খোলা পণ্যের আমদানি বাড়লেও পিছিয়ে পরিচালন ব্যবস্থাপনা [ প্রথম পাতা ] 16/05/2017
চট্টগ্রাম বন্দর
খোলা পণ্যের আমদানি বাড়লেও পিছিয়ে পরিচালন ব্যবস্থাপনা
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পণ্যই আসে খোলা অবস্থায়; বাল্ক জাহাজে করে। আমদানির এ হার প্রতি বছরই বাড়ছে। অথচ আমদানিকৃত খোলা পণ্য খালাসের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই চট্টগ্রাম বন্দরের। এসব পণ্য অভ্যন্তরীণ নৌপথে পরিবহনের ক্ষেত্রেও রয়েছে লাইটার জাহাজের সংকট। পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতে খালাস হওয়ায় পণ্যের অবচয় ও চুরির ঘটনা ঘটছে অহরহ।

মূলত কনটেইনারের তুলনায় বাল্ক জাহাজে পণ্য পরিবহনে খরচ কম হওয়ার কারণে খোলা পণ্যের আমদানি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রায় পাঁচ কোটি টন বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ২৯ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে কনটেইনারে করে। বাকি ৩ কোটি ৭১ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে বাল্ক জাহাজ, অয়েল ট্যাংকার ও ব্রেক জাহাজের মাধ্যমে। বাল্ক জাহাজে পণ্য খোলা অবস্থায় ও ব্রেক জাহাজে বস্তাবন্দি অবস্থায় আমদানি করা হয়। আর জ্বালানি ও ভোজ্যতেল আসে অয়েল ট্যাংকারে করে।

কনটেইনার ছাড়া আমদানিকৃত অন্য পণ্যগুলোকে খোলা পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে মোট আমদানির প্রায় ৭৪ শতাংশই খোলা পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে— কয়লা, জ্বালানি ও ভোজ্যতেল, সিমেন্ট ক্লিংকার, স্ক্র্যাপ ভেসেল, অপরিশোধিত চিনি, বিটুমিন, কয়েল ও গমসহ বিভিন্ন খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য। এসব পণ্যবাহী জাহাজের সিংহভাগই চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে না। আমদানিকারকরা এসব পণ্য বহির্নোঙর থেকে লাইটার জাহাজে করে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত ১৬টি বাণিজ্যিক ঘাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খালাস করে থাকেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের বেশকিছু অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের জন্য নির্মাণসামগ্রী ও আনুষঙ্গিক কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে। এসব পণ্য সাধারণত বাল্ক জাহাজেই আমদানি হয়ে থাকে। এছাড়া দেশে চাহিদা বাড়ায় জ্বালানি ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের আমদানিও বেড়েছে। বন্দরের যন্ত্রপাতির সংকট নিরসণে কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। ফলে জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য নামানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। মূলত এসব কারণেই গত বছরের তুলনায় বাল্ক জাহাজে পণ্য আমদানি বেড়েছে।

বন্দরের একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ২ হাজার ৩১৪টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়েছে। এর মধ্যে বাল্ক জাহাজ ছিল ১ হাজার ৩২৭টি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৯৬টি। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে বাল্ক জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে ১৩১টি বা ১১ শতাংশ।

তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাল্ক জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব জাহাজে পণ্য আমদানির পরিমাণও বেড়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ১ হাজার ৫৫টি বাল্ক জাহাজে আমদানি হয়েছিল ২ কোটি ৬৪ লাখ টন পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ১৯৬টি বাল্ক জাহাজে আমদানি হয় ৩ কোটি ১৪ লাখ টন পণ্য। আর চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ১ হাজার ৩২৭টি বাল্ক জাহাজে আমদানি হয়েছে ৩ কোটি ৭১ লাখ টন পণ্য। অর্থাত্ গত তিন বছরে খোলা পণ্যের আমদানি বেড়েছে ১ কোটি ৩ লাখ টন বা ৩৮ শতাংশ।

ব্যবসায়িক সংগঠন, চট্টগ্রাম বন্দর ও ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি রয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে একাধিকবার যন্ত্রপাতি কেনার দরপত্র আহ্বান করা হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। সেসঙ্গে দেশে নতুন লাইটার জাহাজ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় নৌপথে পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি ও ব্যয় বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে প্রায় দেড় হাজার লাইটার জাহাজ রয়েছে। তবে বর্তমানে সচল রয়েছে এক হাজারের মতো। এর মধ্যে ১৭৯টির মালিক বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লাইটার জাহাজ সংকট নিরসনে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ বলেন, মূলত পণ্য খালাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লেগে যাওয়ার কারণেই লাইটার জাহাজ সরবরাহে সংকট হচ্ছে। পণ্য খালাসে সনাতনী পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে পণ্য খালাসে অতিরিক্ত সময় লাগছে। সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, একসঙ্গে বেশি পণ্য পরিবহনের সুবিধার কারণে বাল্ক জাহাজে করে আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়া সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য সাধারণত বাল্ক জাহাজে করেই আমদানি করা হয়। তবে এক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আর তা হলো লাইটার জাহাজ সহজে ভাড়া না পাওয়া। এদিকে বন্দরের যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে পণ্য খালাসেও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। সনাতন পদ্ধতিতে খালাস হওয়ায় পণ্যের অবচয় হচ্ছে। বহির্নোঙরে পর্যাপ্ত টহলকর্মী না থাকায় পণ্য চুরির ঘটনাও ঘটছে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• মাহবুব উল আনাম বাফার সভাপতি পুনর্নির্বাচিত
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters