[ ] 2012-06-01 |
|
|
 |
|
৮ কোম্পানির ৬৫৫কোটি টাকার আইপিও বাজারে |
 |
মনির হোসেন:
চলতি ২০১২ সালে প্রিমিয়ামসহ ৮ কোম্পানির ৬৫৫ কোটি টাকার প্রাথমিক শেয়ার (আইপিও) বাজারে এসেছে। এর মধ্যে কোম্পানির অভিহিত মূল্য ২০০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়াম ৪৫৫ কোটি টাকা। কোম্পানিগুলো হলÑ আমরা টেকনোলজি, সাবমেরিন ক্যাবল, সায়হাম কটন, জিবিবি পাওয়ার, জিএসপি ফাইন্যান্স, জিপিএইচ ইস্পাত, ইউনিক হোটেল এবং পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। তবে হাতেগোনা দু-একটি কোম্পানি ছাড়া বাকি সবই সেবা খাতের। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলো সেভাবে আসছে না। এছাড়া কোন কোন কোম্পানিকে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নেয়ার অনুমোদন দিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। অন্যদিকে এসব কোম্পানির মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি আইপিওতে আন্ডার সাবসক্রিপশন হয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করবে, ওই পরিমাণ আবেদন জমা পড়েনি। এছাড়াও আলোচ্য সময়ে কয়েকটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আইপিও বাজারে আসছে। এর সবই আন্ডার সাবসক্রিপশন হয়েছে। অর্থনীতিবিদের মতে, আইপিওতে আবেদন কম জমা পড়া ভালো লক্ষণ নয়। নতুন কোম্পানি : এসইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রথম ৫ মাসে ৮ কোম্পানির ৬৫৫ কোটি টাকার আইপিও বাজারে এসেছে। এর মধ্যে কোন কোন কোম্পানি গত বছরের শেষ সময়ে অনুমোদন পেয়ে এ বছর বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আর বাকিগুলো এ বছরে অনুমোদন পেয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑ ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ১৬৯ কোটি টাকার প্রিমিয়ামসহ ১৯৫ কোটি টাকা, আমরা টেকনোলজি ৩০ কোটি টাকা প্রিমিয়ামসহ ৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, সাবমেরিন ক্যাবল ৭৭ কোটি টাকা ৫০ লাখ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সায়হাম কটন মিল ৪৭ কোটি টাকা প্রিমিয়ামসহ ৯৫ কোটি টাকা, জিবিবি পাওয়ার ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৮২ কোটি টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৩০ কোটি প্রিমিয়ামসহ ৫০ কোটি টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ৪০ কোটি প্রিমিয়ামসহ ৬০ কোটি টাকা এবং পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১২ কোটি টাকার আইপিও বাজারে এসেছে। উৎপাদনশীল খাতের অংশগ্রহণ কম : এই ৮ কোম্পানির মধ্যে সায়হাম কটন মিল, জিবিবি পাওয়ার এবং জিপিএইচ ইস্পাত ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলো সেবা খাতের। এই তিন কোম্পানির মোট আইপিওর আকার ২৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ শিল্পায়নে ভূমিকা রাখে এ ধরনের কোম্পানির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম : বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার পরও আইপিওতে কোন কোন কোম্পানির অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিচ্ছে এসইসি। এর মধ্যে ইউনিক হোটেলের ১০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম দেয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার ৭৫ টাকায় কিনতে হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে এসইসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পায়নি তারা। আইপিওতে আবেদন কম : সাম্প্রতিক সময়ে আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমছে। কোম্পানি যে পরিমাণ শেয়ার ছাড়ছে, ওই পরিমাণ আবেদন পড়ছে না। ফলে কোম্পানিগুলো আইপিও আবেদন জমাকালীন সময়ে আগ্রাসী ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। এরপরও কাক্সিক্ষত আবেদন জমা পড়ছে না। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে আইপিওতে যে পরিমাণ শেয়ার দেয়া হবে, আবেদন জমা পড়ত তার ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি। অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য : এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের মতে আইপিওতে আন্ডার সাবসক্রিপশন কারও কাম্য নয়। তবে ভালো কোম্পানির প্রতি এখনও মানুষের আগ্রহ রয়েছে। এই আগ্রহ ধরে রাখতে সরকারি লাভজনক কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসতে হবে। তবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে উৎপাদনশীল খাতের কোম্পানি ওইভাবে আসছে না। সব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই সেবা খাতের। |
| |
|
| |