বীমার প্রিমিয়াম হার নির্ধারণে বাধা কাটল [ শেয়ারবাজার ] 16/05/2017
বীমার প্রিমিয়াম হার নির্ধারণে বাধা কাটল
প্রিমিয়াম হার নির্ধারণ করাসহ সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির আর কোনো বাধা থাকল না। গত বছরের ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ বীমা খাতের স্পেশাল রেট নিয়ে আবুল খায়ের মিল্ক প্রডাক্ট ও পিএইচপি গ্রুপের করা রিট দুটি খারিজ হয়েছে। যার সার্টিফাইড কপি ৫ মে পেয়েছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ফলে এখন থেকে বীমা কোম্পানির প্রিমিয়াম হার নির্ধারণে সিআরসির আর কোনো বাধা নেই।

জানা যায়, রিট দুটি খারিজ করেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট এমএ হান্নান এবং আইডিআরএর পক্ষে অ্যাডভোকেট নাহিদ মাহতাব মামলা পরিচালনা করেন।

হাইকোর্ট বেঞ্চের আদেশ থেকে জানা গেছে, মামলার সংশ্লিষ্ট ২৪ নম্বর সার্কুলারটি আগেই প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানান আইডিআরএর আইনজীবী নাহিদ মাহতাব। সঙ্গত কারণেই রিট মামলা দুটি নিষ্ফল। কাজেই রিট দুটিতে জারি করা রুল প্রত্যাহার এবং রিট দুটি খারিজ করার প্রার্থনা জানান নাহিদ। এ আবেদন বিবেচনা করে রুল প্রত্যাহারসহ রিট দুটি খারিজ করে আদেশ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

জানা যায়, আইনি জটিলতায় পড়ে দুই বছর আগে নন-লাইফ বীমার বিশেষ মূল্যহার-সংক্রান্ত ২৪ নম্বর সার্কুলার প্রত্যাহার করে নেয় আইডিআরএ। কিন্তু হাইকোর্টে রিট মামলা নিষ্পত্তি করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বন্ধ থাকে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির (সিআরসি) কার্যক্রম।

এর আগে ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট নন-লাইফ বীমা খাতে বিশেষ মূল্যহার (স্পেশাল রেট) তুলে দিয়ে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইডিআরএ। পরে ওই বছরই ২৮ সেপ্টেম্বর এ প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করে আবুল খায়ের মিল্ক প্রডাক্ট। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করে আদেশ দেন। অন্য একটি রিট করেন পিএইচপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী। এ রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করেন।

এ অবস্থায় বীমা আইন ২০১০ অনুসারে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠিত না হওয়ায় নন-লাইফ বীমা খাতে প্রিমিয়াম নির্ধারণী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রিমিয়াম হার নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণকারী কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় এ সুযোগটি কাজে লাগায় কোম্পানিগুলো। অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে নন-লাইফ বীমা খাত। আইডিআরএর কাছে রেট চেয়ে আবেদন করেই ব্যবসা করতে থাকে। রেট যাচাইয়ে আইডিআরএর কোনো সুযোগ না থাকার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে কোম্পানিগুলো। এতে কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম ও রাজস্ব আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ অবস্থা চলে আসছে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।

বীমা আইন ২০১০-এর ১৭ ধারা অনুসারে, প্রিমিয়ামের নতুন মূল্যহার ধার্য অথবা পরিবর্তন, সংশোধন, বাতিল বা জারি করতে হলে আইডিআরএকে আগে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠন করতে হবে। প্রিমিয়াম মূল্যহার-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। কিন্তু সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠন না করেই এ সার্কুলারটি জারি করে আইডিআরএ।

জানা যায়, ২০১১ সালে ২৭ জানুয়ারি এম শেফাক আহমেদ অ্যাকচুয়ারিসহ আরো তিন সদস্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে আইডিআরএ গঠিত হয়। কর্তৃপক্ষ গঠনের পর ওই বছরেরই আগস্টে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয়ের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়াতে বিশেষ মূল্যহার তুলে দেয়া হয়।

এদিকে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারিতে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি প্রবিধান পাস করে সরকার। একই সঙ্গে ওই বছরের এপ্রিলে রেটিং কমিটি গঠনও করা হয়। কিন্তু বিশেষ মূল্যহার-সংক্রান্ত ২৪ নম্বর সার্কুলারের ওপর আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় রেটিং কার্যক্রম শুরু করতে পারে না নবগঠিত সিআরসি। পরবর্তীতে জটিলতা নিরসনে আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চায় বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সরকারি এ সংস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইডিআরএর আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ এক মতামতে জানান, নতুন বীমা আইন ২০১০ অনুসারে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠন না করা পর্যন্ত মূল্যহার সংশোধন-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার আইডিআরএর নেই।

ফলে ২৪ নম্বর প্রজ্ঞাপনটি আইনসম্মত ছিল না। এ অবস্থায় ২৪ নম্বর প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের পরামর্শ দেন তিনি। এ পরামর্শ অনুসারে ২৪ নম্বর সার্কুলারটি বাতিল করা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters