বাণিজ্য বাড়াতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে হচ্ছে এফটিএ স্বাক্ষর [ ] 19/03/2017
বাণিজ্য বাড়াতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে হচ্ছে এফটিএ স্বাক্ষর
বাণিজ্য বাড়াতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে হচ্ছে এফটিএ স্বাক্ষর
এসএম আলমগীর:

আগামী ২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরকে সামনে রেখে সরকার বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ওই সময়ের মধ্যে রফতানি বাণিজ্যেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু পোশাক খাত থেকেই ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আর এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাণিজ্য আয় বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা এফটিএ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, যেসব দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, চীন, ফিলিস্তিনসহ আরও কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিমেন্ট, পেপারসহ বিভিন্ন পণ্য কম দামে রফতানি করবে। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের পণ্য আমদানি করা হলে শ্রীলঙ্কার জন্যও লাভজনক হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম দামে বাংলাদেশ এসব পণ্য শ্রীলঙ্কায় রফতানি করতে সক্ষম। এর মধ্যে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিশ্ব
বাণিজ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এফটিএ স্বাক্ষর করতে পারে। এতে করে বাণিজ্য অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ লাভবান হবে।
আর ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শেখ আবদুল মান্নান সকালের খবরকে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে আগামী ২০২১ সালে রফতানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দেশের রফতানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন রফতানি বাজার সৃষ্টির জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রফতানি বৃদ্ধির জন্য আইটি, ওষুধ, ফার্নিচার, জাহাজ নির্মাণ ও কৃষিজাত পণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। অনেক পণ্য রফতানিতে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ছে। বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত হওয়ায় বেশিরভাগ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশকে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা প্রদান করছে। এফটিএ স্বাক্ষর করলে বাণিজ্য আরও বাড়বে এবং দেশ উপকৃত হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রায় ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বাণিজ্য হচ্ছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা থেকে আমদানি করেছে ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য এবং একই সময় রফতানি করেছে ৩০ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশের ঘাটতি বাণিজ্য ১৪ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বাণিজ্য খুবই সামান্য। শ্রীলঙ্কার বাজারে তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিমেন্ট, কাগজ, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, পাটজাত পণ্যসহ বেশ কিছু বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শ্রীলঙ্কার বাজারে শুল্কমুক্তসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদান করা হলে রফতানি অনেক বাড়বে এবং বাণিজ্য বাংলাদেশের পক্ষে আসবে।
তৈরি পোশাকে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করলে তুরস্কের সঙ্গেও এফটিএ করবে বাংলাদেশ। দু’দেশের মধ্যে এফটিএ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে তুরস্কের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলে বাংলাদেশ এ অবস্থান নেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত এই দেশটি এফটিএ আলোচনার জন্য এর আগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছিল। তবে তৈরি পোশাকে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারে রাজি হলে তুরস্কের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি লাভজনক হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ। তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ করার পক্ষে মতও দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। সরকারের এই সংস্থাটি বলেছে, তৈরি পোশাকে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করালে তুরস্কের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি লাভজনক হবে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। সূত্রটি আরও জানায়, ওই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মত নিয়ে এরই মধ্যে দু’দেশের মধ্যে এফটিএ করার খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে ট্যারিফ কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১০ সালে প্রণীত দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো দেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরুর আগে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি নিরূপণের লক্ষ্যে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে লক্ষ্যে আমরা একটি সমীক্ষা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। ওই স্টাডির ওপর ভিত্তি করে একটি এফটিএ খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তৈরি পোশাক রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পেলেও তুরস্কের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। দেশটি তার দেশের শিল্প সুরক্ষার অজুহাত তুলে তৈরি পোশাকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ২০১০ সালে। ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি তুরস্ক সরকার অনলাইনে নোটিস দিয়ে জানায়, তারা তাদের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে রক্ষার জন্য তৈরি পোশাক শিল্প আমদানির ওপর সেফ গার্ড ডিউটি আরোপ করে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে ফিলিস্তিন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায় ফিলিস্তিন। এজন্য তারা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতেও আগ্রহী। তবে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পর এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মালয়েশিয়ায়ও আরও বেশি শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চায় বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া বর্তমানে ২৯৭টি পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। তবে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে সম্মতির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার কাছে আরও বেশি পরিমাণ পণ্যে এই সুবিধা পেতে ইতোমধ্যে একটি অগ্রাধিকারমূলক তালিকা তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই তালিকায় আরও প্রায় অর্ধশত পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দু’দেশের মধ্যে অসম বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও এফটিএ করার বিষয়টি জোরালোভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশটিতে প্রতিবছর ১৩৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারই রফতানি হয় পোশাক সামগ্রী। অন্যদিকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করছে। ফলে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি দৃশ্যমান অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। আর এ কারণেই দু’দেশের বাণিজ্য উন্নয়নে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এফটিএ গঠনের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত এফটিএ পলিসি গাইডলাইন ২০১০-এর আওতায় বর্তমানে মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জোরালো কাজ করছে।
এ ছাড়া চীনের সঙ্গে এফটিএ’র উদ্যোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অগ্রগতি খুবই কম বলে ট্যারিফ কমিশন সূত্রে জানা গেছে। তাছাড়া এসব দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি যাচাইয়ে এখন কাজ করছে ট্যারিফ কমিশন।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• আইসিডি : বন্দর চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে সাংসদদের বিরোধিতা
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters