সেরাটা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ [ ] 12/01/2017
সেরাটা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ
ঘাসের মাঠ, প্রথম ইনিংসে ছোবল দেওয়া বোলিং সামলানোর ভয়, বাতাস; অনেক কিছুই আছে।
তবে প্রথম টেস্ট শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম খুব গুরুত্ব দিলেন ফিল্ডিংয়ের ওপরে। টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে ভালো ফিল্ডিং করার বিকল্প নেই বলেই বললেন।
ফিল্ডিংয়ের আগে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ হবে একেবারে প্রতিকূল কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। সবশেষ টেস্টেই বাংলাদেশ খেলেছে মিরপুরের টার্নিং উইকেটে। বিপরীতে বেসিন রিজার্ভে প্রস্তুত সবুজ উইকেট। মিরপুরে বা বাংলাদেশের কোথাও, ক্রিকেট মাঠে বাতাস কখনোই বড় কোনো ব্যাপার নয়। এখানে সবার আগে ভাবতে হয় বাতাসের কথা, তীব্রতায় মাঝেমধ্যে দাঁড়িয়ে থাকাও দায়। উড়িয়ে নিতে চায়। গায়ে কাঁপন ধরায়।

সবশেষ টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে ছিল চার স্পিনার, এক পেসার। এখানে তিন পেসার তো নিশ্চিত, আরেকজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারও বিবেচনায় আছেন। সবশেষ টেস্টের ম্যাচ সেরা, সিরিজের সেরা মেহেদী হাসান মিরাজ খেলছেন বটে, তবে না খেলানোর ভাবনাও ছিল! সবশেষ টেস্টেই বাংলাদেশ হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। অনেকের মতেই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সাফল্য। অথচ এখন ভাবতে হচ্ছে লড়াই করার কথা। সাফল্যের পথে হাঁটা শুরুর কথা!

সেটি বাস্তবতার তাগিদেই। টার্নিং উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেও বাস্তবতা বলছে, টেস্টে বাংলাদেশের পায়ের নীচে জমিন এখনো শক্ত নয়। দেশের বাইরে তো আরো বেশি নরম। আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তো বাংলাদেশ মাটিই খুঁজে পায় না! রঙিন পোশাকে কখনো স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি, সাদা পোশাকে তো জমেনি লড়াইও!

এবার আবার বাংলাদেশ দেশের বাইরে টেস্ট খেলছে দুই বছরের বেশি সময় পর। বাস্তবতাগুলো জানেন বলেই মুশফিকুর রহিমের প্রত্যাশা আকাশে ওড়েনি, থাকছে জমিনেই, ‘ইংল্যান্ডের সঙ্গে জিতেছি মানে এই নয় যে আমরা খুব ভালো টেস্ট দল হয়ে গেছি। দেশে আমরা যে রকম কন্ডিশন-উইকেট পাই, বাইরের দলের জন্য কঠিন হয়। এখন আমরা বাইরে খেলছি। লক্ষ্য একটাই যে দেশের মাটিতে যে ধারাবাহিকতা, বাইরে যেন সেটা অন্তত শুরু করতে পারি। লক্ষ্য থাকবে, টেস্টে যেন আমরা লম্বা সময় খেলায় থাকতে পারি এবং লড়াই করতে পারি।’

মুশফিক বলছেন, এখানে ভালো করতে গেলে নিজেদের সেরা সামর্থ্যটা উজাড় করে দিতে হবে, ‘এখানে ব্যক্তিগত ভালো স্মৃতি আছে আমাদের। এখন দল হিসেবে করতে হবে। ক্যারেক্টারটা শো করতে হবে। লম্বা সময় ধরে কষ্ট করে যেতে হবে। সেশন বাই সেশন করতে হবে। কঠিন হবে, তবে অসম্ভব নয়।’

এতো কঠিন কাজটুকু যদি করে ফেলতে পারে বাংলাদেশ, সামনে পথচলা হবে আরো সহজ। এই বছর দেশের বাইরে বাংলাদেশের অনেক খেলা। এটি যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনই সুযোগও, দেশের মাটির সাফল্য দেশের বাইরে বয়ে নিয়ে যাওয়ার। সবচেয়ে কঠিন দিয়েই শুরু সবার আগে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে ভালো কিছু করতে পারলে মিলবে গোটা বছরের অনুপ্রেরণার রসদ।
সংবাদ সম্মেলনে এলো ফিল্ডিং প্রসঙ্গ। সেখানে কোনো সুযোগ হাতছাড়া না করার প্রত্যয় জানালেন অধিনায়ক, ‘অবশ্যই ফিল্ডিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই আমরা চাইব না টম ল্যাথাম, রস টেলর বা কেন উইলিয়ামসনকে সুযোগ দিতে। সব কটা সুযোগ লুফে নেওয়ার ব্যাপারটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

স্লিপ ও গালির ফিল্ডারদের সবসময় তত্পর থাকার তাগিদ মুশফিকের কণ্ঠে, ‘অবশ্যই স্লিপ, গালিতে ফিল্ডিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই উইকেটে ক্যাচগুলো পেছনে আসার সম্ভাবনা বেশি। তো কিপার, গালি, স্লিপে আমরা যারা থাকি, তাদের দায়িত্ব বেশি।’
ফিল্ডাররা সুযোগ দুই হাতে কাজে লাগালে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনাও বাড়বে। সূত্র: বিডি নিউজ।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
No link found
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters