারদের ওপরই কেবল এগুলো নির্ভর করে না। রোগ প্রতিরোধের বড় বিষয়টা আপনার হাতেই। এ জন্য প্রথমে দরকার নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ করানো। এতে ডাক্তাররা প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করতে পারবেন। রোগটি মারাত্মক হওয়ার আগেই চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হবে। ধরা যাক, নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ করাতে গিয়ে জানা গেল, রক্তে সুগারের পরিমাণ একটু বাড়তি। ডাক্তার আপনাকে ডায়াবেটিস বিষয়ে সতর্ক থাকার উপায় বলে দেবেন। কিন্তু রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়তি থাকার বিষয়টি যদি অজানাই থেকে যায় তাহলে ডায়াবেটিসে তো আক্রান্ত হবেনই, সঙ্গে ডায়াবেটিসজনিত কিডনি ও চোখের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যেও পড়ে যাবেন। গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবনের সংযোগসূত্র হলো ব্যালান্সড ডায়েট, ভারসাম্যপূর্ণ ওজন, নিয়মিত ব্যায়াম, নিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপন, তামাক ও অ্যালকোহল বর্জন করা। সাধারণ এই কয়েকটি বিষয় যাঁরা মানেন না তাঁরা হৃদরোগ, ক্যান্সার, এইডস, হেপাটাইটিসসহ ভয়ংকর নানা রোগের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। দেশের বেসরকারী বেশ কিছু হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুরো শরীর চেক-আপের বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। যেসব পরীক্ষা করা হয় তার মধ্যে রয়েছে : ১. হেমোগ্রাম ও ইএসআর ২. ব্লাড সুগার ৩. ইউরিন সুগার ৪. HbA1c ৫. ইউরিন মাইক্রো অ্যালবুমিন ৬. লিপিড প্রোফাইল ৭. লিভার ফাংশন টেস্ট ৮. রেনাল ফাংশন টেস্ট ৯. সেরাম পি ১০. সেরাম সিএ ১১. পিএসএ ১২. ইউরিন রুটিন এক্সাম ১৩. স্টুল রুটিন এক্সাম ১৪. ব্লাড গ্রুপিং ও আরএইচ টাইপিং ১৫. চেস্ট এক্স-রে ১৬. আল্ট্রাসনোগ্রাফি ১৭. ইসিজি ১৮. ইকোকার্ডিওগ্রাম ১৯. ট্রেডমিল টেস্ট ২০. স্পাইরোমেট্রি ২১. থাইরয়েড এসএইচ ২২. FT4
এসব টেস্টের পাশাপাশি ডায়েট কাউন্সেলিং এবং কনসালটেশনও দেওয়া হয়। বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই মেডিক্যাল চেক-আপের বিশেষ প্যাকেজ রয়েছে। পুরুষ ও নারীর পাশাপাশি শিশুদের জন্যও রয়েছে প্যাকেজ। এসব চেক-আপ করাতে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। শিশুদের জন্য খরচ কিছুটা কম পড়ে। এসব টেস্টের ফলাফল থেকে শরীরে রোগের পূর্বাভাস ফুটে ওঠে। তবে সব টেস্ট আপনার করার দরকার নাও হতে পারে। কেউ চাইলে সুনির্দিষ্ট চেক-আপও করাতে পারেন। যেমন_ডায়াবেটিক চেক-আপ, জয়েন্ট পেইন ও আর্থ্রাইটিস চেক-আপ, লিভার স্ক্রিনিং ইত্যাদি। সাধারণভাবে বছরে অন্তত একবার একজন এমবিবিএস ডাক্তার ও জেনারেল ডেন্টিস্টের তত্ত্বাবধানে আপনার প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে টেস্টে খুব বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে বাড়তি টেস্টও করতে দিতে পারেন।
পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সাঈদা ফাতেমা |
| |
|
| |
|
|
|
|
|
|
Today's Other News
|
| Related Stories |
|
|
 |
|
|