[ ] 2012-06-02 |
|
|
 |
|
রাজউকের প্লট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক কর্মকর্তার জালিয়াতি |
 |
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব আবু জাহিদ সেন্টুর বিরুদ্ধে উত্তরায় রাজউকের বরাদ্দকৃত তিন কাঠা প্লট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন সিটি ডেন্টাল কলেজের চেয়ারম্যান এ এল এম বদরুদ্দোজা। একই সঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ছয়জন কর্মকর্তাকে অনিয়মের সহযোগী হিসেবে দায়ী করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বদরুদ্দোজা এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আবু জাহিদ সেন্টু নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পিএস হিসেবে এখনো পরিচয় দেন। প্রভাব খাটিয়ে তিনি রাজউকের প্রশাসনকে ব্যবহার করে এ জালিয়াতি ও অনিয়ম করেছেন। বদরুদ্দোজা জানান, সেন্টু রাজউকের তিন কাঠার একটি প্লট পান। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। সেন্টুর অনুরোধে তিনি রাজউককে প্রথম কিস্তির টাকা এবং প্রতি কাঠার জন্য অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা দেন। বিনিময়ে প্লটটি বদরুদ্দোজাকে দেওয়ার কথা। এ বিষয়টিকে আইনি রূপ দিতে রাজউকের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অবাতিলযোগ্য আমমোক্তারনামার (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) মাধ্যমে জমির বরাদ্দপত্রসহ অন্যান্য নথিপত্র বদরুদ্দোজাকে হস্তান্তর করেন সেন্টু। বদরুদ্দোজা তিন কিস্তিতে পুরো জমির টাকা পরিশোধের পর সেন্টু তাঁর অজান্তে আমমোক্তারনামা বাতিল করেন। রাজউকের চেয়ারম্যান এটা অনুমোদন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে আবু জাহিদ সেন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোর কাছে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বদরুদ্দোজাকে বন্ধু বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘মানুষের যখন অধঃপতন শুরু হয়, তখন কত কিছুই করে।’ টাকা নেওয়ার কথা, আমমোক্তারনামা করা ও তা বাতিলসহ সব ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তবে বদরুদ্দোজা এ-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র, টাকা নেওয়ার রসিদ এবং আমমোক্তারনামার কপি সাংবাদিকদের কাছে দিয়ে এর প্রতিকার দাবি করেন। রাজউক ও সেন্টুকে দেওয়া প্রথম কিস্তির তিন লাখ ৮৯ হাজার ৫০ টাকা এবং অতিরিক্ত সাত লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকার প্রমাণ দেখান তিনি। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আমমোক্তারনামা তৈরি ও বাতিলের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের সামনে উভয় পক্ষকে উপস্থিত হয়ে তিনটি করে সই করতে হয়। সে আইন মেনে রাজউকের চেয়ারম্যান আমমোক্তারনামা তৈরির সময় উভয়ের উপস্থিতিতে সেটা অনুমোদন করেন। কিন্তু আমমোক্তারনামা বাতিলের সময় তাঁকে ডাকা বা জানানো হয়নি। গতকাল রাতে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও রাজউকের চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সেন্টু এখন আওয়ামী লীগ বা সরকারের কেউ নন, প্রায় দুই দশক আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন। |
| |
|
| |