বকেয়া বেতন পাচ্ছেন না সিটিসেলের কর্মীরা [ অর্থ-বাণিজ্য ] 19/05/2017
আইনি নোটিশ পাঠিয়েও সাড়া মিলছে না
বকেয়া বেতন পাচ্ছেন না সিটিসেলের কর্মীরা
দেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর সিটিসেলের উচ্চ ও মধ্যম পর্যায়ের ৫০ জনের বেশি কর্মী আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। বেতন ছাড়াও গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও বাকি এসব কর্মীর। বকেয়া বেতন আদায়ে তাঁরা সম্প্রতি সিটিসেল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশও পাঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল আইনি নোটিশের জবাব দেওয়ার শেষ দিন। তবে কোনো সাড়া দেয়নি সিটিসেল কর্তৃপক্ষ। বেতন না পাওয়া কর্মীদের অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে পিয়ন থেকে শুরু করে ডেপুটি ম্যানেজার পদের কর্মীদের বকেয়া পরিশোধ করা হলেও ডেপুটি ম্যানেজার বা ওপরের পদের কর্মীদের কোনো বকেয়াই পরিশোধ করা হয়নি। এই সংখ্যা ৪৬ জন। তাঁদের বেশির ভাগ এখনো প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আছেন।

 সিটিসেলের বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক মোসাদ্দেক মিলন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ২২ ডিসেম্বর চাকরির পদত্যাগপত্র জমা দিই। তবে বকেয়া পরিশোধ না করা হলে ইস্তফা কার্যকর হবে না এমন শর্তের কথা পদত্যাগপত্রে বলা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত বেতন বা প্রাপ্য কোনো টাকাই আমি পাইনি।’

তিনি জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কোনো বেতন পাননি। সিটিসেল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল মোর্শেদ খান কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেন। তবে শর্ত ছিল, ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে সবাইকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে হবে। বকেয়া বেতন পাওয়ার আশায় গত ডিসেম্বরে কর্মরত ৪০০ কর্মীর অধিকাংশই চাকরি ছাড়েন। এরপর ডিসেম্বরের শুরুতে প্রথম দফায় জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পর্যায় পর্যন্ত বকেয়া দুই মাসের বেতন দেওয়া হয়। এরপর ডিসেম্বরের ২২ তারিখে তিন মাসের বকেয়া বেতন, দুই ঈদের বোনাস, রিক্রিয়েশন লিভের ভাতাসহ বিভিন্ন পাওনা শোধ করা হয়। তবে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের দুই বছরের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ এ সময় কোনো কর্মীকে দেওয়া হয়নি। আইনি নোটিশ পাঠানোর পর গত সপ্তাহে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সিটিসেলের কর্মীরা। সেখানে জানানো হয়, শ্রম আইন অনুযায়ী বকেয়া আদায়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিটিসেল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এরপরও কোনো ফল না পেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। সিটিসেলের মার্কেটিং কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান টিপু সুলতান বলেন, ‘২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে যোগ দিই।

 বেতন, ২ বছরের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলে আমার পাওনা কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা। ১২ বছর চাকরি করে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’ এসব বিষয়ে জানতে সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ে বিটিআরসির দাবি করা বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় গত বছরের ২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল করে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এরপর আপিল বিভাগের নির্দেশে গত ৬ নভেম্বর সিটিসেলের কার্যক্রম আবার চালু হয়। কাগজে-কলমে চালু থাকলেও বর্তমানে অপারেটরটির কোনো গ্রাহক নেই।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দেয়া শুরু করেছে মোবাইল অপারেটররা
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters