[ ] 2012-06-02 |
|
|
 |
|
‘নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই’ |
 |
কদিন আগে একটা সেঞ্চুরি করেছেন, ব্ল্যাকহিথ ক্রিকেট ক্লাবের ওয়েবসাইটে ঢুকলেই তাঁর ছবি। কেন্ট লিগে ভালোই করছেন। এরই মধ্যে দেশ থেকে পেয়েছেন সুখবর, ফিরেছেন জাতীয় দলে। ব্ল্যাকহিথ থেকেই মোহাম্মদ আশরাফুল কথা বললেন ইংল্যান্ড-জীবন আর জাতীয় দলে তাঁর ফেরা নিয়ে আবার জাতীয় দলে ডাক পেলেন, কতবার বাদ পড়লেন আর ফিরলেন, নিশ্চয়ই নিজেরও হিসেব নেই! আশরাফুল: এসব বলে আর কী হবে! তবে সত্যি বলতে, টি-টোয়েন্টি তো, এবার ডাক পাওয়ার আশা ছিল। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের আইকন ক্রিকেটার ছিলাম, মোটামুটি পারফর্মও করেছি। নির্বাচকদের কারও সঙ্গে কথা হয়েছে? আশরাফুল: আকরাম ভাইয়ের (প্রধান নির্বাচক) সঙ্গে কথা হয়েছে। আমার কাছে প্রত্যাশাটা জানালেন, আমার সম্ভাব্য ভূমিকা ব্যাখ্যা করলেন। ওপেনিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন পজিশনে আমি ব্যাটিং করতে পারি। বিপিএলে তা-ই করেছি, জাতীয় দলে নির্বাচনে এটাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জিম্বাবুয়ে সফরে সুযোগ পাওয়া মানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাবনায় আপনি ভালোমতোই আছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আপনার তো কিছু সুখস্মৃতিও আছে... আশরাফুল: ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতিয়েছিলাম বাংলাদেশকে (২৭ বলে ৬১ করে ম্যাচ-সেরা)। গত বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলেছিলাম (৪৯ বলে ৬৫)। সেসব নির্বাচকদের বিবেচনায় থাকতে পারে। আগে যেহেতু পারফর্ম করেছি, আমারও হয়তো বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস খানিকটা বেশি থাকবে। তবে মাঠে গিয়ে পারফর্ম করতে না পারলে আগে কী করেছি এসবের মূল্য নেই। বহু উচ্চারিত প্রশ্নটা আবারও করা যাক। এবার কি থিতু হতে পারবেন আশরাফুল? আশরাফুল: (হাসি) আমার উত্তরও আগের মতোই, চেষ্টার কমতি থাকবে না। নির্বাচকেরা আস্থা রেখেছেন, সেটার প্রতিদান দিতে চাই। দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই। এই তো...। প্রিমিয়ার লিগ তো অবশেষে শুরু হয়ে গেল। আপনার দল (ওল্ডডিওএইচএস) পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। কিন্তু অধিনায়ক হয়ে আপনি দলের সঙ্গে নেই... আশরাফুল: লিগ তো শেষ হয়ে যাওয়ার কথা সেই দুই মাস আগেই। সে অনুযায়ী ব্ল্যাকহিথের সঙ্গে চুক্তিটা করেছি অনেক আগেই। এখন এত জটিলতায় খেলা না হলে আমি কী করব! ক্লাব, বোর্ডের অনুমতি নিয়েই আমি এখানে এসেছি। তার পরও সুজন ভাইকে (ডিওএইচএসের কোচ খালেদ মাহমুদ) বলেছিলাম, আমাকে যদি বিমান টিকিট দেওয়া হয় আর আমার ক্লাব অনুমতি দেয় তাহলে ঢাকায় ফিরব। কিন্তু ব্ল্যাকহিথ আমাকে ছাড়ছে না, বিমান টিকিট পেলেও তাই লাভ হতো না। ব্ল্যাকহিথকে দোষও দেওয়া যাবে না, ওরাও তো আমার ওপর বিনিয়োগ করেছে! ঢাকা লিগ খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। অধিনায়ক ছিলাম, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে আমাদের। কিন্তু কিছু করার নেই। সুজন ভাইও বলেছেন, ক্লাব না ছাড়লে কী আর করা! ব্ল্যাকহিথে কেমন হচ্ছে পারফরম্যান্স? লিগের মান কেমন? আশরাফুল: মোটামুটি খেলছি, একটা সেঞ্চুরি করেছি, ১ রানে ৩ উইকেট পেয়েছি ওই ম্যাচেই। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে আমাদের দল শীর্ষে আছে। কাউন্টির অনেকেই খেলেন এই লিগে। আমাদের দলে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ওপেনার ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ড খেলছে, ওয়ারেন লি, জাহিদ আহমেদরা কেন্ট দলে খেলেছে। খেলা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কেন্ট কাউন্টি দলও নাকি আপনার প্রতি আগ্রহী? আশরাফুল: আমিও শুনেছি। কেন্টের কোচ জিমি অ্যাডামস (সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলরাউন্ডার) নাকি আমাদের অধিনায়কের (ক্রিস উইলেটস) কাছে খোঁজখবর নিয়েছেন আমার ব্যাপারে। এক সাংবাদিক বলছিলেন, কাউন্টির টি-টোয়েন্টিতে নাকি আমাকে খেলাতে চায়। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব এখনো পাইনি। প্রস্তাব পেলে ভালোই। কাউন্টিতে খেলা মানেই অনেক কিছু শেখার সুযোগ। মাঠের বাইরে কেমন কাটছে সময়? আশরাফুল: খুব ভালো। এদের সুযোগ-সুবিধা দারুণ, ভালো জিম আছে। চাপও অতটা নেই। জাহিদ, লি—ওদের সঙ্গে ভালোই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দেশে তো এখন প্রচণ্ড গরম, কিন্তু এখানে আবহাওয়া চমৎকার। কবে ফিরবেন দেশে? আশরাফুল: কাল (আজ) একটা ম্যাচ আছে আমাদের, আর ৬ তারিখ একটি। ৭ তারিখেই দেশের বিমানে উঠব ইনশাল্লাহ। |
| |
|
| |