বাংলাদেশের বিদ্যুত্ খাতে ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান
বাংলাদেশের বিদ্যুত্ খাতে জাপানের উদ্যোক্তারা ৭০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এ ব্যাপারে শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাপানের একটি চুক্তি হবে। পরে এ বিনিয়োগ আরও ৩০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৭০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে। বাংলাদেশে সফররত জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি ফুমিটাকা মাসিদা গতকাল শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনসুর আলী সিকদার, জেবিআইসি’র সিঙ্গাপুর অফিসের প্রতিনিধি সিন তানিমুরাসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশের শিল্প খাতে জেবিআইসি’র বিনিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার আধুনিকায়ন, জাপানি হাইটেক শিল্প-কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর, কয়লা এবং গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে বিনিয়োগসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। বৈঠকে ফুমিটাকা মাসিদা বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে জেবিআইসি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়ন, ব্যাংক ও আর্থিক নীতিমালা সংস্কার, ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালার (মাইক্রো-ইকোনমিক পলিসি) উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান। এ সময় ফুমিটাকা মাসিদা বাংলাদেশের শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুত্ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরামর্শ দেন। শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে জেবিআইসি’র প্রতিনিধিকে অবহিত করেন। দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সারসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদানের ফলে বাংলাদেশ কৃষি উত্পাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। উন্নয়ন সহযোগীদের চাপ থাকার পরও সরকার জাতীয় স্বার্থে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রত্যাহার করেনি। তিনি জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের সার কারখানার আধুনিকায়নে জাপানি বিনিয়োগ কামনা করেন।