জাহাজ নির্মাণ শিল্পে গড়তে পারেন ভবিষ্যৎ [ আলোকিত তারুণ্য ] 14/05/2017
জাহাজ নির্মাণ শিল্পে গড়তে পারেন ভবিষ্যৎ
আপনি কি ডিপ্লোমা বা গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী? চাকরিতে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে আপনার ভেবে থাকা খাতগুলোর সঙ্গে আরেকটি সম্ভাবনাময় খাত যোগ করতে পারেন। সেটি হলো ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্প’।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের অন্তর্ভুক্ত জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ খাতের কাজে শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সুযোগ রয়েছে।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কাজের সম্ভাবনার বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে প্রথম জাহাজ রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান আনন্দ গ্রুপের কারিগরি পরিচালক (টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) সাইফুল ইসলাম বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের কাজগুলো মূলত টেকনিক্যাল বিষয়। এ কারণে প্রকৌশল বিষয়ে পড়া লোকদের এখানে কাজের ভালো সুযোগ রয়েছে।

জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে মূলত নেভাল আর্কিটেক্ট, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বেশি লাগে। ডিপ্লোমা ও গ্র্যাজুয়েট উভয় ধরনের প্রকৌশলীরই দরকার পড়ে। তবে দেশে বর্তমান অবস্থায় ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের কাজের সুযোগ এখনও তুলনামূলক বেশি রয়েছে।

এক্ষেত্রে নিয়োগের বেলায় কোন কোন বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়Ñ এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত সব চাকরিপ্রত্যাশীকে ইংরেজি, গণিত ও মানসিক দক্ষতার ওপর একটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। সেখান থেকে প্রত্যাশিত নম্বর অর্জনকারীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় চাকরিপ্রত্যাশী জাহাজ নির্মাণসংশ্লিষ্ট যে বিষয়ে কাজ করবেন, সে বিষয়ে তার দক্ষতা ভালোভাবে পরখ করে দেখা হয়। লোক নিয়োগের জন্য বিভিন্ন পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালগুলোয় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়।

এসব ক্ষেত্রে অর্জিত ফল তথা একাডেমিক রেজাল্ট কতটা গুরুত্ব বহন করে, এ বিষয়ে আনন্দ গ্রুপের ওই কর্মকর্তা বলেন, অবশ্যই ভালো একাডেমিক রেজাল্টের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। তবে লোক নিয়োগ করতে গিয়ে দেখা গেছে, খুব ভালো ফল অর্জন করেছেন; কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তেমন দক্ষ নন। আবার ভালো একাডেমিক ফল না করে মোটামুটি কাজ ভালো করছেন। তবে প্রার্থীকে অর্জিত ফলের সঙ্গে অবশ্যই বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কাজে যোগদানের সময় বেতনের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, আনন্দ শিপইয়ার্ডে সাধারণত সদ্য পাস করা ডিপ্লোমাধারী মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করেন। আর গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় কাজ শুরু করেন। এছাড়া কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী তারা অন্যান্য সুবিধা পান। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছরই কাজের ভিত্তিতে ইনক্রিমেন্ট ও ইনসেনটিভ দেয়। অভিজ্ঞ প্রার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী আরও বেশি বেতন পান।

বাংলাদেশে এ খাতের সম্ভাবনার বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে আনন্দ শিপইয়ার্ড ও ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড এরই মধ্যে বিদেশে জাহাজ রফতানি করেছে। এছাড়া দেশে আরও অন্তত আটটি শিপইয়ার্ড রফতানি-উপযোগী জাহাজ নির্মাণ করার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে। সরকারি ডকইয়ার্ডের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১০০টির বেশি ছোট ও মাঝারি ধরনের ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে।

কাজেই দিন দিন এ খাতে কাজের সুযোগ বাড়ছে। দেশের বাইরে কাজের সুযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশে এ শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, কাতার, সৌদি আরবসহ নৌপথে আমদানি-রফতানির সঙ্গে যুক্ত অনেক দেশেই চাকরি সুযোগ রয়েছে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোয় অভিজ্ঞ কর্মীদের ভালো বেতন দেয়া হয়। দেশের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বেতন পাওয়া যায়। দেশে এ খাতে ২ থেকে ৩ বছর কাজ করলেই আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগ উন্মুক্ত হয়ে যায়। কাজেই এ খাতে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন!
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• ২০ দিন অপেক্ষার পর পণ্য খালাস
• চট্টগ্রাম বন্দরে আড়াই ঘণ্টা বন্ধ কনটেইনার স্ক্যানিং
• রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ ভাগ মালিকানা পাচ্ছে চীন
• বাণিজ্য বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত নয় বেনাপোল-পেট্রাপোল
• চট্টগ্রাম বন্দরে ১ ঘণ্টা স্ক্যানিং বন্ধ
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters