আবাসন ব্যবসায় বিশেষ ঋণ সুবিধা জরুরি [ প্রথম পাতা ] 22/12/2016
আবাসন ব্যবসায় বিশেষ ঋণ সুবিধা জরুরি
আবাসন ব্যবসায় বিশেষ ঋণ সুবিধা জরুরি
আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় মেলা ‘রিহ্যাব ফেয়ার ২০১৬’ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আবাসন একটি মৌলিক অধিকার। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে আপাতত ঋণ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কারণ সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে এই মুহূর্তে কোনো অর্থের জোগান দিচ্ছে না। ’

মন্ত্রী মুহিত বলেন, ‘আবাসনক্ষেত্রে একজন ভূমি মালিক, একজন ব্যবস্থাপনা বা ভবন নির্মাণকারী আর একজন ক্রেতার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই তিন পক্ষকে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। প্রত্যেকের আবাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই একটি বিশেষ আলোচনা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা খুবই প্রয়োজন। আমাদের সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা যখন সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা নিয়ে কথা বলি তখন আবাসনব্যবস্থার বিষয়টিও চলে আসে। আবাসন সেক্টরে সরকার কাজ করার চিন্তা-ভাবনা করছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে সুবিধা হয়। শহরের বস্তিগুলো নিয়ে সমস্যার অনেক কথা শোনা যায়। এসব বস্তিবাসীর জন্যও থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। ’

আবাসন ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আপনারা সব চাচ্ছেন; কিন্তু সরকারকে কী দিয়েছেন? সময়মতো হস্তান্তর, নির্মাণ আইন মেনে কি ভবন নির্মাণ করতে পেরেছেন? আমরা এখন হাউজিং সেক্টর আইন মেনে চলছি না। আপনারা কখনো পাঁচ হাজার কোটি, আবার কখনো ১৫ হাজার কোটি টাকা চাচ্ছেন। কী লাভ হবে এ টাকা দিয়ে? টাকা কাকে দেব? আপনাদের আরো চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করতে হবে। ’ তিনি বলেন, সরকার হাজার হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করছে। কিন্তু রিহ্যাবের অবিক্রীত ফ্ল্যাটগুলো রয়ে গেছে। তা কেন সরকার কিনে নেয় না। আপনারা এগুলো কেনার প্রস্তাব দিন। পৃথিবীর সব দেশে হাউজিং সেক্টরকে বিশেষভাবে দেখা হয়। এখানেও একটি বিশেষ ফান্ড দরকার। তবে আবাসন ব্যবসায়ীদের আরো সুনাম অর্জন করা উচিত।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘আবাসন খাতে আমরা গ্যাস দেব না। সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হবে। আমি থাকা অবস্থায় লাইন থেকে গ্যাস পাবেন না। আগামী সাত-আট বছরের মধ্যে আমাদের গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। ’

রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, ‘রিহ্যাব আবাসন তৈরি ছাড়াও জনকল্যাণমূলক অনেক কাজ করে থাকে। আমরা বন্যাদুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৬৫টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। এ ঘরগুলোর মধ্যে আপনি (জ্বলানি প্রতিমন্ত্রী) বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দিন। ’

শাওন বলেন, ‘আবাসন খাতের সঙ্গে ২৬৯টি লিংকেজ শিল্প জড়িত। সেখানে প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এ খাতে মন্দা ভাব কাটাতে রি-ফিন্যান্সিং স্কিম চালু করা দরকার। অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা সিংগেল ডিজিট সুদে ঋণ দিতে হবে। নতুন করে গ্যাস সংযোগ আমরা চাই না। তবে যেসব প্লট ও ভবনে আগে থেকে গ্যাসের লাইন রয়েছে তা সম্প্রসারণ করতে হবে। ’
প্রথম দিনেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় : রিহ্যাব মেলায় এবার মোট ১৭৫টি স্টল থাকছে। এর মধ্যে ৩০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে রিহ্যাব। এবারের মেলায় কো-স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করছে ২৪টি প্রতিষ্ঠান। গতকাল বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে থেকেই মেলায় ভিড় জমায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রেতা-দর্শনার্থী। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলায় প্রবেশ করা যাবে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্লট ও ফ্ল্যাটে মূল্যছাড়, উপহারসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে।

মেলায় অংশগ্রহণ করা ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের স্টলে দেখা গেছে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়। স্টলে দায়িত্বরত ডেপুটি ম্যানেজার মাহবুব হাসান জানান, রাজউক অনুমোদিত বারিধারা প্রকল্পের জি, এইচ, আই, জে, কে ও এল ব্লকে রেডি প্লট বিক্রি হচ্ছে। এখানে দুই কাঠা থেকে এক বিঘা পর্যন্ত প্লট রয়েছে। কাঠাপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা।
আমিন মোহাম্মদ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, মতিঝিল-কমলাপুরসংলগ্ন গ্রিন মডেল টাউনে আড়াই কাঠা থেকে ১০ কাঠা পর্যন্ত রেডি প্লট রয়েছে। সেখানে কাঠাপ্রতি ৩৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে প্লট কিনতে পারবে ক্রেতারা। পাঁচ থেকে সাত বছরের কিস্তিতেও প্লট কেনার সুযোগ রয়েছে এখানে।
কনকর্ড গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ শফিকুল ইসলাম কনক বলেন, ‘গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরাসহ রাজধানীর বেশ কিছু স্থানে আমাদের ফ্ল্যাট রয়েছে। গুলশানে দুই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট রয়েছে। মেলা উপলক্ষে আলোচনা সাপেক্ষে ক্রেতাদের কিছু ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ’

এ ছাড়া গতকাল সন্ধ্যার পর অ্যাসেট, রূপায়ণ হাউজিং, শেলটেক, নাভানা, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক ও রাকিনের স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে।
রিহ্যাব জানিয়েছে, প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় প্রবেশের জন্য দুই ধরনের টিকিট থাকছে। সিঙ্গেল এন্ট্রি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী সর্বোচ্চ পাঁচবার মেলায় প্রবেশ করতে পারবে। এন্ট্রি টিকিটের র‌্যাফেল ড্রতে প্রতিদিন থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। মেলা চলাকালে প্রতিদিন রাত ৯টায় র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আর টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হবে দুস্থদের সাহায্যার্থে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters