Hawker.com.bd     SINCE
 
 
 
 
দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে [ প্রথম পাতা ] 17/07/2017
দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে
১৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত
আহসান হাবীব রাসেল :

পুঁজিবাজারে হঠাত্ করে দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম তর তর করে বাড়তে শুরু করেছে। গত এক মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে ৭ শতাংশের মতো। সেখানে ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত। এ ধরনের দাম বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই। কোনো কোনো কোম্পানি নিজেরাই জানিয়েছে তাদের কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কোনো কারণ নেই। এরপরও কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি থেমে নেই।

ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, গত এক মাসে আজিজ পাইপসের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭৬ শতাংশ। মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। খুলনা পাওয়ারের (কেপিপিএলের) বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের ৩৩ শতাংশ। মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ শতাংশ। এছাড়া কে এন্ড কিউ-র শেয়ারের দাম তিন মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আর একমাসে বেড়েছে ৩০ শতাংশ। রহিমা ফুডের শেয়ারের দাম এক মাসে বেড়েছে ২৭ শতাংশ। এক মাসে দুলামিয়া কটনের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। বঙ্গজের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। সমতা লেদারের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। ফার্স্ট ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ। প্রাইম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ। বিডি ওয়েল্ডিংয়েরও প্রায় ২০ শতাংশ। প্রসঙ্গত, যেসব কোম্পানির উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ কিংবা যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ দিতে পারে না কিংবা বছরে একটি এজিএমও (বার্ষিক সাধারণ সভা) করতে পারে না সেসব কোম্পানিকে দুর্বল কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, বাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার এ প্রক্রিয়া সব সময়ই বাজারে দেখা যায়। আসলে ‘জেড’ ক্যাটাগরির বেশিরভাগ কোম্পানিই হলো জুয়ার ইন্সট্রুমেন্ট। এগুলো নিয়ে অনেকে জুয়া খেলে। এগুলো আমাদের শেয়ারবাজারকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

ড. আবু আহমেদ বলেন, দিনের পর দিন এগুলো টপটেনে আসছে। আবার ঠাস করে পড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেখছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কিছুই করছে না। দীর্ঘদিন ধরে যে কোম্পানিগুলো জেড ক্যাটাগরিতে রয়েছে এগুলো পুঁজিবাজারের জন্য ক্ষতিকারক। এদের পর্ষদকে কখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয় না।

মার্চেন্ট ব্যাংকাররা বলছেন, বাজারে ভালো ও খারাপ সব ধরনের কোম্পানিই রয়েছে। বিনিয়োগকারীদেরকে বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে। খারাপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম হঠাত্ করে বাড়লেও আবার হঠাত্ করে এদের দাম পড়েও যায়। তাই এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যারা এসব কোম্পানির শেয়ারে দাম হঠাত্ করে বেড়ে যাওয়া দেখে লোভে পড়েন তারা শেষ পর্যন্ত সবই হারান।

মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন এবং নতুন কোনো প্রকল্প শুরুসহ নানা গুজব ছড়িয়ে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়। কোম্পানির আয় বৃদ্ধি নিয়েও গুজব ছড়ানো হয় বাজারে। গুজবের উপর ভিত্তি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে শুরু করেন। ফলে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে যখন প্রকাশিত হয় যে, এসব গুজবের সত্যতা নেই ততদিনে গুজবের নেপথ্যে থাকা হোতারা শেয়ার ছেড়ে দিয়ে বের হয়ে যান। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম অতিমূল্যায়িত (ওভার ভ্যালুড) হয়ে যেতে পারে। আবার খারাপ কোম্পানির শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে কমও (আন্ডার ভ্যালুড) থাকতে পারে। বর্তমানে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমে যাওয়ায় মানুষ শেয়ারবাজারের দিকে আসছে। তাই সব শেয়ারের দামই কিছুটা বেড়েছে। জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের দামও বাড়তে পারে যদি তাদের ভবিষ্যত্ ভালো হয়। বিনিয়োগকারীদেরকে কোম্পানির আয় ও ভবিষ্যত্ বিবেচনা করে বিনিয়োগ করতে হবে। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেখতে হবে কোনো কোম্পানির শেয়ার ঘিরে যদি শর্ট সেল বা ইনসাইডার ট্রেডিং হয়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া। এক্ষেত্রে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি এবং স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোকে বেশি নজরে রাখতে হবে।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters