ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবেলা বড় চ্যালেঞ্জ [ শেষ পাতা ] 19/05/2017
ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবেলা বড় চ্যালেঞ্জ
রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধন ক্রমেই কমছে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংকিং মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বিগত বছরের তুলনায় কমছে। আবার সবশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে। এ ঘাটতি মোকাবেলা ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটরিয়ামে ‘ট্রেজারি অপারেশন্স অব ব্যাংকস-২০১৬’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ মন্তব্য করেন। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হোসেন, দি সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনুদ্দিনসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৬ সালে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক হিসাবের তুলনায় দ্বিগুণ। পুনঃতফসিল নীতিমালায় ছাড় দেওয়ার কারণে খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। এ ছাড়া আরও কিছু কারণে ব্যাংকিং খাতের জন্য খেলাপি ঋণ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তিন বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকিং খাতে মার্চ ’১৭ প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের বর্তমান দৈন্যদশার মূল কারণ। এ খেলাপি ঋণের কারণেই সুদের হার এখনও সাধারণের নাগালের বাইরে। একই সঙ্গে ভালো ঋণগ্রহীতারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ তদারকি করতে হবে।  
বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে সর্বনাশ ডেকে আনছে। এ অবস্থার উত্তরণ না হলে পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য চরম খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের ঋণের কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংকগুলো ভালো গ্রাহকদের কাছ থেকে চড়া সুদ নিচ্ছে।
এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক হতে হবে। সব ব্যাংকের প্রধানদের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর না দিলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাত নিয়ে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলায়, যা এ খাতের জন্য মঙ্গলজনক নয়। সরকারকে বছরের প্রথমেই একটি নকশা তৈরি করে দিলে এগুলো ব্যাংকের জন্য সুফল বয়ে আনবে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মেহেদি জামান, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান আরিকুল আরিফিন প্রমুখ।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• মোরশেদ খানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
• ব্যাংক লুটেরাদের নাম প্রকাশ করে বিচার করুন
• ঈদের আমেজ ব্যাংকপাড়ায়
• বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাঁচ ব্যাংক এশিয়ায়
• সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলেও স্বার্থ রক্ষা করা হবে পেনশনারদের
• ১৬ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে
• এটিএমের ৫০ বছর: ব্যাংকিংকে বদলে দিয়েছে যে যন্ত্র
• ভারতের অর্থবছর বদলে যাচ্ছে
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters