বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা চলছে [ অর্থ-বাণিজ্য ] 19/05/2017
বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা চলছে
ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসানুল আলম পারভেজ গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাংকটি সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং এই ব্যাংকের কোনো সমস্যা হওয়ার অর্থই হল সরকারেরও ক্ষতি এবং প্রয়োজনের সময় সরকারকেই এগিয়ে আসতে হয়। গতকাল মতিঝিলস্থ ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ এককভাবে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা মিথ্যা। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি জানতে আমাকে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন। প্রায় ৪০ মিনিট তার সঙ্গে কথা হয়। ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরিচালকের বক্তব্য বোর্ডের বক্তব্য হতে পারে না। তার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিব্রত।

উল্লেখ্য, গত ১১ মে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জানান যে, তাকে পদত্যাগের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তার পক্ষে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তার সরে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এরপর তিনি ১৩ মে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পর্ষদ সভায় যোগ দেন। ওইদিনই বিকেলে তার বনানীস্থ বাসভবনে গণমাধ্যমকে জানান, ইসলামী ব্যাংকের জাকাত ফান্ডের ৮০ ভাগ প্রধানমন্ত্রীর জাকাত তহবিলে দেওয়া, শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করাসহ বোর্ডসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন।

কার্যত তার দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল না বলে সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়ভাবে জানানো হয়েছে। এর আগে গত বুধবারও ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অনুরূপ দাবি করা হয়। সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হামিদ মিঞাসহ ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালক উপস্থিত থাকলেও ভাইস চেয়ারম্যান আহসানুল আলম উপস্থিত ছিলেন না।
আরাস্তু খান জানান, ইসলামী ব্যাংকের জাকাত ফান্ডে ৪৫০ কোটি টাকা রয়েছে বলে যে তথ্য তিনি (আহসানুল আলম) দিয়েছেন তা সঠিক নয়। মূলত ব্যাংকের জাকাত ফান্ডে সর্বমোট ৩৪৭ কোটি টাকা ছিল। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে আর ১৪৫ কোটি টাকা ট্যাক্স বাবদ পরিশোধের জন্য রাখা হয়েছে এবং ব্যাংকের ফান্ডে অবশিষ্ট ২৮ কোটি টাকা রয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি খাতের উদ্যোগ। এ ব্যাংকটি গত বছর ৪৫০ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এ অর্থ এর শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন, সরকার নয়। তিনি আরও জানান, বোর্ড মিটিংয়ে মূলত জাকাত ফান্ডের ট্যাক্স কোন খাত থেকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আরাস্তু খান একইভাবে আহসানুল আলমের দেওয়া সব তথ্যকে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ব্যাংকের ১৯ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, তারা কি চোর যে তাদের তথ্য পুলিশকে দিতে হবে। একইভাবে সিএসআর সুবিধাভোগীদের তালিকাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি বোর্ডসভার আলোচ্যসূচি বা বিধিতে এ ধরনের কোনো বিষয় ছিল না বলে তিনি জানান।
ব্যাংকের খোদ ভাইস চেয়ারম্যান বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন, এর সমাধান কি হতে পারে-এমন প্রশ্নের উত্তরে আরাস্তু খান বলেন, কোনো ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু শর্তে স্বাক্ষর করতে হয়। এতে বলা আছে, ব্যাংকের সভার গোপনীয়তা রক্ষা হয়। এমনকি পর্ষদ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হয়ে কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে কিছু বলা যাবে না। পর্ষদের কার্যবিবরণী শুধু ব্যাংকের চেয়ারম্যানই ব্যাখ্যা করতে পারেন। আরাস্তু খান বলেন, তিনি ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক। গত মিটিংয়েও আমি তাকে একসঙ্গে কাজ করব বলে জানিয়েছি। এরপরও তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে কথা বলছেন। যেহেতু স্বতন্ত্র পরিচালকের নিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মতিতে চূড়ান্ত হয়, এখন করণীয় নির্ধারণে তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে। তা ছাড়া তিনি নিজে থেকেও কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে আরাস্তু খান মন্তব্য করেন।

ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যান বলেন, স্বাধীন পরিচালক হিসেবে যদি ওনি (ভাইস চেয়ারম্যান) নিজে পদত্যাগ করেন সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। এটা আমার ব্যাপার নয়। তার থাকা বা পদত্যাগ নিয়ে ব্যাংকের ভেতর থেকে কোনো চাপ নেই।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) চার্টারের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। তারা বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর জন্য কাজ করে। তেমনিভাবে বাংলাদেশেও তারা দীর্ঘ শ্রম দিয়েছে। এখন ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এতে তারা ২ শতাংশ শেয়ার রেখে বাকিটা বিক্রি করতে চাচ্ছে। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বিভ্রান্তিকর তথ্যে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এখন যা কিছু সত্য ও সঠিক তা তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি বিভ্রান্ত দূর হয়ে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হামিদ মিঞা বলেন, ইভিপি পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা বদলিতে পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। পর্ষদ যখন যে ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে, তা পরিপালন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• খুলনাঞ্চলের অগ্রণী ব্যাংকে ১৯ শাখায় লোকসান
• ৩৩ রপ্তানি পণ্যে ভর্তুকি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
• পরিবেশবান্ধব কারখানার ঋণে সুদ কমল
• খেলাপি ঋণ সামান্য বেড়ে ৭৪ হাজার কোটি টাকা
• বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিতে বাচ্চুকে আসামি না করায় আদালতের উম্মা
• ক্রেডিট কার্ড এখন যন্ত্রণা
• নতুন পাঁচ খাতের রফতানিতে নগদসহায়তা
• গ্রাহকের ১৩৪ কোটি টাকা দিচ্ছে না চার্টার্ড ক্রেডিট
• ব্যাংক খাতে ৭৪ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ
• ৬ষ্ঠ এমটিবি ব্রেভারি এন্ড কারেজ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হলো মরহুম নবী হোসেন-কে
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters