[ ] 2012-05-25 |
|
|
 |
|
বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসনে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালুর তাগিদ |
 |
বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসনে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত করে দ্রুত চালু করার তাগিদ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় রোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির ৩৬তম সভায় এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য মো. ইসরাফিল আলম, ওমর ফারুক চৌধুরী এবং শেখ ফজলে নূর তাপস অংশ নেন। এ সময় বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সাময়িক গ্যাস সঙ্কটের কারণে প্রকৃত উৎপাদনে ঘাটতি হচ্ছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কমিটির সদস্যরা এজন্য বন্ধ হয়ে থাকা পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত করে দ্রুত চালু করার সুপারিশ করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৭ মেগাওয়াট। গত সাড়ে ৩ বছরে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে। তবুও সঙ্কট কাটছে না। তিনি বলেন, রাতারাতি বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যাবে না। তবে সরকার আন্তরিক রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট হলে সঙ্কট থাকবে না জানিয়ে সভাপতি বলেন, গত অর্থবছরে বাজেটে বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। আমরা আশা করছি আগামী বাজেটেও এ বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। কুইক রেন্টালের আর প্রয়োজন নেই জানিয়ে সুবিদ আলী বলেন, এ দেশে কুইক রেন্টালের প্রয়োজন ছিল। সংসদীয় কমিটি প্রথম থেকেই এর পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়েছে। কুইক রেন্টাল থেকে আমরা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পেয়েছি। এটা না পেলে পরিস্থিতি কী হতো, ভাবা যায় না। তবে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নে সমস্যা ছিল। এ পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ২৪ লাখ গ্রাহককে নতুন সংযোগ দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ দিয়েছে সাড়ে ১৫ লাখ সংযোগ। তবে এসব সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক কিছুটা বৈষম্য হয়েছে বলে মনে করছে কমিটি। তাই নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে সমতার নীতি মেনে চলার সুপারিশ করেছে কমিটি। এদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সভায় বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণের পাশাপাশি খরচের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পিডিবিকে অধিক মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। জনগণের ভোগান্তি লাঘব করতে দ্রুত বিদ্যুৎলাইন সমপ্রসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও সুপারিশ করে কমিটি। এ সময় আরইবির পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়, এরই মধ্যে ২০ হাজার কি. মি. লাইন সমপ্রসারণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানায়, নিজস্ব উৎস থেকে নিজেদের কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী নিয়োগ করে পরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তুলনামূলকভাবে অতি স্বল্প খরচে চালু করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে এজন্য সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং একই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে অন্যান্য কেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় মেরামত করতে অনুপ্রাণিত করা হয়। |
| |
|
| |