Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা [ শেষের পাতা ] 21/03/2017
সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা
হারুন-অর-রশিদ :

টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রতিবছর নতুন নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছরে ব্যাংকগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। গত বছরের তুলনায় যা বেড়েছে ২০ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলেও বাড়ানো হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএমই ও কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। বছরের শুরুতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই তাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়। স্বনির্ধারণী ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বাধ্যতামূলক। এসব ঋণ বিতরণ করা হয় স্বল্পসুদে। চলতি বছর এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। যদিও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণ করে এক লাখ ৪১ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা।

এসএমই ঋণের মধ্যে চলতি বছর নতুন উদ্যোক্তারা পাবেন ২১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা, গত বছর যা ছিল ১৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুনদের মধ্যে ঋণ বিতরণের এ লক্ষ্য বাড়ানো হয়েছে ২০ দশমিক ২২ শতাংশ। নতুন নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। গত বছর নতুন নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ছিল এক হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি বছর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে ১৫ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করবে, যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়ে ১৫ শতাংশ বেশি। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা ২৬ শতাংশ বাড়িয়ে করেছে এক হাজার ৩০ কোটি টাকা। তবে এ খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ (৫২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা) বিতরণ করবে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। গত বছরের ৪৪ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা লক্ষ্যের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।

বিদেশি ব্যাংকগুলো অবশ্য গত বছরের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ শতাংশ কমিয়ে এক হাজার ৩০৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। আগের বছর তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ১৫ কোটি টাকা। এককভাবে ইসলামী ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা ৪৭ হাজার ২১৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছরের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা ৩১ শতাংশ বাড়িয়ে সাত হাজার ১৭২ কোটি টাকা বিতরণ করবে, গত বছর যা ছিল পাঁচ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা।

এদিকে গত বছর এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও খেলাপি ছিল অনেক বেশি। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এসএমই খাতে এক লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা ঋণ স্থিতির মধ্যে ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ২৩ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে খেলাপি ঋণের হারের তুলনায় এসএমই খাতেই বেশি।

চলতি বছর খাতওয়ারী হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৭১ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ব্যবসা খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের জন্য এবার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬২ হাজার কোটি টাকা থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবেন শিল্প স্থাপনকারীরা। শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গত বছর তাদের ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল ৩৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। সেবা খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা, যা গত বছর ছিল ১৩ হাজার ৯০৪ কোটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ৪৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া কটেজ উদ্যোক্তারা তিন হাজার ৭০৯ কোটি, মাইক্রো উদ্যোক্তারা ১৭ হাজার ৯০৯ কোটি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ৫৪ হাজার ২৭৮ কোটি, মাঝারি উদ্যোক্তারা ৫৭ হাজার ৯৫৫ কোটি, গ্রামাঞ্চলের উদ্যোক্তারা ৩৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা ঋণ পাবেন।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters