পল্লী বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে রামগঞ্জ-সোনাইমুড়ি সড়ক অবরোধ করেছে উপজেলার আলীপুর, দরবেশপুর, হানুবাইশ, কচুয়া, পশ্চিম শোশালিয়ার অধিবাসীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুতের দাবিতে সড়কে গাছ ফেলে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে তারা। ফলে রামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এশিয়া পরিবহন, আলবারাকা, চট্টগ্রামের বলাকা পরিবহন, চৌমুহনী থেকে নোয়াখালীগামী জননী পরিবহনসহ দেড় শতাধিক যানবাহন রাস্তার উভয় পার্শ্বে আটকা পড়ে। এসময় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন। এসময় তারা বার বার বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধানের কথা ক্ষুব্ধ জনতাকে জানিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলে জনতা স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আপত্তিকর শ্লোগান দিতে থাকে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মোবাইলে পল্লী বিদ্যুতের লক্ষ্মীপুর জিএম শিবু লাল বসু বৃহস্পতিবারের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে জনতা সাময়িকভাবে শান্ত হলেও তারা জানান, যদি ঘোষিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে আগামী রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য উক্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়াসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া সাব ষ্টেশনে স্থানীয় এলাকাবাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও সেখানে অবস্থানরত বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে রামগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীরা জানান, গত ১৫ দিনে আমরা কয়েকঘন্টাও বিদ্যুত্ পাইনি। মোবাইলে চার্জ দেয়ার মতো বিদ্যুত্ও তারা আমাদের দিচ্ছে না। একবার বিদ্যুত্ গেলে ৪/৫ ঘন্টার মধ্যে আর আসে না। কিছুক্ষণ পরে আসলেও তাও কিছু সময়ের জন্য।
তার উপর থাকে লো-ভোল্টেজ সমস্যা, ফলে কম্পিউটার ও ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা সম্ভব হয় না। স্থানীয় গ্রামবাসীসহ রামগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার ধরণা দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, পৌরসভার ভিতরের অধিকাংশ গ্রাহকের মিটার, ক্যাবল নিজেদের হওয়ার পরও ডিমান্ড চার্জ, মিটার চার্জ, সার্ভিস চার্জ নামে প্রতিমাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষের দেয়া সময়ে বিল পরিশোধ না করায় জরিমানা দিতে হয়। অথচ বিদ্যুত্ থাকে না বললেই চলে, এর থেকে নিস্তার পাওয়া দরকার। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলা সদর থেকে ৮/১০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম লক্ষ্মীধরপাড়া, পানিয়ালা, পানপাড়া, ভোলাকোট, বিষ্ণুপুর, ভাটরা, কমাররোড, দাসপাড়া, দরবেশপুর, হানুবাইশ, চন্ডিপুর, কাঞ্চনপুরসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুত্ সমস্যা আরো প্রকট। পল্লী বিদ্যুতের এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রচণ্ড গরমে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।