ব্যয় ২৮ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা [ শিল্প বাণিজ্য ] 17/07/2017
দশ বড় প্রকল্পের জুন পর্যন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন
ব্যয় ২৮ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা
সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে শুরু থেকে গত মে-জুন পর্যন্ত খরচ হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৩৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতুতে ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলে ৮ হাজার ২০ কোটি ৬৬ লাখ, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৯৪ কোটি ৮৯ লাখ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১ হাজার ২১ কোটি ৬৪ লাখ, মেট্রোরেলে ২ হাজার ৮১ কোটি ৭৯ লাখ, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরে ৪১৩ কোটি ৭০ লাখ, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে ৬৬৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্পে এখনও কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। গত জুন পর্যন্ত ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাস্টট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির কাছে।

অন্যদিকে ফাস্টট্র্যাক সম্পর্কিত অপর কমিটি ফাস্টট্র্যাক টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মুখ্য সচিবের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদকে। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিবকে। গত ৮ জুলাই ইআরডির জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ রদবদল আনা হয়। রোববার ইআরডি থেকে প্রজ্ঞাপনটি কমিটির সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, মেগা প্রকল্পগুলোর গতি বাড়াতে আবুল কালাম আজাদ ইআরডির সিনিয়র সচিব থাকার সময়ই এই ফাস্টট্র্যাক তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং তা বাস্তবায়নও করেন। পরে মুখ্য সচিব থাকাকালে তিনি টাস্কফোর্সের দায়িত্বে ছিলেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে আবারও এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এতে করে কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব হবে।

ফাস্টট্র্যাক প্রতিবেদন অনুযায়ী পদ্মা সেতু : জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৯৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়কের শতভাগ, সার্ভিস এরিয়া-২ শতভাগ, নদীশাসন কাজ ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মূল সেতুর নির্মাণকাজ ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র : এ প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় কাজের ৯৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম ও দ্বিতীয় ও চতুর্থ চুক্তির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। তৃতীয় চুক্তির কাজ অধিকাংশই শেষ। দ্বিতীয় পর্যায়ে মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে গত বছরের জুলাই মাসে ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয় রাশিয়ার সঙ্গে। গত ডিসেম্বরে ঋণ কার্যকর হয়েছে।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র : গত জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ওনার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এবং কয়লা পরামর্শক নিয়োগের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন-১-এর কাজও শেষ হয়েছে।

মেট্রোরেল : প্রকল্পটির কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-১-এর জন্য টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এ অংশের বাস্তব অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ। ইতিমধ্যে ২, ৩ ও ৪নং প্যাকেজেরও চুক্তি হয়েছে। ৫-৮নং চুক্তির দরপত্রের কাজ চলছে।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র : প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এ ছাড়া আর্থিক অগ্রগতি ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ওনার্স ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ এবং জমি সংক্রান্ত দায়িত্ব, বাউন্ডারি ফেন্সিং কাজ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ক্লিয়ারেন্সের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ : এ প্রকল্পটি বিল্ড ওন অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত বছরের ১৮ জুলাই টার্মিনাল ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানির জন্য এখনও কাতারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া জিও টেকনিক্যাল সার্ভের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে ডিজাইনের কাজ চলছে।

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখনও অর্থায়ন কোন উৎস থেকে হবে সেটি চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর আওতায় জমি অধিগ্রহণ, ওয়্যার হাউস নির্মাণ, সার্ভে বোট, পাইট ভেসেল ইত্যাদি ক্রয় করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটির সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ১ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার
• হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি বেড়েছে ২০ শতাংশ
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters