Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
কাতারে চাকরি হারানোর শঙ্কায় দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা [ আয় ব্যয় ] 18/06/2017
কাতারে চাকরি হারানোর শঙ্কায় দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা
কাতারে বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি বিদেশি শ্রমিক রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের
ভারতীয় ইলেকট্রিশিয়ান অজিত। মাত্র সাত মাস আগে নতুন এ চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু কাতারের অন্য শ্রমিকদের মতো তিনিও এখন উদ্বিগ্ন।

অজিত শুধু নিজের চাকরি নিয়ে চিন্তিত নয়, এ দেশে আদৌ থাকতে পারবে কি না, থাকলেও খাদ্যপণ্যের দাম আরো কত বাড়ে—এসব চিন্তা ঘুম কেড়ে নিয়েছে তাঁর। বার্ত সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘যদি বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে তবে আমাদের মতো শ্রমিকদের টিকে থাকা কঠিন হবে। দিনে দিনে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে, চাকরিও পাওয়া যাবে না। ’ মূলত কাতারে যে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে তার দিকেই ইঙ্গিত করছেন অজিত।

সম্প্রতি কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ তুলে তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ আরো বেশ কিছু দেশ। এতে করে দেশটির জন্য অর্থনৈতিক লেনদেন এবং বাণিজ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শ্রমিকরা।

কাতারে অজিতের মাসিক আয় ১ হাজার রিয়াল (২৭৫ ডলার)। এর মধ্যে ৬০০ রিয়াল প্রতি মাসে দেশে পরিবারকে পাঠান। তাঁর উদ্বেগ মনে হয় আর বেশিদিন এভাবে আয় করতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘অনেক সুপারমার্কেটে চাল, টমেটো এবং পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিটি আইটেমের পেছনে ১ রিয়াল ব্যয় করতাম এখন তা দ্বিগুণ। ’ ৩১ বছর বয়সী অজিত জানান, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এখন তিনি প্রতিদিন এক বেলা খাবার কমিয়ে দিয়েছেন। তাঁর উদ্বেগ—‘সম্ভবত আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেবে। ’ তিনি বলেন, সবাই বলাবলি করছে আর চাকরি পাওয়া যাবে না।

কাতারে বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি বিদেশি শ্রমিক রয়েছে। যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর। দেশটিতে প্রতিবেশীদের অবরোধের খড়্গ নেমে আসায় এ শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অজিতের পাশেই দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ থেকে আসা ৩২ বছর বয়সী অনিল। সে এখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। দোহায় ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সকাল থেকে কাজ করে সে কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিচ্ছিল। ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা রয়েছে কাতারের। সে কারণেই দেশটিতে ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণকাজ হচ্ছে। এ কাজগুলো করছে বিদেশি শ্রমিকরাই।

অনিল বলেন, ‘আমাদের চাকরি থাকবে কি না এ নিয়েই সবাই কথা বলছে। কেউ কেউ বলছে, আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেবে। ’ তিনি বলেন, ‘কাতারে সংকট শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই আপেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতি কিলো আপেল ৭ রিয়াল থেকে ১৮ রিয়ালে উঠেছে। ’ এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কোনো সমস্যায় কাতারের শ্রমিকরা এভাবে ভীত হয়নি।

এদিকে রমজান মাসের কারণে কাজের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ওভারটাইম করে অতিরিক্ত আয়েরও সুযোগ দেখছে না শ্রমিকরা। ২৬ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি নুরুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে আমার মা-বাবা, ভাই-বোন আছে। তাঁদের জন্য মাসে ১৫০০ রিয়াল করে পাঠাই। বাংলাদেশি এ শ্রমিক বলেন, বর্তমান এ সংকট আমাদের জন্যও বড় দুশ্চিন্তা বয়ে এনেছে। আমরা জানি না আমাদের ভাগ্যে কী আছে।

এদিকে কাতার সংকট সমাধানে আলাপ-আলোচনা কিছুটা চললেও খুব সহসাই এ সমস্যা সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
• পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমেছে বেনাপোলে
• সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্প্রসারণের খবরে বাড়ি তৈরির হিড়িক
• হজের খরচ বাড়ছে
• কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে অস্ট্রেলিয়াও বাণিজ্যমন্ত্রী
• বিমানের অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য
• মালয়েশিয়ায় ১৭ বাংলাদেশি আটক
• হজ প্যাকেজের পুরো টাকা জমা দিয়েই যাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন
• যুক্তরাজ্যে হারানো বাজার ফিরে পাবে বাংলাদেশ?
• হজ প্রতিনিধিদের পেছনে ব্যয় ১০৯ কোটি টাকা সংসদে ধর্মমন্ত্রী
• বিধ্বস্ত ইরানি বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters