যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বিমানের রেড ক্যাপ সেবা [ শেষ পাতা ] 19/05/2017
বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং
যাত্রী ভোগান্তি কমাতে বিমানের রেড ক্যাপ সেবা
মনজুরুল ইসলাম :

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মানোন্নয়নে গত এক বছরে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ফ্লাইট রিলিজের পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয়ে ‘রেড ক্যাপ’ সেবা চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এতে উড়োজাহাজ অবতরণের পর ব্যাগেজ সরবরাহের সময় কমিয়ে আনা গেছে বলে দাবি করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজের মধ্যে রয়েছে বোর্ডিং পাস ইস্যু, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, কার্গো লোড-আনলোড, এয়ারক্রাফট সার্ভিসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। দেশের বিমানবন্দরগুলোয় ফ্লাইট পরিচালনা করা এয়ারলাইনসগুলোকে এ সেবা দিয়ে থাকে বিমান। একটি উড়োজাহাজ অবতরণ ও উড্ডয়নের মাঝে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের পুরো বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় বিমানের মনোনীত একজন কর্মকর্তাকে, যাকে এ সময় ওই ফ্লাইটের বিষয়ে সব রকম সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেয়া আছে। আর এ সেবাকেই বলা হচ্ছে রেড ক্যাপ।

বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতি শিফটে চারজন করে মোট আটজন বিমান কর্মকর্তা রেড ক্যাপ সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। যদিও বিমানের জনবল কাঠামোয় রেড ক্যাপ পোস্টটি এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (কাস্টমার সার্ভিস) আতিক সোবহান বণিক বার্তাকে বলেন, গত নভেম্বরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে রেড ক্যাপ সেবা চালু করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গত নভেম্বর পর্যন্তও ফ্লাইট অবতরণের পর যাত্রীদের ব্যাগেজ সরবরাহে গড়ে ১ ঘণ্টার মতো সময় লাগত। এখন এ সময় ২০-৩০ মিনিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে দু-একটি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অনেক সময় বেশি সময় লেগে যায়।

বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান নিয়ে যাত্রী ও খাত-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যদিও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ আয় থেকেই বিমানের প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাবতীয় মাসিক বেতন-ভাতার টাকা পরিশোধ করা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বেও রয়েছে বিমান।

বিমানের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্রাউন্ড সার্ভিসের মান উন্নত করতে রেড ক্যাপের মতো সেবা চালুর পাশাপাশি গত কয়েক মাসে বেশকিছু আধুনিক যন্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। আধুনিক এসব সরঞ্জামাদি পরিচালনায় এরই মধ্যে ৪০ জনের মতো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরো ৩০ জনের মতো নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ব্যবহার হয় এমন আরো নতুন ৫০টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরেই যাত্রীরা এর সুফল পেতে শুরু করবেন।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন বছর আগে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার, যা বর্তমানে ৬০ হাজারে উন্নীত হয়েছে । প্রতিদিন ২৬৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে এ বিমানবন্দর থেকে। বর্তমানে ২৭টি বিদেশী ও চারটি দেশী এয়ারলাইনস কাজ করছে। কার্যক্রমে আসছে আরো নতুন এয়ারলাইনস। এ অবস্থায় বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিম্নমানের বলে অভিযোগ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

যাত্রী ও খাত-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণের পর বেল্টের মাধ্যমে যাত্রীর কাছে লাগেজ আসতে অনেক সময়ই ৩-৪ ঘণ্টা লেগে যায়। অনেক যাত্রীর লাগেজ পাওয়াও যায় না। বেশির ভাগ সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকেন না। ফলে যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়। এ কারণে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ লোকবল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতায় বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো দীর্ঘদিন একাধিক প্রতিষ্ঠানকে হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৮ মার্চ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে অংশীদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল বিমান। যদিও অংশীদারিত্বের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিমানের সব শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে বিমান শ্রমিক লীগের (সিবিএ) সভাপতি মশিকুর রহমান জানান, প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরে বাড়ছে ফ্লাইট ও যাত্রী সংখ্যা। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছরে বিমানে সে তুলনায় জনবল ও গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট বাড়ানো হয়নি। বোর্ডিং ব্রিজসহ যে পরিমাণ গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করলে বিমানই আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিতে সক্ষম। কিন্তু সেটা না করে আয়ের এ খাতটিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা কোনো অবস্থাই মেনে নেবেন না বিমানের কর্মচারীরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৭ লাখ যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে বছরে প্রায় এক লাখ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে। ২০১৮ সালে এ বিমানবন্দরে যাত্রী ওঠানামার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ লাখ।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• বদলে যাচ্ছে পাসপোর্ট সেবা
• হজযাত্রীদের সাথে প্রতারণায় এজেন্সি মালিকেরা
• ইউরোপে অবৈধভাবে থাকার সুযোগ আর থাকছে না
• প্রতারক গ্রুপ লিডারদের কাছে হজ এজেন্সিগুলো জিম্মি
• ৯৯৩ হজযাত্রীর ভিসার আবেদন জমা পড়েনি
• নভোএয়ারের সঙ্গে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চুক্তি
• অতিরিক্ত হজ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি এখনো মেলেনি
• ইইউ থেকে অবৈধ অভিবাসী ফেরাতে এসওপি সই হচ্ছে
• ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট
• জেদ্দায় ২৩ বাড়তি স্লটের অনুমতি পেয়েছে বিমান
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters