সংকোচনশীল মুদ্রানীতি দিয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় : ফরাস উদ্দিন
মুদ্রাস্ফীতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করলেন সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন। তিনি বলেন, সংকোচনশীল মুদ্রানীতি গ্রহণের ফলে মুদ্রাস্ফীতি দু-এক শতাংশ কমতে পারে। বড় ধরনের কোন পরিবর্তন হবে না। বড় ধরনের সুফল পেতে হলে মুদ্রানীতির সঙ্গে রাজস্বনীতির (মনিটারি পলিসি ও ফিসকেল পলিসি) সমন্বয় করতে হবে। তারপরই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। ডেসটিনি গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিবার্হী পরিচালক এসকে সুর চৌধুরী, রাজি হাসান, উপদেষ্টা আল্লাহমাল কাজমিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। ড. আতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সব ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। মানবসম্পদ,অর্থনীতি সব ক্ষেত্রে এক দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আর তলাবিহিন ঝুড়ি নয়। কৃষি, শিল্প ও জনশক্তি রপ্তানি বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাকে ধরে রেখেছ। ড. ফরাস উদ্দিন বলেন, দেশের মোট সম্পদের ৪০ ভাগ সম্পত্তি ৫ শতাংশ মানুষের হাতে। আর সরকারকে কর দিচ্ছে এই ৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি হলেও হচ্ছে এই শ্রেণীর মানুষের। সার্বিক উন্নতি হচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকার বড় লোকের চিংড়ির ঘের উদ্ধার করে গরিব মানুষের চাষের জন্য ফিরিয়ে দিচ্ছে। এটা একটি ভালো উদ্যোগ। সরকারের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যবসায়ীরা অন্ডার ভয়েস করে কর ফাঁকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, রাজস্ব বোর্ডের সমস্ত অর্জন মস্নান হয়ে গেছে এই ইনভয়েজ ফাঁকির কাছে। উত্তরবঙ্গের কয়লা তোলা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার ব্যাপারে তিনি বলেন, সরকারের ভোটের ভয়ে কয়লা তোলা থেকে বিরত না থেকে কয়লা নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।