জিডিপির তুলনায় দেশের পুঁজিবাজার এশিয়ায় সর্বনিম্নে [ শেষের পাতা ] 21/04/2017
জিডিপির তুলনায় দেশের পুঁজিবাজার এশিয়ায় সর্বনিম্নে
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ
আহসান হাবীব রাসেল :

জিডিপির (দেশজ মোট উত্পাদন) তুলনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। আর মোট বাজার মূলধনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট হলো শ্রীলঙ্কার কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধনের আকার সবচেয়ে বড় হংকং স্টক এক্সচেঞ্জের। এখানকার জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধন এক হাজার ৮৭ শতাংশ। সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন জিডিপির ২৩৪ শতাংশ। আর ডিএসই’র বাজার মূলধন জিডিপির ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের বাজার মূলধন জিডিপির ৭৮ শতাংশ, পাকিস্তানের ৩৩ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ২১ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ১১৪ শতাংশ এবং ফিলিপাইনের ৮০ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের মানুষের সঞ্চয় বাড়ছে। ফলে মানুষের হাতে টাকা রয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণার অভাব রয়েছে। তাই সুদের হার কম হওয়ার পরও মানুষ ব্যাংকেই টাকা রাখছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছে না। অর্থনীতি যেভাবে বড় হচ্ছে সেভাবে পুঁজিবাজারের মূলধন না বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, মানুষের মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ে কিছু নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। মানুষ মনে করে, শেয়ারবাজার মানেই ধস, শেয়ারবাজার মানেই কারসাজি। এর বাইরেও যে বাজারে ভালো কোম্পানি রয়েছে, যেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়, সে ধারণা মানুষের মধ্যে খুব একটা নেই। তাছাড়া আমাদের দেশে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসিও খুবই কম। ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও কম।

ডিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশের  পুঁজিবাজারে সাধারণত মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ভালো মুনাফা করে। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ইউনিট ক্রয় করে। এতে বাজারের মূলধন অনেক বেশি হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেনি। ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোও আশানুরূপ মুনাফা করতে পারেনি। এতে সাধারণ মানুষের শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ হয়নি বললেই চলে। অথচ ভারতে যারা পুঁজিবাজার সম্পর্কে কিছুই বুঝে না তারাও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট কিনে বছর বছর ভালো মুনাফা পায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার ২০৪১-এর মধ্যে দেশকে ‘উন্নত দেশে উন্নীত’ করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা বাস্তবায়নে দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান অনেক বাড়াতে হবে। এজন্য মানুষের মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। সরকারকে পুঁজিবাজার-বান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার মাধ্যমে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পুঁজিবাজার- জাপান, হংকং এবং ভারতে। এর মধ্যে জাপানের টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন পাঁচ হাজার ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। হংকং এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন তিন হাজার ৪৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন এক হাজার ৭৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর ডিএসইর বাজার মূলধন মাত্র ৩৯ বিলিয়ন ডলার।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• শিল্প-বাণিজ্যের অর্থায়ন পুঁজিবাজার থেকে কম হচ্ছে
• টানা পতন শেষে ইতিবাচকতা
• অর্থনীতির তুলনায় পুঁজিবাজারের আকার নগণ্য
• ডিএসইতে পিই রেশিও অপরিবর্তিত
• ফিক্সড প্রাইস মেথডে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়তে হবে
• ভালো লভ্যাংশ দেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters