[ ] 2012-06-02 |
|
|
 |
|
দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের পীড়া |
 |
ঈঙচউ একটি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ যা বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা (ঈযৎড়হরপ সড়ৎনরফরঃু) সৃষ্টি করে এবং মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। বহুলোক এ রোগে ভোগেন এবং কম বয়সে এ রোগে অথবা এ রোগের জটিলতায় মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে ঈঙচউ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম কারণ। লিখেছেন ডা. এ কে এম মোস্তফা হোসেনবিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে আগামী ২০১২ সাল নাগাদ ঈঙচউ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে আগামী ২০১২ সাল নাগাদ ঈঙচউ বিশ্বব্যাপী রোগের বিস্তৃতি হিসেবে পঞ্চম এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে তৃতীয় স্থান দখল করবে, তাছাড়া অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষতির কারণ হিসেবেও ঈঙচউ উল্লেখযোগ্য। ঈঙচউ রোগ আমাদের দেশের জন্যও একটি অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা। চিকিৎসক এবং রোগী উভয়ের জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং (ঈযধষষবহমরহম) বিষয়ে এবং কখনো হতাশাজনকও বটে। কারণ বেশির ভাগ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে আসেন না এবং রোগের সাময়িক উপশমের পর চিকিৎসকের উপদেশ মেনে চলেন না। বাংলাদেশে এ রোগের প্রকোপ সঠিক জানা না গেলেও সীমিত গবেষণায় দেখা যায় এটা ৬% লোক এ রোগে আক্রান্ত। ঈঙচউ কি? ঈঙচউ হলো ফুসফুসের এমন একটি রোগ যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগে। এ শ্বাসকষ্ট দিন দিন বৃদ্ধি পায় যা আর কখনো সম্পূর্ণভাবে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে না। কাদের ঈঙচউ রোগ বেশি হয়? ঈঙচউ রোগের জানা কারণগুলোর মধ্যে ধূমপান হচ্ছে প্রধানতম। সাধারণত যে যত দীর্ঘ সময় ধূমপান করবে তার ঈঙচউ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। -কর্মক্ষেত্রে জৈব-অজৈব ধূলিকণা বেশি হলে, -রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে যারা কাঠ, শুকনো খড় ইত্যাদি ব্যবহার করেন, - বায়ুদূষণ বেশি হলে, -ফুসফুসের সংক্রমণ হলে, যেমন ঘন ঘন ভাইরাস সংক্রমণ, _ যাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিম্ন এবং যারা পুষ্টিতে ভুগছেন। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি ঈঙচউ রোগে আক্রান্ত হন। তাছাড়া জন্মগতভাবে ফুসফুস ঠিকমতো গড়ে না উঠলে এবং আলফা ওয়ান এনটি ট্রপসিন (অষঢ়যধ-ড়হব ধহঃরঃৎুঢ়ংরহ) নামক এনজাইমের ঘাটতি হলেও ঈঙচউ রোগ হতে পারে। রোগের লক্ষণ : শ্বাসকষ্ট ও কাশি ঈঙচউ রোগের প্রধান লক্ষণ। শ্বাসকষ্ট সাধারণত কমবেশি সার্বক্ষণিক বিদ্যমান থাকে এবং চলাফেরায় বা কাজে-কর্মে বৃদ্ধি পায়। সঠিক চিকিৎসা না নিলে শ্বাসকষ্ট দিন দিন বাড়তে থাকে। কাশির সঙ্গে কফ (ঝঢ়ঁঃঁস) থাকতে পারে এবং কোনো কোনো সময় শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং কফের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ধূমপানের ইতিহাস থাকে এবং বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে মাটির চুলায় রান্নার ইতিহাস পাওয়া যায়। রোগ নির্ণয় : দীর্ঘদিন কফ, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং সঙ্গে ধূমপানের ইতিহাস ... রোগটি সম্ভবত ঈঙচউ। ঈঙচউ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঝঢ়রৎড়সবঃৎু পরীক্ষা করা যেতে পারে। তাছাড়া ফুসফুসের অন্য সমস্যা আছে কিনা জানার জন্য প্রাথমিকভাবে বুকের ঢ-জধু করা প্রয়োজন। ঝঢ়রৎড়সবঃৎু পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ছাড়াও রোগের তীব্রতা পরিমাপ করা যায়, যা সঠিক চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত বেশির ভাগ ঈঙচউ রোগী প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে আসেন না। তাই কার্যকর চিকিৎসার জন্য দরকার- ১. রোগের তীব্রতা নির্ণয় এবং পর্যবেক্ষণ, ২. রোগের কারণসমূহ নির্ণয় এবং সম্ভব হলে কারণসমূহ দূর করা. ৩. ঈঙচউ রোগের সঠিক ওষুধ প্রয়োগ এবং রোগীদের সঠিক পুনর্বাসন (জবযধনরষরঃধঃরড়হ) ঈঙচউ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়, কিন্তু সঠিক চিকিৎসায় রোগের লক্ষণ যেমন-শ্বাসকষ্ট, কাশি ইত্যাদি অনেক কমে যায়, রোগীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রোগ বৃদ্ধি এবং জটিলতা হ্রাস পায়। ঈঙচউ রোগীর চিকিৎসা সাধারণত ওষুধ দ্বারা এবং বিভিন্ন রকম পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত শ্বাসকষ্ট কমানোর জন্য বিভিন্ন রকম ইনহেলার ব্যবহার করা হয়, যেমন-সালবিউটামল, ইপ্রাট্রপিয়াম, করটিকোস্টরেয়ড ইত্যাদি। জীবাণু সংক্রমণ ঘটলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। রোগের তীব্রতা বেশি হলে রোগীকে অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ঙ২ দেয়ার প্রয়োজন হয়। এছাড়া রোগীকে ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোনিয়া রোগর ভ্যাকসিন দেয়া হলে ঘন ঘন রোগ বৃদ্ধি এবং জটিলতা অনেকাংশে কমে যায়। ঈঙচউ যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি (পযৎড়হরপ) রোগ এবং সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়, তাই ঈঙচউ রোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায় হলো রোগীকে তার রোগ, রোগের কারণ এবং তার পরিণতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়া। রোগ বৃদ্ধির লক্ষণ সমূহ অবহিত করা এবং কোনো সময় চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ধূমপান বর্জনে সাহায্য করা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন রকম ব্যায়াম যেমন- নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাঁটা, শ্বাস-প্রশ্বাসের বিভিন্ন ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ব্যায়ামের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ জরুরি। কারণ ঈঙচউ রোগীরা সাধারণত অপুষ্টিতে ভোগে এবং তাদের ইগও কম থাকে। ঋড়ষষড় িঁঢ় : ঈঙচউ রোগীদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঋড়ষষড় িঁঢ় করা প্রয়োজন। এতে রোগীর শারীরিক উন্নতি বা অবনতি দ্রুত শনাক্ত করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে। ঋড়ষষড় িঁঢ় এর জন্য রোগের বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা, ঝঢ়রৎড়সবঃৎু, কর্মক্ষমতা নির্ধারণ (ঊীবৎপরংব পধঢ়ধপরঃু), জীবনযাত্রার উপর শ্বাসকষ্টের প্রভাব কতটুকু তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পরিবেশে একটা কথা না বললেই নয়। তাহলো, আমাদের দেশে কিছু কিছু চিকিৎসক ঈঙচউ রোগীকে অ্যাজমা হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন। এক্ষেত্রে একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ পারেন একজন ঈঙচউ রোগীকে অনেকটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে। যথাসম্ভব দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা রোগীর জন্য একান্ত কাম্য এবং মঙ্গলজনক। পরিচালক, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা-১২১২ |
| |
|
| |