ল্যান্ডফোনের গ্রাহক কমেছে ৪০ শতাংশ [ প্রথম পাতা ] 23/05/2017
অতি নিম্নমানের সার্ভিস
ল্যান্ডফোনের গ্রাহক কমেছে ৪০ শতাংশ
* খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ক্যাবল ডাক্ট, অপটিক্যাল ফাইবার, ডিপি পোল কেবিনেট ধ্বংস হচ্ছে * ক্ষতি হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ নিশ্চিহ্ন হচ্ছে বিটিসিএল
বাকী বিল্লাহ :

বছরের পর বছর গ্রাহক ভোগান্তি, অন্যদিকে মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা ও আধুনিক সার্ভিস ডেলিভারির কারণে সাধারণ মানুষ ল্যান্ডফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ফলে ল্যান্ডফোনের গ্রাহকসংখ্যা দিন দিনই কমছে। সরকারের বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লি. (বিটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ল্যান্ডফোন ব্যবস্থা অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। এক সময় ল্যান্ডফোনের গ্রাহক ছিল প্রায় ১০ লাখ। নানা সমস্যার কারণে এখন ল্যান্ডফোনের সংখ্যা কমে সাড়ে ৬ লাখ হয়েছে। প্রতিদিনই গ্রাহকসংখ্যা কমছে। অনেকে স্ব-ইচ্ছায় বাড়ির ল্যান্ডফোন বিটিসিএলের কাছে সমর্পণ করে দিচ্ছে।

তবে গ্রাহককে ভালো সার্ভিস দিতে না পারার কারণ হিসেবে বিটিসিএল সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িকে দায়ী করছে। তাদের মতে ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে ল্যান্ডফোনের তার কেটে ফেলছে। ফলে বিভিন্ন এলাকার টেলিফোন বিকল হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার কারনে টেলিফোন গ্রাহকগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে টেলিফোন কর্তৃপক্ষও চরম দুশ্চিন্তায় আছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, টেলিফোন ক্যাবল কাটা, নষ্ট হওয়াসহ নানা কারণে বিটিসিএল ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়ন। বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ কপার ক্যাবল, অপটিক্যাল ফাইবার ও ক্যাবল নেটওয়ার্ক রক্ষায় সবার সহায়তা চেয়েছেন। এ নিয়ে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ আছে দুশ্চিন্তায়ও। তারা সেবার মান বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিলেও মাঠ পর্যায়ে ভোগান্তি লেগেই আছে। লাইন ঠিক করতে ঘাটে ঘাটে তদবির করে অতিষ্ঠ গ্রাহক। মাসের পর মাস টেলিফোন লাইন নষ্ট থাকছে। নষ্ট টেলিফোনের বিল দেয়াসহ নানাভাবে টেলিফোন কর্তৃপক্ষের ওপর যারপরনাই ক্ষ্যাপা। মানুষ এখন আর বিটিসিএল (টিএন্ডটি) ফোন ব্যবহার করতে চায় না। আবার চাঁদাবাজরা টিএন্ডটি ফোনের বিলের ঠিকানা ধরে বাসায় টেলিফোন করে চাঁদা দাবি করছে। যার কারণে মিরপুরে টিএন্ডটি ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার অনেকেই নম্বর বন্ধ করে দেয়ার জন্য আবেদন করছে। জামানতের টাকা নিতে কষ্ট করতে হবে, তাই ওই টাকা আর আনতে চাচ্ছে না এমন অভিযোগ রয়েছে।

বিটিসিএল থেকে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা, তিতাস গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে প্রায় সময় বিটিসিএলের ভূগর্ভস্থ ক্যাবল কাটা পড়ে। একবার কাটা পড়লে তা মেরামত করতে কয়েক সপ্তাহ লাগে। এজন্য লাইনম্যানদের পেছনে পেছনে ঘুরতে হয়, দিতে হয় বখশিশ। আবার অনেক সময় সংঘবদ্ধ চোরদল ভূগর্ভস্থ ক্যাবল চুরি করে নিয়ে যায়। ওইসব মোটা ক্যাবলের ভেতরের তামার তার খুলে চোর দল ঢাকার বাইরে ধামরাই, সাভার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। রাজধানীতে এসব ঘটনা অহরহ ঘটছে। শুধু রাজধানীই নয়, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে টেলিফোনের তার কাটা ও চুরি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। কোন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া কঠিন। এসব চুরি ঠেকাতে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ অবশ্য পুলিশের উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ করেছে।

শুধু ভূগর্ভস্থ ক্যাবলই নয়, এখন সব ক্যাবল চুরি হচ্ছে। টেলিফোনে কেবিন বঙ্গুলো এখন ডাস্টবিন রাখা, ফুটপাতের চা দোকান, পান দোকান দেয়ার স্থানে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিটিসিএলের স্থাপনার পাশে ছোটখাট দোকান বসছে।

১৬৫ শান্তিনগর স্কাইভিউ পার্কসিটির এক ফ্ল্যাটের মালিক এই প্রতিবেদককে জানান, গত তিন মাস ধরে তার বাসার টেলিফোন নষ্ট। তিনি বারবার চেষ্টা করেও লাইনটি সচল করতে পারেননি। তার মতে, বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে টেলিফোন লাইন রেন্ট নিচ্ছে। তা নেয়া বন্ধ না রাখলে কেন তিনমাস বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ ফোন সচল করছে না। একই ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটে নষ্ট টেলিফোন লাইনম্যান রাজিব ঠিক করে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যারা লাইনম্যানের হাতে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা বসশিশ দেয় তাদের ফোন দ্রুত সচল হয়। কিন্তু তার ফোনটি ৩ মাস অচল। আর কত মাস অচল থাকার পর সচল হবে তা নিশ্চিত কেউ বলতে পারেনি। তিনি টেলিফোনটি সচল করার জন্য তদবির করছেন। কিন্তু তদবিরে কাজ হচ্ছে না। আগামী দিনে টিএন্ডটি ফোন রাখবেন কি না তা নিয়ে ভাবছেন। তার মতে বহু গ্রাহক এখন ফোন ভোগান্তিতে আছেন।

এদিকে চলতি মাসে কয়েকবার বিটিসিএল ইস্কাটনস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাজধানীর খিলগাঁও, মগবাজার, কাকরাইল, মৌচাক, মালিবাগ, ফকিরাপুল, ডিআইটি এক্্রটেনশন রোড, নয়াটোলা, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিটিসিএলের ভূগর্ভস্থ ক্যাবল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ টেলিফোন বিকল হয়ে পড়ছে। ওয়াসার ড্রেন নির্মাণ কাজের ফলে খিলগাঁও চৌরাস্তা এলাকায় ৫০০ টেলিফোন, বনশ্রী এলাকায় ১১০টি, গোড়ান এলাকায় ৬০টি টেলিফোন বিকল হয়ে আছে। আবার কাকরাইল এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজের ফলে কাকরাইন কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, সার্কিট হাউস এলাকার ৪০টি, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগরে ৭৬০টি, রাজারবাগ, চামলীবাগে ৩২০টিসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার টেলিফোন বিকল হয়ে পড়ে। এসব লাইন কত দিনে মেরামতের কাজ শেষ হবে তা বিটিসিএল কর্তৃপক্ষই জানে না।

এ সম্পর্কে বিটিসিএলের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রায় সময় নানা কারণে সমস্যা হচ্ছে। যার জন্য গ্রাহকসংখ্যা ১০ লাখ থেকে কমে সাড়ে ৬ লাখ হয়েছে। এই সংখ্যা আরও কমতে পারে। অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। এখন শুধু ঢাকায় গ্রাহকসংখ্যা বেশি আছে। গ্রাহক ধরে রাখার জন্য সেবার মান বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নানাভাবে চেষ্টা করছেন।

বিটিসিএলের এক তথ্যে বলা হয়েছে, সরকার জণগণের অর্থে স্থাপিত মহামূল্যবান ক্যাবল ডাক্ট, কপার ক্যাবল, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, ডিপি পোল, কেবিনেট ইত্যাদি ধ্বংস করা বন্ধ না হলে বিটিসিএল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। তখন আর গ্রাহকদেরকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। তাই বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ রক্ষায় দ্রুত সবার সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• সাবমেরিন ক্যাবল ব্যান্ডউইথ : ৪ দেশের সঙ্গে রপ্তানি চূড়ান্ত
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters