এয়ারটেলের টিকোনা অধিগ্রহণ আটকাতে চায় জিও [ ] 18/05/2017
এয়ারটেলের টিকোনা অধিগ্রহণ আটকাতে চায় জিও
ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগের (ডিওটি) কাছে এয়ারটেলের টিকোনা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অধিগ্রহণ আটকে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে রিলায়েন্স জিও ইনফোকম লিমিটেড। মুকেশ আম্বানির টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান জিওর অভিযোগ, ভারতী এয়ারটেল দেশের একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) নীতিমালার অপব্যবহার করছে। এছাড়া এয়ারটেল-টিকোনা একীভূতকরণ চুক্তি আলোর মুখ দেখলে সরকারকে ২১৭ কোটি রুপি রাজস্ব হারাতে হবে বলে দাবি জিওর। খবর লাইভ মিন্ট, ইকোনমিক টাইমস ও ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

টেলিযোগাযোগ বিভাগকে দেয়া এক চিঠিতে জিওর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টিকোনার সঙ্গে এয়ারটেলের ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপির চুক্তিটি একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ হিসেবে দেখানো হলেও তা আদতে একটি স্পেকট্রাম ট্রেডিং ডিল। এয়ারটেল ফোরজি ব্যবসা একীভূতকরণ সংক্রান্ত ফি পরিশোধ না করা পর্যন্ত টেলিযোগাযোগ বিভাগের চুক্তিটিতে অনুমোদন দেয়া উচিত হবে না। কারণ এয়ারটেল মূলত এই চুক্তির মাধ্যমে টিকোনার ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস স্পেকট্রাম ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার লাইসেন্সের আওতায় নিতে চায়। এর ফলে ভয়েস কল সেবা দিতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। এটা একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ নীতিমালার আওতায় পড়ে না। চুক্তিটি অনুমোদন দেয়া হলে সরকারকে অবশ্যই ১ হাজার ৬৫৮ কোটি রুপি ফেরত দিতে হবে; যা মুকেশ আম্বানির টেলিযোগাযোগ কোম্পানি ২০১৩ সালে পরিশোধ করেছিল।  

এয়ারটেলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তার কোম্পানি অতীতেও বিভিন্ন নীতিমালা মেনে চলেছে, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তাই আমাদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের যে অভিযোগ উঠেছে তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। জিওর নেয়া পদক্ষেপ প্রতিযোগিতা রুখে দেয়ার উদ্যোগ ছাড়া কিছুই নয়।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইএসপি লাইসেন্সধারী একটি কোম্পানি গ্রাহকদের শুধুমাত্র ডাটাসেবা দিতে পারে। এ ধরনের কোম্পানি টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সঙ্গে একীভূতকরণের মতো কোনো পদক্ষেপের দিকে এগোলে ইউএল নীতিমালার আওতায় কোম্পানিটির আইএসপি ভয়েস সার্ভিসের জন্য ব্যবহূত হয়। এ অবস্থায় ইউএল লাইসেন্স ও আইএসপি লাইসেন্স ফিয়ের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে তা সরকারের কাছে পরিশোধ করতে হয়। একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত দুই কোম্পানিকেই এই অর্থ দিতে হয় বলে জানিয়েছে জিও। এই নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তা একীভূতকরণ নীতিমালার অপব্যবহার বলে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, এ ধরনের ঘটনায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়। ফলে এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই প্রতিরোধ করা উচিত।

টেলিযোগাযোগ বিভাগকে পাঠানো চিঠিতে জিও অভিযোগ করে, ২০১৩ সালে এয়ারটেল ব্রডব্যান্ড সার্ভিসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সময় এমঅ্যান্ডএ নীতিমালার দূর্বলতার অপব্যবহার করেছিল। এ জন্য কোম্পানিটিকে ৪৩৬ কোটি রুপি জরিমানা ধার্য করা হয়। যদিও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল এয়ারটেল।

এদিকে গত ২৪ মার্চ এয়ারটেলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা টিকোনা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ফোরজি ব্যবসা কিনে নিচ্ছে। এই ফোরজি ব্যবসার মধ্যে ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস স্পেকট্রাম ও ৩৫০ সেলুলার সাইট রয়েছে। চুক্তিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি।

টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে জিওর পাঠানো চিঠি ভারতে সংশ্লিষ্ট খাতে চলমান যুদ্ধকে আরো উসকে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি জিওর নেয়া এক পদক্ষেপের কারণে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে রীতিমতো যুদ্ধ করছে ভারতী এয়ারটেলসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। গত সেপ্টেম্বরে বিনামূল্যে বিভিন্ন ওয়েলকাম অফারের ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে জিও। কোম্পানিটির প্রতিদ্বন্দ্বীরা বলছে এটি জিওর ‘লুণ্ঠনমূলক’ কার্যক্রম।   

রিলায়েন্স জিওর কারণে ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতে তীব্র মূল্যযুদ্ধের সূচনা হয়েছে। বাধ্য হয়ে নিজেদের সেবার মূল্য কমাতে হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া জিওর কারণে দেশটির টেলিযোগাযোগ খাতে একীভূতকরণ প্রবণতা বেড়েছে। এরই মধ্যে কার্যক্রম একীভূত করার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উদ্যোগ নিয়েছে একাধকি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান। শুধু একীভূতকরণই নয়, জিওর প্রভাবে আয় কমেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ভারতী এয়ারটেলের নিট মুনাফা কমেছে ৭২ শতাংশ। অর্থবছর হিসেবে চতুর্থ প্রান্তিকে আকস্মিক নিট মুনাফা কমার জন্য রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের আগ্রাসী মূল্যনীতিকে দায়ী করা হচ্ছে।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
No link found
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters