[ ] 2012-05-28 |
|
|
 |
|
বিদ্যুতে নতুন বৈষম্য |
 |
বেশি দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্, আজ দাম ঘোষণা
আবার তৈরি হচ্ছে বিদ্যুতের বৈষম্য। কিছু গ্রাহকের জন্য সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা বেশি দাম দিতে পারবেন তারাই লোডশেডিংহীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ পাবেন। আপাতত শুধু শিল্প গ্রাহকদের এই সুবিধা দেয়া হবে। আজ সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাম ঘোষণা করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ধার্য করা বর্ধিত দাম শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদেরই দিতে হবে। কারণ অতিরিক্ত দামে বিদ্যুত্ ব্যবহারের ফলে পণ্যের উত্পাদন খরচ বাড়বে। আর শিল্প মালিক তখন পণ্যের দাম বাড়াবে।
বর্তমানে শহর ও গ্রামের বিদ্যুত্ গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধে বৈষম্য আছে। গ্রামের বিদ্যুত্ গ্রাহকরা শহরের গ্রাহকের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুত্ কেনে। বারবার এ বৈষম্য দূর করার কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। প্রত্যেকটি পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জন্য আলাদা বিদ্যুত্ মূল্য রয়েছে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিগুলোতে আবাসিক গ্রাহকদের বিভিন্ন ধাপে দুই টাকা ৯০ পয়সা থেকে শুরু করে আট টাকা ৮৩ পয়সা পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধার্য করা আছে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে এ দাম দুই টাকা ৮৭ পয়সা থেকে সাত টাকা ৪৩ পয়সা।
বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সম্প্রতি বাড়তি দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ বিক্রির প্রস্তাব দেয় বিইআরসির কাছে। এই শ্রেণীর গ্রাহককে ‘কিউ’ শ্রেণীর গ্রাহক বলা হচ্ছে। কিউ শ্রেণীর গ্রাহককে বিভিন্ন ভোল্টেজ পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে। কিউ শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্য পিডিবি যে দাম প্রস্তাব করেছে তাহলো ২৩০ কেভিতে সমান হার ১৬ টাকা ২৩ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ১৫ টাকা ২৩ পয়সা এবং পিক সময়ে ১৯ টাকা ২৩ পয়সা। ১৩২ কেভিতে সমান হার ১৬ টাকা ৭৩ পয়সা, অফ পিক সময়ে ১৫ টাকা ৭৩ পয়সা এবং পিক সময়ে ১৯ টাকা ৭৩ পয়সা। ৩৩ কেভিতে সমান হার ১৭ টাকা ৫২ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ১৬ টাকা ৫২ পয়সা এবং পিক সময়ে ২০ টাকা ৫২ পয়সা। ১১ কেভিতে সমান ১৮ টাকা ১৩ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ১৭ টাকা ১৩ পয়সা এবং পিক সময়ে ২১ টাকা ১৩ পয়সা। এছাড়া আবাসিকে প্রতি ইউনিট ১৩ টাকা ১৫ পয়সা এবং অনাবাসিকে ১৯ টাকা ১৫ পয়সা থেকে ২২ টাকা ১৫ পয়সা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিইআরসি সূত্র জানায়, আবাসিক ও অনাবাসিক গ্রাহকদের এই সুবিধা আপাতত দেয়া হবে না। এখন শুধু শিল্প গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবে।
পিডিবি বলছে, তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র বর্তমানে অর্থের অভাবে পুরোপুরি চালানো যাচ্ছে না। আটটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালানো গেলে কমপক্ষে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ‘কিউ’ শ্রেণীভুক্ত গ্রাহককে অতিরিক্ত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ থেকে মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুত্ সরবরাহ করা সম্ভব। এতে সামগ্রিক লোডশেডিংও কিছুটা কমবে।
উচ্চ দামের বিদ্যুত্ নিলে সে স্বাভাবিক মূল্যের বিদ্যুতের কোনো সংযোগ রাখতে পারবে না।
পিডিবির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ‘বিদ্যুতের ট্যারিফ আবেদন মূল্যায়ন কমিটি’ ১০টি সুপারিশ করেছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আটটি ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে ৭০ শতাংশ প্লান্ট ফ্যাক্টরে অতিরিক্ত ৭২ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বা ৭৪ কোটি ৮৮ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুত্ কিউ শ্রেণীকে দেয়া যেতে পারে। নির্ধারিত আটটি কেন্দ্রের বিদ্যুত্ উত্পাদন খরচ গড়ে ১৫ টাকা ৬০ পয়সা ধরা যেতে পারে। এই দামের সাথে হুইলিং চার্জ, ন্যূনতম চার্জ, ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ নেয়া যেতে পারে।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের ভুলের দায় জনগণের উপর পড়ছে। দাম বাড়ার কারণ ছিল না তবু বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তাছাড়া বেশি দামের বিদ্যুত্ যদি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নেয় তখন তার উত্পাদিত পণ্যের দাম বাড়বে। আর সেই বাড়তি দাম দিতে হবে সাধারণ জনগণকে। এরফলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আমদানী করা জিনিসের বাজারজাত সহজ হবে। তাতে করে দেশীয় শিল্প ঝুঁকিতে পড়বে। |
| |
|
| |
|
|
|
|
|
|
Today's Other News
|
| Related Stories |
|
|
 |
|
|