হুন্ডির ফাঁদে রেমিট্যান্স [ প্রথম পাতা ] 12/01/2017
বেড়েছে পাঠানোর খরচ
হুন্ডির ফাঁদে রেমিট্যান্স
হারুন-অর-রশিদ :

প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়ে গেছে। মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা, রেমিট্যান্স প্রেরণকারী বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের চার্জ বৃদ্ধি, চার্জ আরোপ, বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় চার্জের পরিমাণ বাড়ানোয় এই খরচ বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে ১০ শতাংশ। কোনো কোনো দেশে এ খরচ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অর্থ সাশ্রয়ে প্রবাসীরাও হুন্ডিতে ঝুঁকছেন। ফলে হুন্ডির ফাঁদে পড়ছে রেমিট্যান্স।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ ৮টি দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় করে থাকে। এর মধ্যে ৭টি দেশ থেকেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। কমেছে একটি দেশের ক্ষেত্রে। কোনো কোনো দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আনতে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যয় অন্য মাধ্যমের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তির একটি হচ্ছে রেমিট্যান্স। কিন্তু বিগত দুই বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ গমনের পরিমাণ বাড়লেও রেমিট্যান্স কমার প্রবণতার মানে হচ্ছে হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি আসছে। যার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। আর বৈধপথে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়ে যাওয়া।

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সংক্রান্ত প্রতি ত্রৈমাসিকে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বিশ্বব্যাংক। গত বছরের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) খরচ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ছিল ৩.৬০ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ খরচ ছিল ৩.২৮ শতাংশ। এতে দেখা যায়, আগের ২০১৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় গত বছরের শেষ প্রান্তিকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে বাংলাদেশিদের। তবে শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভারত, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও শ্রীলংকায় রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ফি ও মুদ্রার বিনিময় হারের ব্যবধানের কারণে খরচ বেড়েছে। বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস সৌদি আরব। এই দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি মাসুল আদায় করে। ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮৭০ সৌদি রিয়াল পাঠাতে ২৫ রিয়াল ফি ও ১.৫৪ শতাংশ বিনিময় হারের মার্জিন কেটে রাখে। এতে গড়ে খরচ হয় ৪.৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া সৌদি আমেরিকান ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে গড়ে ৪.৩০ শতাংশ, আল জামিল এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে ৩.৬৯ শতাংশ, মানিগ্রাম থেকে ৩.৪০ শতাংশ, এক্সপ্রেস মানি থেকে ৩.২৫ শতাংশ, এনজাজ ব্যাংক থেকে ৩.২০ শতাংশ, টেলিমানি ও আল রাজী ব্যাংক থেকে পাঠাতে ৩.০৬ শতাংশ খরচ হয়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরে শেষ প্রান্তিকে গড় খরচ দাঁড়িয়েছে ২.৭২ শতাংশ। আগের বছরে যা ছিল ২.২৯ শতাংশ। এই দেশ থেকে ওয়ার্ল্ড রেমিটের মাধ্যমে ৪.৩০ শতাংশ খরচ হয়। ইউএই এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে পাঠাতে খরচ হয় ৩.৯৪ শতাংশ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের উৎস যুক্তরাষ্ট্র। আগের বছরে রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ হতো ৪.১৯ শতাংশ, গত বছরে এই খরচ বেড়ে হয়েছে ৪.৮৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। দেশটি থেকে ওয়ার্ল্ড রেমিটের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে সবচেয়ে বেশি ৭.৬১ শতাংশ খরচ হয়। এ ছাড়া মানিগ্রামে ৭.০৮ শতাংশ, রিয়ার মাধ্যমে ৬.২১ শতাংশ এবং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে ৪.৪৪ শতাংশ খরচ হয়। তবে ওই দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সোনালি এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সবচেয়ে কম মাত্র ২.৩৫ শতাংশ।

শীর্ষ চতুর্থ রেমিট্যান্সের উৎসের দেশ মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমেছে। আগে যেখানে ৪.৩৯ শতাংশ খরচ হতো, এখন সেটি ৩.২৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আরএইচবি ব্যাংকে ১১.৩৪, ক্যাশ লাজুতে ৮.৭৬, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে ৭.২২, মে ব্যাংকে ৭.১৪ শতাংশ ও প্রভু মানিট্রান্সফারে ৬.৫০ শতাংশ খরচ হয়। তবে মানিগ্রাম, অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউস, সিবিএল মানিট্রান্সফার ও এনবিএল মানিট্রান্সফারের মাধ্যমে ১ শতাংশের কম খরচ হয়।

কুয়েতের বাংলাদেশের পঞ্চম রেমিট্যান্সের উৎস। এই দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ৯ শতাংশ বেড়েছে। আগে যেখানে গড়ে ১.৮৯ শতাংশ খরচ হতো গত বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২.০৬ শতাংশ। ৯টি এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। সর্বোচ্চ খরচ ২.৫৬ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১.৬৬ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে ৪.৭২ শতাংশ খরচ হচ্ছে। আগের বছরে যা ছিল ৩.৫১ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে সাড়ে ৩৪ শতাংশ। মানিগ্রামে ৯.১১ শতাংশ, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে ৮.১৩ শতাংশ খরচ হয়। তবে সোনালী ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ৪.৩৪ শতাংশ ও সজন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড মানিট্রান্সফারে খরচ ৪.৬৪ শতাংশ।

ওমান থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে ৬.৩৫ শতাংশ। আগে যেখানে রেমিট্যান্স পাঠাতে ২.৯৯ শতাংশ খরচ হতো; এখন এই খরচ বেড়ে হয়েছে ৩.১৮ শতাংশ। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সবচেয়ে বেশি ৩.৮৭ শতাংশ। ইউএই এক্সচেঞ্জ হাউসে ৩.৬৭ শতাংশ খরচ হয়। তবে মানিগ্রামের মাধ্যমে সবচেয়ে কম মাত্র ২.২৭ শতাংশ খরচ হয়।

সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হচ্ছে ২.১৯ শতাংশ। আগে এই খরচ ছিল ১.৬২ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নে ২.৫৭ শতাংশ, ট্রান্সফারওয়াইজে ২.৫৬ শতাংশ খরচ হয়। তবে আমির টেক রেমিট্যান্স ১.৭৭ শতাংশ, এনবিএল মানিট্রান্সফার, অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউস, প্রাইম ব্যাংক পাঠাতে খরচ হয় ২.০৬ শতাংশ।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে ইসলামী ব্যাংক
• চেষ্টা করেও বিশ্বব্যাংকের বাজেট সহায়তা ঋণ পাওয়া গেল না
• ৫৬ ব্যাংকের মুনাফা ২৩ হাজার কোটি টাকা
• শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর উদ্যোগ
• কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৩ শতাংশ
• দুই লাখ ৪০ হাজার কৃষক পাচ্ছেন বিশেষ ঋণ সুবিধা
• বাড়তি ঋণের চাহিদা নিয়ে সংশয়
• আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান কমাতে গাফিলতি অনেক ব্যাংকের
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters