hawker.com.bd
Advertisment
১৮ মাসের \'জরুরি প্রকল্প\' শেষ হয়নি ২১ বছরেও [ ] 2012-05-30
১৮ মাসের 'জরুরি প্রকল্প' শেষ হয়নি ২১ বছরেও
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১০ টন ধারণ ক্ষমতার একটি কনটেইনার ঢাকায় নিতে গুনতে হয় ১৫ হাজার টাকা। থাকে পণ্য চুরির ঝুঁকি। সময়ও লাগে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। নৌপথে ঢাকায় একই পণ্য নিতে সময় লাগবে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা। সড়কপথের তুলনায় প্রতি কনটেইনারে খরচও কমবে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। এ জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১৮ মাসের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ১৯৯১ সালে। ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও সম্ভাবনাময় সে প্রকল্পের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। ঠিক হয়নি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াও। অথচ ট্রানজিটসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং এফবিসিসিআইও এ প্রকল্পকে ঘোষণা করেছিল 'জরুরি প্রকল্প' হিসেবে। জরুরি প্রকল্প নিয়ে এমন গড়িমসির খেসারতও দিতে হচ্ছে সরকারকে। বছরে এক লাখ ১৬ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা ধরে ১৯৯১ সালে গৃহীত এ প্রকল্পের প্রথম প্রস্তাবনায় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১১৪ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিকে এ টার্মিনালটি লিজ দেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ২০০৫ সাল পর্যন্ত থমকে
ছিল এ প্রকল্পের কাজ। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ায় ফের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় নৌ মন্ত্রণালয়। ২০০৫ সালের ২৩ মে এক চুক্তির মাধ্যমে তারা বিআইডবি্লউটিএকে ১৮ মাসে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বও দেয়। সময় ক্ষেপণের কারণে এবার প্রকল্প ব্যয় ৬৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়ায়
১৭৭ কোটি টাকা! তার পরও টনক নড়েনি মন্ত্রণালয়ের।
জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগের টেন্ডার চূড়ান্ত করতে প্রায় দুই বছর সময় নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ৮ ফেব্রুয়ারি অপারেটর হিসেবে টেন্ডারের সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দিতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠায় বন্দরের এ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটি। নৌ মন্ত্রণালয় এটি যাচাই-বাছাই করতে আবার সময় নিয়েছে চার মাস। পরে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ পাঠায় ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। ১৮ এপ্রিল ও ৩ মে মন্ত্রণালয়ের দু'দফায় পাঠানো সারসংক্ষেপেই বিভিন্ন অসঙ্গতি ও অসম্পূর্ণতা আছে বলে মন্তব্য করে তা ফেরত পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ফলে জরুরি এ প্রকল্পে অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া থমকে গেছে আবার।
বিষয়টিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেন, '৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের সারসংক্ষেপ কীভাবে লিখতে হয় তা জানেন না আমাদের আমলারা। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সারসংক্ষেপে অসঙ্গতি থাকায় পরপর দু'দফা ফেরত এসেছে পানগাঁওয়ের কনটেইনার টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাবনা। অথচ জরুরি এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও নির্দেশনা রয়েছে।'
এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই পরিচালক ও বন্দর বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এসএম নুরুল হক বলেন, 'নৌপথে কনটেইনার পরিবহনের সুযোগ তৈরি করতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তাগাদা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম বন্দরে এসে জরুরি ভিত্তিতে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়ে গেছেন। যে মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে তাদের সারসংক্ষেপ করা প্রস্তাবনায় যদি ভুলের কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দু'বার ফেরত আসে তবে এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের ব্যাপার।' একই প্রসঙ্গে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'সড়কপথের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ কম খরচে নৌপথে কনটেইনার পরিবহন করা সম্ভব। এ পথে পণ্যচুরির ঝুঁকিও অনেক কম। অথচ রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প নিয়ে গড়িমসি করছে।'
জানা গেছে, টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগের টেন্ডারে ৩৯৭ কোটি সাড়ে ৪ লাখ টাকা দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে মেসার্স এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা মেসার্স এ অ্যান্ড জে ট্রেডার্স একই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দর দিয়েছে প্রায় ১২৯৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তাই বন্দরের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ পাঠায়। তবে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ ২০ বছরের জন্য এ টার্মিনাল পরিচালনা করার প্রস্তাব দিয়েছে তা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নৌ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চায়। এ ব্যাখ্যা দিয়ে পরে পাঠানো হয় সম্পূরক প্রতিবেদনও। যার ৫ দশমিক ১ অনুচ্ছেদে প্রথম ১০ বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন দরদাতা পরের ১০ বছর কেন তুলনামূলক বেশি দর উদ্ধৃত করেছে তার ব্যাখ্যা আছে। আবার শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে ২০ বছরে কীভাবে ধাপে ধাপে অপারেটরের আয় বৃদ্ধি পাবে তার হিসাব ৫ দশমিক ২ অনুচ্ছেদে আছে বলে জানান অপারেটর নিয়োগ সংক্রান্ত টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বন্দরের সদস্য (অ্যাডমিন অ্যান্ড প্ল্যানিং) নজরুল ইসলাম। মূল্যায়ন কমিটির এসব ব্যাখ্যা উল্লেখ না করেই রহস্যজনক কারণে নৌ মন্ত্রণালয় সারসংক্ষেপ পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। ফলে তা ফেরত আসে এবং অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেয় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।
 

Technology

• আইসিটি খাতে চীনের প্রতিশ্রুত ১১শ’ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ
• যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকির দায়ে অভিযুক্ত অ্যাপল
More

Telecom

• অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ক্যামেরা ৩৬০
• আসছে 'সেইলফিশ' চালিত স্মার্টফোন
More

Entertainment

• চলচ্চিত্রে পিনা
• অপেক্ষায় রুহি
More
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• নারায়ণগঞ্জে কন্টেইনার টার্মিনাল বানাতে ভারতে টেন্ডার
• রমজানের তিন লাখ টন পণ্যের জাহাজ বন্দরে
• বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বাড়লেও রাজস্ব আদায় কম
• বেনাপোলে আমদানি বৃদ্ধি রপ্তানি বাণিজ্যে ধস
• বেনাপোল বন্দরে ধর্মঘট প্রত্যাহার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সচল
• নতুন বে টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বন্দরের
More
Related Stories
• নারায়ণগঞ্জে কনটেইনার পোর্ট করছে রূপায়ণ গ্রুপ
• কনটেইনার পরিবহনের চাপ রেলে কমেছে, বাড়ছে সড়কে
• কনটেইনার হ্যান্ডলিং
• ‘সিলড্’ শব্দটি বাদ দেওয়ায় পাল্টে গেল মূল্যায়ন পদ্ধতি!
• পানগাঁও নৌ-কনটেইনার টার্মিনাল চালু করতে বিজিএমইএর অনুরোধ
• কনটেইনার কেনার উদ্যোগে স্থায়ী কমিটির প্রশ্ন
• মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির অভিযোগ : চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি কনটেইনার আটক
• সেই ২৩ কনটেইনার নামল অঙ্গীকারনামা দিয়ে
• সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রামে কনটেইনার আসে ৫ দিনে, ঢাকায় লাগে ১ মাস
• মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি : চট্টগ্রাম বন্দরে চার কনটেইনার আটক
 
 
 
News Source
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits /Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2009-2010, Allright Reserved
free counters