বাজেট থেকেই ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ [ অর্থ-বাণিজ্য ] 20/03/2017
বাজেট থেকেই ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ
মূলধন ঘাটতি পূরণে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে আপাতত বাজেট থেকেই টাকা দেওয়া হবে। টাকা পাবে তারা আগামী এক মাসের মধ্যেই। সচিবালয়ে গতকাল রোববার ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ও দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংককে এখন থেকে আলাদা করে দেখা হবে এবং এ ব্যাংককে আরও টাকা দেওয়া হলে তা গর্তে বা জলে পড়বে না। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানসহ বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা (এমডি) উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি মালিকানাধীন প্রত্যেকটি ব্যাংকই দুর্বল ব্যাংক। হয় এদের মূলধন ঘাটতি আছে, নয় তো আছে প্রভিশন ঘাটতি। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে দুটি সিদ্ধান্ত বেরিয়ে এসেছে। বাজেট থেকে টাকা দেওয়া ও বেসিক ব্যাংককে অন্য সবার থেকে আলাদা করে দেখা। বেসিক ব্যাংক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর সমস্যাগুলো অন্যদের থেকে আলাদা। ব্যাংকটির নতুন নেতৃত্ব ভালো কিছু কাজ করেছে। যারা টাকা নিয়েছিল, তাদের আবিষ্কার করেছে। তাদের আবিষ্কার করাটাই একটা বড় মুশকিলের ব্যাপার ছিল। বিভিন্ন দেনা-পাওনার হিসাবও করেছে ব্যাংকটি।’ বেসিক ব্যাংককে অন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমমানে বিবেচনা করা যাবে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকটিকে পরিচর্যা (নার্সিং) করতে হবে। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভবিষ্যতে যখনই ব্যাংক খাত নিয়ে আলোচনা হবে, তা থেকে বেসিক ব্যাংককে আলাদা রাখা হবে।’ হাসতে হাসতে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংক সামনে থাকলে সবাই এটা নিয়ে কথা বলেন। আর কোনো আলোচনা করা যায় না। বেসিক, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের মোট ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগে দেখতে হবে বন্ড ছাড়ার সক্ষমতা ব্যাংকগুলোর আছে কি না, বা ব্যাংকগুলো বন্ডের বিষয়টা চর্চা (এক্সারসাইজ) করতে পারবে কি না। তবে এ বিষয়ে আরও আলোচনা চলবে।’ বাজেট থেকে কোন কোন ব্যাংক টাকা পাচ্ছে, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পরে জানবেন। কারণ, এটা জনস্বার্থের তথ্য। জানানো যাবে।’ বেসিক ব্যাংককে টাকা দেওয়া মানে কি গর্তে টাকা ফেলা নয়, এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, না, না। এটা সত্য নয়। বেসিক ব্যাংককে এখন টাকা দিলে তা গর্তে বা জলে পড়বে না।’ এ সময় পাশে থাকা অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক এবার কিছু মুনাফাও করেছে।’ বেসিক ব্যাংকে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে মূলত আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থাকার সময়। ওই সময় ব্যাংকটি থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যায়। সরকার এরপর দুই বছরে বেসিক ব্যাংককে ২ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দিয়েছে। আবদুল হাই বাচ্চুসহ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির কী হবে, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) কাছে কাগজপত্র আছে। তারাই ব্যবস্থা নেবে। অপেক্ষা করেন, দেখেন।’ সোনালী, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মূলধন ঘাটতি বর্তমানে ১৫ হাজার কোটি টাকা আর চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকগুলোকে দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখা আছে ২ হাজার কোটি টাকা। এত পার্থক্য কীভাবে সমন্বয় করা হবে, জানতে চাইলে জবাব এড়িয়ে যান অর্থমন্ত্রী।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ছিল বাংলাদেশের
• সরকারি ব্যাংকে ডিএমডি হওয়ার যোগ্য ৪২ জিএম
• ব্যাংকিং চ্যানেলে জঙ্গি অর্থায়ন হয়েছে
• তথ্য-প্রমাণের ঘাটতি দূর করার চেষ্টায় সিআইডি
• ডলারের বিপরীতে দুর্বল হচ্ছে টাকা
• লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর
• সিএসআর ব্যয় নিয়ে বিপাকে নতুন ব্যাংকগুলো
• অফশোর ব্যাংকিংয়ে ৪০ হাজার ৫শ কোটি টাকার ঋণ
• এসএমই খাতে নজর কম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের
• কড়াকড়িতে কমেছে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters