ব্যবসা হারানোর আতঙ্কে বীমা ব্যবসায়ীরা [ অর্থ বাণিজ্য ] 28/05/2017
ব্যবসা হারানোর আতঙ্কে বীমা ব্যবসায়ীরা
৩০ মে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অন্তত ২০ জন বড় শিল্পপতি, বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকসহ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছে এসবিসি
সরকারি সম্পত্তির একমাত্র বীমাকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি)। কিন্তু সরকারি সম্পদ বীমার আওতায় না আসায় এবং বড় প্রকল্পগুলোর অধিকাংশেরই বীমা বিদেশে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়িক মন্দায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের একটি অংশ দিতে হয় বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে। ফলে সবমিলে সংকটে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত থেকে ব্যবসা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে এসবিসি। এদিকে এসবিসির এ সিদ্ধান্তে ব্যবসা হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন বেসরকারি খাতের বীমা ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, বেসরকারি খাত থেকে ব্যবসা সংগ্রহের লক্ষ্যে ৩০ মে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অন্তত ২০ জন বড় শিল্পপতি, বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকসহ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছে এসবিসি। এরই মধ্যে বেসরকারি খাতের প্রায় সব ব্যাংকেই চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে তাদের গ্রাহকদের বীমা কাভারেজ এসবিসি থেকে নেয়া না হলে ব্যাংকগুলোয় কোনো ডিপোজিট রাখা হবে না বলে জানানো হয়েছে। আর এমন হলে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও। কারণ এসবিসির ডিপোজিটের বড় অংশই রাখা হয় বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে।

বেসরকারি খাত থেকে ব্যবসা সংগ্রহের বিষয়ে এসবিসি বলছে, এসবিসি হাওরসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বীমা কাভারেজ দিচ্ছে। অথচ এসব দুর্গত এলাকায় বেসরকারি বীমা খাতের কোনো ভূমিকা নেই। সর্বশেষ ভয়াবহ দুর্যোগের পর হাওরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে এসবিসি। ফলে এ বছর মোটা অংকের লোকসানের মুখে পড়তে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। মূলত এ লোকসান পুষিয়ে নিতেই বেসরকারি খাত থেকে ব্যবসা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি এ প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতের কাভারেজ নিতে এগিয়ে এলে সাধারণ মানুষের বীমার প্রতি অনাস্থা কিছুটা হলেও দূর হবে।

এদিকে এসবিসির বেসরকারি খাতভিত্তিক ব্যবসা নিয়ে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছেন খাতটির ব্যবসায়ীরা। একাধিক বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালক বলেছেন, বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর অবস্থা এমনিতেই নাজুক। এ পরিস্থিতিতে এসবিসি বেসরকারি খাত থেকে ব্যবসা সংগ্রহে মাঠে নামলে অন্যদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই শুধু বেসরকারি কেন, সরকারি খাতের ব্যবসাও ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণ রিইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসবিসিকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। এতে প্রতি বছর পুনঃবীমা বাবদ কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রিমিয়াম বিদেশে পাঠাতে হবে না। দেশের অর্থ দেশেই থাকবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবীর হোসেন বলেন, আমরা বরাবরই এসবিসিকে পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছি। এটা হলে বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো এ প্রতিযোগিতার বাজারে ভালোভাবে টিকতে পারবে। পাশাপাশি পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাবদ প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশেও চলে যাবে না। কারণ তখন আমরা সবাই দেশেই পুনঃবীমা করব।

তবে বীমা কোম্পানির মালিকপক্ষের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন সাধারণ বীমা করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা বললেই তো আর হবে না। শুধু রিইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার কোনো সুযোগ এসবিসির নেই।

বেসরকারি খাত থেকে ব্যবসা সংগ্রহের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামী দিনগুলোয় বেসরকারি খাত থেকে ব্যবসা বাড়ানোর বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে কমিশন দেয়ার নিয়ম নেই, কারণ এটা অবৈধ। মূলত কমিশন না দেয়ার কারণেই অনেকে আমাদের কাছ থেকে কাভারেজ নিতে চায় না। তবে সামনে এসব সমস্যা মাথায় রেখে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বীমা পলিসি নিয়ে আসবে এসবিসি, যার কার্যক্রম চলছে।

বেসরকারি বীমা ব্যবসায়ীদের আপত্তি সম্পর্কে এসবিসি বলছে, অবৈধ কমিশন বাণিজ্যের প্রভাবে কোম্পানিগুলো বেসরকারি খাতে একচেটিয়া ব্যবসা করলেও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে পারেনি। ২০১১ সালে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। তাই এ অপ্রতিরোধ্য কমিশন বাণিজ্যের দায় কোনোভাবেই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এড়াতে পারবে না।
এসবিসি সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতে বীমার বাজার ২ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকার প্রিমিয়াম আয় হয় এসবিসির। এর মধ্যে সরকারি সম্পদের বীমা থেকে আসে ১৫০ কোটি টাকা। আর বাকিটা আসে বেসরকারি বীমা কোম্পানির পুনঃবীমা থেকে। কারণ আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা করতে হয় এসবিসিতে।

এদিকে কোনো ভূমিকা না থাকলেও এসবিসির এ আয় থেকেও ভাগ দিতে হচ্ছে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে। প্রায় ২৫ বছর ধরে এ সুবিধা ভোগ করছে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলো। ১৯৯০ সালের এপ্রিলে এসবিসির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক আদেশে জানায়, সরকারি খাতের ব্যবসার মোট মুনাফার ৫০ শতাংশ প্রতি বছর সমহারে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোকে দিতে হবে। জানা যায়, আর্থিকভাবে দুর্বল বেশকিছু সাধারণ বীমা কোম্পানি এ মুনাফা ভাগাভাগির অংশ দিয়েই বেঁচে আছে। এসবিসির আয়ের অংশই দেয়া হচ্ছে এসব কোম্পানির অফিস ভাড়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন। এ অবস্থায় বেসরকারি খাত থেকে এসবিসির ব্যবসা সংগ্রহের ঘোষণায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন খাতটির ব্যবসায়ীরা।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters