বিনিয়োগ আকর্ষণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন :বিশ্বব্যাংক [ শেষ পাতা ] 12/01/2017
বিনিয়োগ আকর্ষণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন :বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ছয় দশমিক আট শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান অবস্থা বজায় থাকলে পরের অর্থ বছর (২০১৭-১৮) এই হার আরো কমে সাড়ে ছয় ভাগে নেমে যেতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ শীর্ষক ষান্মাষিক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক এই তথ্য উল্লেখ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গেল অর্থ বছর সাত দশমিক এক শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি অর্থ বছর দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি কমে আসতে পারে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেগেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় দেশের অভ্যন্তরে রেমিট্যান্সনির্ভর ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সম্প্রতি বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে এবং সরকারি বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ২০১৯ সালে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে প্রবৃদ্ধি। উল্লেখ্য, চলতি অর্থ বছর বাংলাদেশে সাত দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধান রফতানি খাত গার্মেন্টস-এর বায়াররা সফর বাতিল করেছেন। গেল ডিসেম্বরে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র সাড়ে চার ভাগ, যেটি সাড়ে ১১ ভাগ হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তা ছাড়া তেলের দাম কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। এর আগে গত অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। কিন্তু রফতানি, রেমিট্যান্স হ্রাস ও সরকারের চলতি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই অর্জনও কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বছর জ্বালানির দাম ব্যারেল প্রতি গড়ে ৫৫ ডলার থাকতে পারে বলে আশা করা হয়েছে। এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দুই দশমিক সাত শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার পর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০১৬ সালে, মাত্র ২ দশমিক ৩ ভাগ। এ বছর উদীয়মান  ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙ্গা হবার আশা করছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো আর্থিক উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় অর্থনীতির গতি বেড়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাঙ্গাভাব এবং বিশ্ব বাণিজ্যের সম্ভাবনাগুলো বিশ্লেষণ করে এমনটি আশা করছে বিশ্বব্যাংক। উদীয়মান বাজারগুলোর উন্নতি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি পাবার আশা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কিছু অনিশ্চয়তার দিক তুলে ধরা হয়েছে। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর নীতি পরিবর্তন হলে এই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বড় দেশগুলোর বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন হলে নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ আয়ের দেশগুলো প্রভাবিত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম উল্লেখ করেছেন, অবকাঠামো এবং সাধারণের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর উপযুক্ত সময় এখনই। চরম দারিদ্র্য বিমোচনসহ টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি জরুরি।
বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জিডিপি ধারণ করে আছে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। সেইসাথে বিশ্বের চারভাগের তিনভাগ জনগোষ্ঠীর বাস এই দেশগুলোতে। বিশ্বমন্দা পরিস্থিতি এ দেশগুলোকেও আঘাত করেছে। এর বিশ্লেষণে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, ২০১০ সালে যেখানে ১০ শতাংশ হারে দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ছিল সেটি মন্দা পরবর্তী সময়ে হ্রাস পেতে পেতে ২০১৫ সালে তিন দশমকি চার শতাংশে নেমে এসেছে। এ জন্য তেলের দাম কম থাকা ও দেশগুলোর বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে দেশগুলোর ঋণের বোঝা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে।

বিশ্বব্যাংক আশা করছে এ বছর উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর রফতানি বাড়বে দুই দশমিক তিন শতাংশ হারে। যা গেল ২০১৬ সালে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৩ ভাগ। এবছর নিত্যপণ্যের দাম উপরে উঠে আসবে। রাশিয়া ও ব্রাজিলের অর্থনীতিও মন্দার ধাক্কা সামলে এগুবে। তবে চীনের অর্থনীতি ধীরগতিইে এগুচ্ছে। চীনের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ছয় ভাগ হবার আশা করছে বিশ্বব্যাংক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হবে দুই দশমিক দুই ভাগ। গেল বছর শিল্প উত্পাদন ও বিনিয়োগ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নতুন বছরে এটি বাড়বে বলে আশা করা হয়েছে।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি এবছর ছয় দশমিক দুই ভাগ হতে পারে। বিশেষ করে চীনের অর্থনীতির ধীরগতির কারণে এই অঞ্চলে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ২ দশমকি ৪ ভাগ হতে পারে। এ অঞ্চল হতে নিত্যপণ্য রফতানি বাড়তে পারে, বিশেষ করে তুরস্কের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি হতে পরে দেড় শতাংশ। ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধির ধারা ভেঙে এ বছর প্রবৃদ্ধি ধনাত্বক হতে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি থেকে বেরিয়ে এবছর শূন্য দশমিক ৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে মেক্সিকোতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন নিয়ে সংশয় এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এবছর জ্বালানি তেলের আমদানি বৃদ্ধি পাবার আশা করা হচ্ছে। ফলে তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আররের অর্থনীতি চাঙ্গা হতে পারে। এক দশমকি ৬ শতাংশ হতে পারে সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধি। একইভাবে ইরানের প্রবৃদ্ধি হতে পারে পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ায় সাত দশমিক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পরে। ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে এই অঞ্চলে উচ্চ প্রবৃদ্ধি আশা করছে বিশ্বব্যাংক। ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি গড়ে সাড়ে পাঁচ শতাংশ হতে পারে। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, সাধারণের ভোগ ব্যয় বৃদ্ধিসহ বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালে ৭ দশমকি ৬ ভাগ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ ভাগ হতে পারে। সাব সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি এবছর দুই দশমকি ৯ ভাগ হবার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• সেপ্টেম্বরে দু'বছরের সর্বোচ্চ মূল্যস্ম্ফীতি
• চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে
• প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters