[ ] 2012-05-23 |
|
|
 |
|
নাক ডাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকি |
 |
ঘুমের মধ্যে যদি আপনার নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, তাহলে আপনাকে এখনই এর চিকিৎসা করানো উচিত। কারণ বছরের পর বছর ধরে যে সমস্যাটি আপনার কাছে কখনো 'রোগ' বলেই মনে হয়নি, সেই 'সাময়িক সমস্যা'টি কিন্তু আপনার শরীরে মরণব্যাধি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। সঙ্গে এটাও মনে রাখুন, 'রাত্রিকালীন একটু-আধটু সমস্যা' বলে মনে হওয়া এই নাক ডাকার ব্যাপারটি আসলে অনেক বড় একটি রোগ এবং কমপক্ষে আরো চারটি মারাত্মক রোগের সঙ্গে এর সহাবস্থান। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাছে অনেক আগে থেকেই এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, মানুষ নাক ডাকে 'স্লিপ অ্যাপনিয়া' নামের একটি রোগের কারণে। এই 'স্লিপ অ্যাপনিয়া' হলো ঘুমন্ত অবস্থায় রক্তে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস-প্রক্রিয়ার সাময়িক বাধা। এর কারণে নাক ডাকার পাশাপাশি মানুষের শারীরিক দুর্বলতা, মুটিয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এ অবস্থায় সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের পৃথক দুটি গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণে কেবল উল্লিখিত রোগগুলোই নয়, মরণব্যাধি ক্যান্সারও হতে পারে। দুই দেশের গবেষকদের মতে, ঘুমের মধ্যে কোনো কারণে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না বলে মানুষের রক্ত-ধমনিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। শেষে এটাই শরীরে ক্যান্সার টিস্যু তৈরির কারণ হতে পারে। ফলে নাক ডাকে না এমন ব্যক্তি তুলনায় নাক ডাকা ব্যক্তির ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি পাঁচ গুণ বেশি। স্পেনের গবেষকরা কয়েক হাজার 'ঘুমের রোগীর' ওপর তাদের গবেষণাটি চালান। তাতে দেখা গেছে, যারা মারাত্মক স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন, তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ লোকের শরীরেই যেকোনো ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষকরা দেড় হাজার ঘুমের রোগীর ওপর তাদের গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের বিজ্ঞানী ড. জ্যাভিয়ার নিয়েতোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। তাতে দেখা গেছে, ঘুমজনিত কোনো রোগ নেই এমন ব্যক্তির চেয়ে নাক ডাকা ব্যক্তির ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে পাঁচ গুণ বেশি। তবে দুটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এই 'স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে সুনির্দিষ্ট ধরনের কোনো ক্যান্সার নয়, যেকোনো ধরনের ক্যান্সার হতে পারে। দুটি দলের গবেষকরাই এটা উল্লেখ করেছেন যে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সঙ্গে ক্যান্সার হওয়ার প্রমাণ তাঁরা গবেষণায় পেয়েছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এর প্রমাণ পেতে আরো সময় লাগবে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন। |
| |
|
| |