শুল্ক-করের চাপ সইতে পারবে না পোল্ট্রি খাত [ শিল্প বাণিজ্য ] 19/06/2017
শুল্ক-করের চাপ সইতে পারবে না পোল্ট্রি খাত
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন উপকরণের ওপর যে হারে শুল্ককর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার ভার বহনের ক্ষমতা এ খাতের নেই। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মানুষের সস্তায় পুষ্টির জোগান দেওয়া বিকাশমান এ খাতের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ভুট্টা আমদানির ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর, সয়াবিন মিল আমদানির ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও এবং লাইম স্টোন আমদানির ওপর প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন পোল্ট্রি শিল্প মালিকরা।

তাঁরা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে এ খাতকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্পূর্ণ প্রস্তুত ফিড আমদানির শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে পোল্ট্রি খাতের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।

তা সত্ত্বেও পোল্ট্রিশিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিভিন্ন উপকরণ আমদানির ওপর যে হারে অগ্রিম কর (এআইটি), আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করার কথা বলা হয়েছে, তার ভার বহনের সক্ষমতা এ শিল্পের গড়ে ওঠেনি। পোল্ট্রিশিল্পের ওপর প্রস্তাবিত এসব শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্টিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পোল্ট্রি খাতের খাদ্য ও বিভিন্ন উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখলেও বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ফলে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে আশ্বাস থাকলেও এ খাত কতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, তা আমাদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান দুটি দাবি ছিল, ভুট্টা আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও সয়াবিন মিল আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা। এ দাবি মানা হয়নি, বরং বেশ কিছু পণ্যে নতুন করে শুল্কারোপ করা হয়েছে। তবে ডিডিজিএস আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ প্রস্তুত পোল্ট্রি ফিড আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় সরকারকে ধন্যবাদ। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় ফিড মিলগুলো সুরক্ষা পাবে।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ফিআব) সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান বলেন, পোল্ট্রি উৎপাদনে মূল খরচ হয় ফিডে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে ফিড উৎপাদনে ব্যবহূত প্রধান দুটি উপকরণ ভুট্টা এবং সয়াবিন মিল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ও কাস্টমস শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, পোল্ট্রি ফিডে শতকরা ৫৫ শতাংশ ভুট্টা ও ২৫ শতাংশ সয়াবিন মিলের প্রয়োজন হয়। আমাদের প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ টন ভুট্টা ও ৮ লাখ টন সয়াবিন মিল আমদানি করতে হয়। এ খাতে শুল্ক-কর আরোপ করে সরকার সামান্য রাজস্ব পায়, কিন্তু পোল্ট্রিশিল্প মালিকরা বাড়তি খরচের চাপে দিশাহার হয়ে পড়ে।

আহসানুজ্জামান বলেন, সয়াবিন মিলের ওপর থেকে ১০ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক তুলে নিয়ে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে। এতে আগের চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। কারণ, আমদানি করা সয়াবিন মিলের ৫০ শতাংশ আসে ভারত থেকে, সাফটা চুক্তির আওতায় প্রতিবছর চার লাখ টন সয়াবিন মিল শুল্কমুক্ত সুবিধায় পাওয়া যেত। এখন রেগুলেটরি শুল্ক আরোপ করায় এই সুবিধা আর থাকবে না। তিনি রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, শুধু সয়াবিন মিলে আমদানির ওপর শুল্কারোপের কারণে প্রতি কেজি ফিডের উৎপাদন খরচ এক থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়বে। বড় কম্পানিগুলো এই চাপ সহ্য করতে পারলেও ছোট ও মাঝারি খামারিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের ওপর আমরা ভরসা রাখতে চাই। আশা করি, তিনি তাঁর কথা রাখবেন। তবে ভুট্টা, সয়াবিন মিল, লাইসিন, লাইমস্টোনসহ যে উপকরণগুলোতে এখনো অতিরিক্ত শুল্ক-কর আরোপ করার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করবেন বলে আশা করি।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• নতুন ভ্যাট আইন মানবেন না ব্যবসায়ীরা
• নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters