স্পাইসি কারী নিয়ে গবেষণা হলুদের কারকিউমিন রোধ করে ব্যাকটেরিয়া ক্যান্সার কোষ
ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম
এতদিন ধরে আমরা শুনে আসছিলাম স্পাইসি বা মসলাযুক্ত খাবার বা কারী স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বাড়ায় এসিডিটি ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে লাভ-ক্ষতি যাইহোক স্পাইসি ফুডের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে বিদেশিদেরও। সম্প্রতি মার্কিন ও ডেনিস বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন স্পাইসি কারী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে রোগ-জীবাণু ধ্বংসে সাহায্য করে। অবশ্য উপমহাদেশের সমৃদ্ধ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও আড়াই হাজার বছর ধরে নানা মসলা স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহূত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন হলুদের মধ্যে কারকিউমিন নামের এক ধরনের যৌগ পদার্থ আছে যা শরীরে ‘ক্যাম্প’ নামের এক বিশেষ ধরনের প্রোটিনের মাত্রা বাড়ায়। আর এই বিশেষ প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাংগাসের মত জীবাণুকে ধ্বংস করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হলুদের এই কারকিউমিন শরীরে জীবাণু আক্রমণের প্রাথমিক ধাপেই তাদের প্রতিরোধ করতে পারে। কর্নভালিসের মিনাস পাওলিং ইনস্টিটিউটের বায়োকেমিষ্ট্রি ও বায়োফিজিক্স-এর সহযোগী অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান গমব্যার্ট উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপূর্ব অঞ্চলের দেশসমূহে স্পাইসি ফুডে ব্যবহূত হলুদের কারকিউমিন-এর জীবাণু প্রতিরোধী অসাধারণ ক্ষমতায় বিজ্ঞানীরা হয়তবা এখন ওষুধ প্রস্তুতিতে এটির ব্যবহারে উদ্যোগী হবেন। জার্নাল অব নিউট্রিশনাল বায়োকেমিষ্ট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয় কারকিউমিন মানব কোষে রোগ প্রতিরোধী প্রোটিন, ‘ক্যাম্প’ স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়াতে পারে, যা ল্যাবরেটরী পরীক্ষায় পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, হলুদের কারকিউমিন ঘাতক ব্যাধি যক্ষ্মার জীবাণু পর্যন্ত প্রতিরোধ এবং শরীরে ক্ষত থেকে ইনফেকশন বা সেপসিস পর্যন্ত প্রতিরোধ করতে পারে।
এছাড়া চলতি মে মাসের প্রথম দিকে ইংল্যান্ডের গবেষক কারকিউমিন এর ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রথম হিউম্যান ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করেন। বৃটিশ বিশেষজ্ঞদের অভিমত ক্যান্সার চিকিত্সার কেমোথেরাপির সময় পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া কমাতেও কারকিউমিন সহায়ক হতে পারে। ইংল্যান্ডের লেইস্টার ইউনিভার্সিটি-এর অধ্যাপক উইল স্টুয়ার্টের অভিমত: তারা গবেষণায় দেখেছেন কারকিউমিন-এর ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার অন্তত: শতাধিক প্রক্রিয়া রয়েছে। বিশেষ করে কোলন ক্যান্সার কোষের ক্ষেত্রে কারকিউমিনের রয়েছে অসাধারণ ক্ষমতা। হলুদের উপাদান কারকিউমিনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষেত্রে এক যাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে সত্যিই এখন এমনটি ভাবছেন বিজ্ঞানীরা।