[ ] 2012-05-28 |
|
|
 |
|
বিমান চলাচল বন্ধে মাফিয়া চক্রের হাত রয়েছে |
 |
সিলেট-লন্ডন-সিলেট রুটে
আকাশ চৌধুরী, সিলেট বাংলাদেশ বিমানের সিলেট-লন্ডন-সিলেট রুটে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল বন্ধের পেছনে মাফিয়াচক্রের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের বিশেষ স্বার্থে ওই চক্র ক্ষুব্ধ করে তুলছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের মানুষকে। ইতোমধ্যে আবার এ ফ্লাইট চালুর দাবিতে একজন প্রবাসী হাইকোর্টে রিট আবেদনও করেছেন। এরপর থেকে সিলেটে নানা আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, এ রুটে সরাসরি বিমান চালু হওয়ার কোন প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হয়নি এবং এ ধরনের কোন নির্দেশনা তাদের কাছে নেই। তবে এক সময়কার প্রবাসী নেতা বর্তমান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ রুটে ফ্লাইট চলাচল করবে। সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যে প্রায় ২০ লাখ প্রবাসী বসবাস করছেন। এদের মধ্যে শতকরা ৯৯ ভাগই সিলেটি। এসব প্রবাসীদের শ' শ', কোটি টাকা প্রতি বছর সরকারকে রাজস্ব দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তাদের সব সময় দাবি থাকে, দেশের মাটিতে এসে অন্তত কয়েকদিন বেরিয়ে যাতে নিরাপদে ফিরে যেতে পারেন। এ জন্য তারা বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধের বিষয়টিকে অনেক আগে থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রবাসী হয়রানি বন্ধ হয়নি। এতে করে তাদের ঢাকায় নেমে একদিকে বিমানবন্দরে হয়রানির পাশাপাশি ফের বিমান বদল করে আবারও অভ্যন্তরীণ বিমানে সিলেট আসতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ সড়কপথেও সিলেট আসছেন। এতে করে তাদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। প্রবাসীদের অভিযোগ, প্রায় ২০ লাখ যুক্তরাজ্য প্রবাসীর দাবিকে উপেক্ষা করে কতিপয় সিলেটবিদ্বেষী কুচক্রীদের কারণে কুয়াশার অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে শতভাগ যাত্রী বহনে সফল বিমানকে ক্ষতির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সিলেটবিদ্বেষী একটি মাফিয়া চক্র সিলেট-লন্ডন-সিলেট বিমান বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিমান বন্ধের পরই যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই দেশে এসে আবদুর রহিম নামের একজন প্রবাসী এ বিমান চালুর দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন। সূত্র জানায়, একটি মাফিয়া চক্রের ইঙ্গিতেই সিলেট রুটে সরাসরি লন্ডনের ফ্লাইট অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। কারণ এ ফ্লাইট চালু থাকলে সরকারের টাকা লুটেপুটে খেতে পারবে না ওই চক্র। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সিলেটের যাত্রীদের সরকারি খরচে ঢাকার হোটেলে রাখতে হচ্ছে। সেখান থেকে হোটেল মালিকরা মাসে মাসে মোটা অঙ্কের বিল আদায় করে নিচ্ছেন। সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকলে তাদের হোটেল ব্যবসায় ভাটা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাতেই তা বন্ধ করে করে দেয়া হয়। তবে অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে ৭৭৭ বিমানটি সিলেট বিমানবন্দরের রানওয়েতে ওঠানামা করতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে ফুয়েলের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। কিন্তু তা মানতে নারাজ প্রবাসীরা। তাদের বক্তব্য 'বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত কীভাবে সরাসরি বিমান চালু করেছিল? সিলেট-লন্ডন-সিলেট আগের যে ফ্লাইটগুলো ১৩ মাস চলাচল করেছে, আমরা তা ফেরত চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের মহাসমাবেশে বক্তব্যে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিষয়ে সরাসরি ফ্লাইটের জন্য যে আশ্বাস দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সিলেট-ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা-সিলেট বিমান চাই না। আমরা সিলেট-লন্ডন-সিলেট বিমান চাই'। জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমান সিলেটের ব্যবস্থাপক সরওয়ার আলম বলেন, গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক এ বিমানটি বন্ধ করা হয়। এ রুটে ৭৭৭ বিমান ওঠানামা করতে সমস্যা হয়। রানওয়ে ও ফায়ার সার্ভিস সমস্যার কারণেই কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, যাত্রীরা ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ডমেস্টিক ফ্লাইটে গিয়ে ঢাকায় কানেকটিং ফ্লাইট করে লন্ডনে যান। এ জন্য তাদের ডাবল বর্ডিং কার্ড এখান থেকেই দিয়ে দেয়া হয়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নতুন করে সিলেট-লন্ডন-সিলেট রুটে সরাসরি বিমান চালু হওয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এ ধরনের কোন নির্দেশনা তাদের কাছে আসেনি। এ প্রসঙ্গে সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকতাবিস-উন্-নূর বলেন, হঠাৎ করে সিলেট-লন্ডন-সিলেট বিমান বন্ধ করে দিয়ে সিলেটবাসীর সঙ্গে উপহাস করা হচ্ছে। সিলেট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ফারুক আহমেদ মিছবাহ বলেন, বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ আয়ের একটি বড় অংশ প্রবাসীদের টাকায়। বিমান বন্ধ থাকায় প্রবাসীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। অন্তত বয়স্কদের কথা ভেবে হলেও বন্ধ বিমান চালু করা উচিত। তবে এক সময়কার প্রবাসী নেতা বর্তমান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী দাবি করেছেন আগামী তিন মাসের মধ্যে সিলেট-লন্ডন-সিলেট রুটে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল করবে। তিনি বলেন, সরকার প্রবাসীদের ব্যাপারে আন্তরিক। বর্তমানে ৭৭৭ বিমানটি ওসমানী বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া কিছুটা রিপিয়ারিংয়ের কাজ চলছে। রিপিয়ারিং কাজ শেষ করে এবং ফায়ার সার্ভিস সমস্যা সমাধানের পরই তিন মাসের মধ্যে সরাসরি সিলেট-লন্ডন-সিলেট বিমান চলাচল করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। |
| |
|
| |