তিন শতাধিক শাখা খুলবে ৩৮ ব্যাংক [ অর্থনীতি ] 16/02/2017
তিন শতাধিক শাখা খুলবে ৩৮ ব্যাংক
ওবায়দুল্লাহ রনি

চলতি বছর ৩০৮টি শাখা খুলবে বেসরকারি খাতের ৩৮ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এবারও সরকারি মালিকানার ৭ ব্যাংককে শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বেসরকারি খাতের চারটি ও বিদেশি মালিকানার ৯ ব্যাংক এবার কোনো শাখা খোলার জন্য আবেদন করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ব্যাংকগুলো মোট ৯৬৯টি শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ৮ ব্যাংক খুলেছে মাত্র ১০৩টি শাখা। বাকি শাখা দেওয়া হয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে। গত বছর ব্যাংকগুলো যে ২১৯টি শাখা খুলেছে তার মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় ৪টি শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে মোট শাখার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ হাজার ৬৫৪টি। এর মধ্যে গ্রামে রয়েছে ৫ হাজার ৪৬৬টি। আর শহরে রয়েছে ৪ হাজার ১৮৮টি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কোন ব্যাংক কত শাখা খুলতে চায় সে বিষয়ে বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করতে হয়। এরপর ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, মূলধন পরিস্থিতি, খেলাপি ঋণের হারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। যেসব ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিং যত ভালো ওই ব্যাংককে তত বেশি শাখা খোলার অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি ভালো না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ বিবেচনায় ছাড়া এসব ব্যাংকের শাখা খোলার কোনো আবেদনই নেওয়া হচ্ছে না। এবারে যেসব শাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুধু বিডিবিএল ৪টি শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট, এক্সিম, ইবিএল ও আইসিবি ইসলামী এবং বিদেশি মালিকানার ৯টি ব্যাংক কোনো শাখা খোলার আবেদন করেনি।

২০১৭ সালে ১০টি করে শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে ২২টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো_ আল-আরাফাহ্ ইসলামী, ব্র্যাক, ঢাকা, ডাচ্-বাংলা, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, প্রাইম, পূবালী, মার্কেন্টাইল, যমুনা, শাহজালাল ইসলামী, এসআইবিএল, স্ট্যান্ডার্ড, সাউথইস্ট, সিটি, ইউসিবিএল, সাউথবাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স, মধুমতি, মেঘনা, এনআরবি লিমিটেড, এনআরবি কমার্শিয়াল ও সীমান্ত ব্যাংক। এ ছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক ৯টি, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ও এনআরবি গ্গ্নোবাল ৮টি করে, ফারমার্স ৭টি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, এনসিসি ও প্রিমিয়ার ৬টি, মিডল্যান্ড ও ওয়ান ৫টি, বিডিবিএল, এবি ও উত্তরা ৪টি করে শাখার অনুমতি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় গ্রামের তুুলনায় শহরে কয়েকগুণ বেশি শাখা খুলত ব্যাংকগুলো। তবে ২০০৬ সালে এক নির্দেশনায় বেসরকারি ব্যাংকের শহরাঞ্চলে চারটি শাখার বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে অন্তত একটি শাখা খোলার বিধান করা হয়। পরে ২০১২ সাল থেকে গ্রামে একটির বিপরীতে শহরে একটি শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, সরকারি মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এখন গ্রামমুখী হচ্ছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মোট ৪ হাজার ৪৬৭ শাখার মধ্যে গ্রামে রয়েছে ১ হাজার ৮৩০টি। তিন বছর আগে এসব ব্যাংকের তিন হাজার ৬০২টি শাখার মধ্যে গ্রামে ছিল এক হাজার ৩৯৪টি। সরকারি ব্যাংকগুলোর ৫ হাজার ১১৭টি শাখার মধ্যে গ্রামে রয়েছে ৩ হাজার ৬৩৩। তিন বছর আগে ৫ হাজার ১৪টি শাখার মধ্যে ৩ হাজার ৫৬৮টি ছিল গ্রামে। এর বাইরে বিদেশি ব্যাংকের ৭০ শাখার সবই শহরে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানসহ দুজনকে পদ থেকে অপসারণ
• এবার অগ্রণী ব্যাংকের সকালের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত
• কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সৎ থাকতে হবে : ইব্রাহীম খালেদ
• ফাঁসলেন সিটি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক অব্যাহতি পেলেন গ্রাহক
• নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে ব্যর্থ ৬ ব্যাংক
• ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আহসানুলকে অব্যাহতি
• কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সত্ হওয়ার পরামর্শ
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters