দুর্নীতিতে বছরে ক্ষতি জিডিপির ২ শতাংশ [ ] 11/01/2017
দুর্নীতিতে বছরে ক্ষতি জিডিপির ২ শতাংশ
আবু আলী:

প্রতিবছর দেশে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয় তাতে জিডিপির ২ শতাংশ ক্ষতি হয়। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে জিডিপির আকার ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। দুর্নীতিই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে মন্দা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান অন্তরায়। এ কারণে বিশেষ করে দারিদ্র্যের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আয় বৈষম্যও। ফলে সমাজে শ্রেণীবৈষম্য বাড়ছে; বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতাও। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এমনটিই মনে করে।

দুদক মতে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, জনবল নিয়োগ, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। এ জন্য এসব প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমনে প্রো-অ্যাকটিভ মনিটরিং বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে দুদক। বিশেষ করে দুর্নীতির ধূসর এলাকাগুলোতে (গ্রে এরিয়া) বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভাগকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে দুদক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমনে অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করছে দুদক। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর/সংস্থা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে কাজ করছে। তবে এ উদ্যোগ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দুর্নীতি প্রতিরোধে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি দিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে প্রতিবছর দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া দুর্নীতির প্রতিরোধ করা হলে বৈিেদশক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান গতিশীল হবে। এ জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নিশ্চিত করতে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আয় বৈষম্য কমিয়ে আনতে দুদকের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়কে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গত ২৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়, জনবল নিয়োগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির প্রকোপ থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মনিটরিং। এজন্য এসব ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ রাখা হয় চিঠিতে। এ ক্ষেত্রে সচিবদের ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব; দুদকও মন্ত্রণালয়ের পাশে থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও উল্লেখ করেছেন, সরকার দুর্নীতি দমনে বদ্ধপরিকর। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের পর্যায়ে উন্নীতকরণে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে এ সংক্রান্ত এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি দমন, সুশাসন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল নিয়েছে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• ৭২ ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে মসলার বাজার
• ব্যবসার উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে প্রতিযোগিতা
• কোরবানির পশুর চামড়ার তিন বছর আগের দামই
• প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০, খাসি ২০ টাকা নির্ধারণ
• পড়ে আছে সারচার্জের ৯০০ কোটি টাকা
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters