[ ] 2012-05-28 |
|
|
 |
|
রিটগুলোর দ্রুত সমাধান চেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা |
 |
হামিদ বিশ্বাস:
উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত এসইসির নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে সর্বশেষ করা আরও কিছু রিট পরিচালকদের সময় না দেয়াসহ নানা কারণে পুঁজিবাজারে চলছে অস্থিরতা। একই সঙ্গে এসইসির জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে বাজারকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনতে বর্তমান রিটগুলোর দ্রুত সমাধান চেয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানানো হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত এসইসির নির্দেশনাকে বৈধ বলে গত সোমবার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি হাইকোর্টে করা এ সংক্রান্ত ৩টি রিটই খারিজ করে দেন আদালত। এতে এসইসির ওই নির্দেশনাই বহাল থাকল। পরদিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ৬৯ এর ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে ৫টি প্রতিষ্ঠানের ২৩ পরিচালক আবারও রিট দায়ের করেন। আদালত রিটগুলো গ্রহণ করে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে রিটগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি খোরশেদ আলম সরকারের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিকে উচ্চ আদালতে পরিচালকদের রিট দায়ের নিয়ে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে চারদিনই বাজারে দরপতনের ঘটনা ঘটে। রিট দায়ের করাকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে এ বিরূপ আচরণ দেখা যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ দৈনিক সংবাদকে জানান, আমি কিছু বলতে পারব না, তাদের কাছে জানেন। পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুজিব উদ্দিন আহমেদ সংবাদকে জানান, পরিচালকদের ক্ষেপানো হয়েছে। ফলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসইসির প্রজ্ঞাপন জারি করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মুহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, পরিচালকদের দায়ের করা রিটগুলোর যত দ্রুত সমাধান হবে, তত ভালো। কেননা, এতে করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করছিলেন, এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালকেরা নূ্যনতম শেয়ার ধারণের জন্য বাজার থেকে শেয়ার কিনবেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। উল্টো পরিচালকরা এর বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেন। এটা বিনিয়োগকারীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি করে, যার নেতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যায়। হাফিজ আরও বলেন, নূ্যনতম শেয়ার ধারণের জন্য ৬ মাসের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। পরিচালকরা সময় বাড়িয়ে নিতে পারতেন। এক্ষেত্রে আমরাও সময় বাড়ানোর জন্য এসইসিকে অনুরোধ করতে পারতাম। তারা সেটা না চেয়ে বরং রিট দায়ের করেন। এসব বিষয়ে বাজারে গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য এসইসিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বাজারের স্বার্থে, নিজেদের স্বার্থে ও বাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে পরিচালকদের নূ্যনতম শেয়ার ধারণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হাফিজ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, সবাই আশা করেছিল পরিচালকরা নিজেদের পদ ধরে রাখার জন্য এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী নূ্যনতম শেয়ার ধারণ করবেন। কিন্তু অনেকে ভুল বুঝে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। রিটগুলোর সমাধান হলে বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা কমে যাবে। প্রসঙ্গত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে গত বছরের ২২ নভেম্বর একটি নির্দেশনা জারি করে এসইসি। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে নিজ কোম্পানির কমপক্ষে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। তবে স্বাধীন পরিচালকরা এ নির্দেশনার আওতার বাইরে থাকবেন। নির্দেশনাটি পরিপালনের জন্য ৬ মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়, যা গত ২১ মে শেষ হয়। ওই নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন কিছুসংখ্যক কোম্পানির পরিচালক। |
| |
|
| |