Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
ঘাটতি ছাড়াবে লাখ কোটি টাকা [ খবর ] 20/05/2017
ঘাটতি ছাড়াবে লাখ কোটি টাকা
আবু আলী :

প্রতি অর্থবছরেই বাড়ছে বাজেটের আকার। পাশাপাশি বাড়ছে বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ। তবে কয়েক অর্থবছর ধরে এই ঘাটতির পরিমাণ দেশের মোট জিডিপির আকারের ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে। আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতির হার বাড়তে পারে। প্রাথমিক হিসাবে এই ঘাটতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ২৯ হাজার ১০ কোটি টাকা। এই প্রথম বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে।

এখন থেকে ছয় অর্থবছর আগেও বাংলাদেশের বাজেটের আকার ছিল লাখ কোটি টাকার নিচে। দেশে প্রথম লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয় মহাজোট সরকারের আমলে ২০০৯-১০ অর্থবছরে। সেটিই ছিল ওই সরকারের প্রথম বাজেট। প্রথমে এর আকার ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের আকার কমে ১ লাখ ২ হাজার ৬০৭ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ওই অর্থবছরে প্রথমে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। পরে এই ঘাটতির পরিমাণ কমে ২৫ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা হয়।

গত ছয় বছরের ব্যবধানে বাজেটের আকার বেড়ে আগামী অর্থবছরে হচ্ছে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ঘাটতির পরিমাণও।

সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি হবে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বাজেট ঘাটতি নিয়ে চিন্তিত নই। শেষ পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি হয় না। বাজেটের আকার এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে সরকার। ফলে ঘাটতির পরিমাণ কমে যায়। এডিপির আকার বড় হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ও কমে যায়। এসব মিলে বড় ঘাটতিও আর থাকে না।

এদিকে বেশ কয়েকজন অর্থনীতিবিদ বলছেন, বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ এভাবে বাড়তে থাকলে একসময় মূল বাজেটের চেয়ে ঘাটতির আকার বড় হতে পারে। এতে সরকারের সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়ে যাবে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনতুষ্টির বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। এ কারণে বাজেটের আকার যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ঘাটতিও। তবে বড় বাজেট উপস্থাপিত হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটে আকারের পরিমাণ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে ঘাটতি ধরা হতে পারে ১ লাখ ২৯ হাজার ১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, চলতি বাজেটে যা ছিল ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে ৩১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। রেকর্ড ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হতে পারে ৭৪ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হতে পারে ৪৮ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা, যা মোট ঘাটতির ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশ। ২৫ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া হবে, যা মোট ঘাটতির ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর বিদেশি উৎস থেকে (নিট) নেওয়া হতে পারে ৫৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা, যা মোট ঘাটতির ৪১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
• নতুন আমদানি নীতিতে গুরুত্ব ই-কমার্স ও সফটওয়্যারে
• আমদানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি
• রপ্তানি বাড়াতে অপ্রচলিত পণ্যের ওপর গুরুত্বারোপ
• বিনিয়োগে বাধা পেয়ে টাকা যায় বিদেশে
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters