জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তেই সরকার নিয়ন্ত্রিত শিপইয়ার্ডগুলোর কর্মকাণ্ডও গতিশীল করে তোলার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর খুলনা শিপইয়ার্ডেও বর্তমানে ১৪টি জাহাজ একসঙ্গে নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌবাহিনীর পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ, তিনটি বড় ধরনে অয়েল ট্যাঙ্কার (তেলবাহী জাহাজ), একটি মৎস্য গবেষণা জাহাজ, একটি অগি্ননির্বাপক জাহাজ, একটি সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক বহনকারী জাহাজ ও দুটি পণ্যবাহী জাহাজ।
খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন বেসামরিক জাহাজ নির্মাণের পর সম্প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শুরু করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। আরও বড় জাহাজ নির্মাণের উদ্দেশে মংলা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের জয়মনিগোল এলাকায় ৪৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দাম, স্বল্প সময়ে ডেলিভারি, কারিগরি দক্ষতার দায়িত্ববোধ, গুণগত মান, গ্রাহকবান্ধব সম্পর্ক, সেবা, পেশাগত ব্যবস্থাপনা, শ্রম প্রত্যয়ন, দক্ষতা সম্পন্ন কর্মশক্তি, মানব সম্পদ উন্নয়ন ইত্যাদি মিলিয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড লি. দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।নির্মাণ শেষে প্রতি মাসেই গড়ে অন্তত পণ্যবাহী একটি জাহাজ কীর্তনখোলায় ভাসছে। বড় বড় পণ্যবাহী নৌযান ছাড়াও সমুদ্র বন্দরে বহির্নোঙরে অবস্থানরত আন্তঃদেশীয় পণ্যবাহী জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের লাইটারেজ ভ্যাসেল তৈরি করছে বরিশালের বেশ কয়েকটি শিপ বিল্ডিং ওয়ার্কশপ। কিন্তু জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে আগ্রহ না হওয়ায় বরিশাল এ শিল্পের প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছেও বলে অভিযোগ করেছেন বরিশাল চেম্বার সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু। দেশের নৌ ও সমুদ্রপথে চলাচলরত বৃহৎ যাত্রীবাহী নৌযান সুন্দরবন-৭, সুরভী-৬ ও সুরভী-৮। অপরদিকে আড়াই হাজার টন বেশ কয়েকটি লাইটারের ভেসেলও তৈরি হয়ে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের কাজ করছে। যাত্রীবাহী নৌযান কীর্তনখোলা-২, ৩২৫ ফুট দৈর্ঘর্্য ও অনুরূপ সুন্দরবন নামের অনুরূপ আরও একটি যাত্রীবাহী নৌযানের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি : জাহাজ শিল্প প্রসারের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ গড়ে তোলার যেমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তেমনি তৈরি করা হচ্ছে দক্ষ জনবল। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের জুলাই থেকে 'বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী' মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এ জন্য ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'মেরিন একাডেমী উন্নয়ন এবং মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মেরিন একাডেমীর অব্যবহৃত ৩৫ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি। মেরিন একাডেমী কর্তৃপক্ষ আশা করছেন জুলাইয়ের মধ্যে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার সব প্রক্রিয়া শেষ হবে। এর ফলে ৪৬তম ব্যাচের মেরিন ক্যাডেটদের জাতীয় বিশ্বদ্যিালয়ের পরিবর্তে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'বিএমএস' ডিগ্রির সনদ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র এ মেরিন একাডেমী ১৯৬২ সাল থেকে মেরিটাইম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্বদ্যিালয়ের অধীনে প্রতি বছর এই একাডেমী থেকে ২০০ গ্র্যাজুয়েট মেরিনার হয়ে বের হচ্ছেন।