[ ] 2012-05-30 |
|
|
 |
|
সারাদেশে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে সাইবার ক্রাইম, বলি মেয়েরা |
 |
ফিরোজ মান্না ॥ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইবার ক্রাইম ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। মফস্বল শহরেও সাইবার ক্রাইম মরণ কামড় দিয়েছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজের মেয়েরা এই ক্রাইমের শিকার হচ্ছে। তাদের কেউ অপমান সহ্য না করতে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। আবার কেউ লেখা পড়া ছেড়ে দিয়ে ঘরে বন্দী জীবনযাপন করছে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে বখাটে তরুণরা এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। বিটিআরসি এই ক্রাইম বন্ধ করতে একটি কমিটি গঠন করলেও কোন লাভ হচ্ছে না। সাইবার ক্রাইম চলছেই। এই ক্রাইমের সর্বশেষ বলি বাগেরহাটে দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাবরিনা সুলতানা সাথী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান সম্প্রতি বলেন, ইন্টারনেটের কল্যাণে নতুন প্রজন্ম এখন এক দেশের নাগরিক নয়। তারা এখন বিশ্ব নাগরিক। বাংলাদেশের ৬ হাজার তরুণ-তরুণী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সেক্টরে কাজ করছে। দেশেও বহু তরুণ-তরুণী বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারছে সাধারণ মানুষ। এটা অত্যন্ত শুভ দিক। মধ্যপ্রাচ্যে মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশ হয়েছে ইন্টারনেটের কল্যাণে। গত তিন বছরে দেশ তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। কেউ এটাকে অন্যভাবে ব্যবহার করতে গেলেই খারাপ কিছু ঘটে যায়। প্রযুক্তিকে ভাল ও মন্দ দুইভাবেই ব্যবহার করা যায়। সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ-র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে অপরাধীরা প্রতিদিন প্রযুক্তির পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ফলে তাদের পক্ষেও সহজেই সাইবার ক্রাইমকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা, স্বর্ণ পাচারসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিএসআইআরটি) নামে এই দল সাইবার ক্রাইম শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায় ওয়েবসাইটগুলোতে এমন বিষয় শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়াই হবে এই দলের মূল কাজ। এ বছরের শুরু দিকে কমিশনের বিশেষ সভায় সিএসআইআরটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের এই দল গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সদস্য, মোবাইল ফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, পিএসটিএন, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে ও সাইবার ক্যাফের প্রতিনিধিদের এই দলে রাখা হয়েছে। মোবাইল অপারেটর ও অন্যরা এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। কতিপয় সেনাসদস্যের অভ্যুত্থান চেষ্টা নস্যাতের পরপরই সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিশেষ দল গঠন করেছে বিটিআরসি। অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী ওই সৈন্যরা ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্ররোচিত করার কাজটি করেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করে মন্তব্য করার ঘটনা ঘটে। এই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইন্টারনেট এখন মানুষের জীবনে অতি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াইম্যাক্স, হাইস্পিড তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট তো রয়েছেই। মোবাইল অপারেটররাও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। কিন্তু ইন্টারনেট নামক সেবাদানকারী এই প্রযুক্তির অন্ধকার দিকও রয়েছে। এটা কোনমতেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। নানা রকম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। যেহেতু এটা এখন ধীরে ধীরে জীবনের অংশ হিসেবে, পড়াশোনা, বন্ধুত্ব, সামাজিক সম্পর্ক, গান, সিনেমা প্রভৃতি চিত্তবিনোদনমূলক কর্মকা-ের অংশ। ইন্টারনেটের সুবিধা নিয়ে নোংরা মনের মানুষ অবশ্যই এটাকে খারাপভাবে ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট বা কম্পিউটার ভিত্তিক অপরাধগুলোকে বলা হয় সাইবার ক্রাইম। প্রচলিত সাইবার ক্রাইমের মধ্যে আছে ফ্রড কিংবা প্রতারণা, ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি, ব্ল্যাকমেইল, পর্নোগ্রাফি, হ্যারাজমেন্ট, অনলাইনের মাধ্যমে মাদক পাচার ও ব্যবসা প্রভৃতি। বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ভিত্তিক অপরাধ বেড়েই চলেছে। কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, লাতিন আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা এমনকি ভারতে ইন্টারনেট ভিত্তিক অবৈধ ও অশালীন কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাইবার ক্রাইমের জন্য শাস্তির বিধান আছে। সাইবার ক্রাইমের শতকরা ৮৫ ভাগ অশ্লীল বিষয়বস্তুসংবলিত ওয়েবসাইট (পর্নো সাইট) নির্মিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এখন দেশেও এমন অনেক সাইট তৈরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাগেরহাটে এক ছাত্রী সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। তথ্য প্রযুক্তিবিদরা বলেন, বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম মোকাবেলা করার জন্য খুব বেশি প্রস্তুত নয়। কারণ এ ধরনের ক্রাইম শনাক্ত করতে যে ধরনের যন্ত্রপাতি এবং তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল থাকা দরকার সেটা নেই। দেশে মোবাইলের মাধ্যমে অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকা- হচ্ছে। নুড ছবি তোলা হচ্ছে। পরে ছবিগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এই মাধ্যমটি প্রতারণার একটি বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুয়া আইডি খুলে ভুয়া ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে র্যাবের ওয়েবসাইট স্বনামে হ্যাক করে ২১ বছর বয়সী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া তরুণ শাহী মির্জা। কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওয়েবসাইটে সহজেই ঢুকতে পারত। পরে র্যাব সদস্যরা শাহী মির্জাকে গ্রেফতার করেছিল। সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। তবে মির্জা যা করেছিল তা হলো ‘হ্যাকিং’। তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৬৮ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে। গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রীমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার একজন দায়রা জজ বা একজন অতিরিক্ত দায়রা জজকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। অনুরূপভাবে নিযুক্ত একজন বিচারক নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল ‘সাইবার ট্রাইব্যুনাল’ নামে অভিহিত হবে। এই ধারার অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালকে পুরো বাংলাদেশের স্থানীয় অধিক্ষেত্র অথবা এক বা একাধিক দায়রা অধিক্ষেত্র প্রদান করা যেতে পারে। ট্রাইব্যুনাল তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর আইনের অধীন অপরাধের বিচার করবেন। ৭৪ ধারায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, এতদুদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের অধীন অপরাধ দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য হবে। সরকার একটি প্রজ্ঞাপন দ্বারা এক বা একাধিক সাইবার আপীল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। সাইবার আপীল ট্রাইব্যুনাল অধীন সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা দায়রা আদালত কর্তৃক ঘোষিত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনবে ও নিষ্পত্তি করবে। |
| |
|
| |
|
|
|
|
|
|
Today's Other News
|
| Related Stories |
|
|
 |
|
|