টেলিযোগাযোগ খাতের তহবিলে প্রকল্প হচ্ছে আইসিটি বিভাগের [ শেষ পাতা ] 18/04/2017
টেলিযোগাযোগ খাতের তহবিলে প্রকল্প হচ্ছে আইসিটি বিভাগের
বাছির জামাল :

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (এসওএফ) টাকা থেকে ‘কানেকটেড বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। প্রকল্পের আওতায় ৭৭২টি ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা।
যে কোনো সংস্থাকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দাতা সংস্থা অথবা সরকারি অর্থায়নের (জিওবি) ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা পেতে জিওবি অথবা কোনো দাতা সংস্থার সহায়তা না নিয়ে এসওফের টাকা পাওয়ার জন্য চলছে জোর তৎপরতা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডোমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) ২৪তম সভায় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের একটি বিশাল অঙ্কের টাকা আইসিটি বিভাগের ওই প্রকল্পে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ গত বছরের ডিসেম্বরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় টেলিযোগাযোগভিত্তিক পাঁচটি খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। তবে টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত কার্যক্রমে এই টাকা খরচ করা হলে তা যথার্থ হতো বলে মন্তব্য করেছেন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বিষয়টি অনেকেই পছন্দ করছেন না।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এই টাকা দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ফলে দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষগুলো তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পাবে।

টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিটিআরসির সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল গঠন করা হয়েছিল টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য। পাশাপাশি এই অর্থ দিয়ে টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত গবেষণা করার জন্য। কিন্তু টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে এসওএফের অর্থ ব্যয় না করে তা আইসিটি বিভাগকের কাজে ব্যয় করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত হবে তা বোধগম্য নয় বলে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

উল্লেখ্য, টেলিযোগাযোগ সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০১০-এর ২১ (ক) ধারা অনুযায়ী ২০১১ সালে গঠন করা হয় এসওএফ। একই বছরের শেষ দিকে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। বার্ষিক আয়ের ১ শতাংশ হিসাবে এ তহবিলে জমা দেয়ার বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত ছয় বছরে বিটিআরসির সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে (এসওএফ) টাকা জমেছে ১১০০ কোটি টাকার বেশি। এ তহবিলে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল ছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতে আরো অন্যান্য অপারেটর টাকা জমা দিলেও সিটিসেল ও টেলিটকের জমার পরিমাণ এখনো শূন্য।

এ তহবিলে ২০১১ সালেই জমা পড়ে ২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পরের বছর জমা হয় ১৭৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এভাবে প্রতি বছরই মোবাইল অপারেটরদের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে এ তহবিলে টাকার পরিমাণও বাড়ছে। বিটিআরসির প্রস্তাবনা অনুসারে সরকার এ তহবিলের অর্থ ব্যবহারের জন্য ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার অনুমোদন দেয়। ওই বছরের জুনে এটি অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই বিধিমালার আলোকে তহবিল ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি।

বিধিমালা অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ আইনের ধারা ২১ (ক)-এর অধীনে গঠিত এসওএফ ও ধারা ২১-এর অধীনে গঠিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন তহবিলকে একীভূত করা যাবে না। তবে কমিশন এসওএফের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। বিধিমালায় তহবিল ব্যবস্থাপনায় ১১ সদস্যের কমিটি গঠনের উল্লেখ রয়েছে। এ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। এ ছাড়া কমিটির সদস্য রয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসি চেয়্যারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। তহবিলের ব্যবহারের বিষয়ে বিধিমালায় বলা হয়েছে, দেশের যেসব দুর্গম এলাকায় এখনো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি সেসব স্থানে এ সুবিধা বিস্তৃত করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসওএফের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা বা ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

এতদিন এই তহবিলের খরচের নীতিমালা না থাকায় এই খাত থেকে কোনো ধরনের অর্থ ব্যবহার করা যায়নি। তবে এবার এই তহবিল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সহায়তা পেতে চায় আইসিটি বিভাগ। যদিও এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিটিসিএলকে দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য এই খাত থেকে অর্থ দেয়ার জন্য বলা হলেও সে সময় বিটিআরসির পক্ষ থেকে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। যদি এবার আইসিটি বিভাগকে এই খাত থেকে অর্থ ছাড় দেয়া হয় তাহলে অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থাও অর্থ পেতে চাইবে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন সেন্টার গড়ে তোলার জন্য এই খাতে অর্থ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ সহায়তা পাব সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• ফোরজি নিয়ে সরকারের সঙ্গে দেনদরবারে অপারেটররা
• টেলিনর ইন্ডিয়া অধিগ্রহণে অংশীদারদের অনুমোদন পেল ভারতী এয়ারটেল
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters