সৌদি আরবে হাজীদের ঘর ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে [ ] 17/07/2017
সেবার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা
সৌদি আরবে হাজীদের ঘর ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে
খালিদ সাইফুল্লাহ:

সৌদি আরবে হাজীদের ঘর ভাড়া ও মোয়াল্লেম সার্ভিস চার্জসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খরচ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া বিমান ভাড়া, খাবার ও রিয়ালের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মোয়াল্লেম ফি থেকে টাকা কেটে রাখায় ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে হজ আদায়কালে হাজীদের সেবার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার আশঙ্কা করছেন এজেন্সি মালিকেরা।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে হাজীদের নিবন্ধন, মেডিক্যাল টেস্টসহ আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। আগামী ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর ২৪ জুলাই থেকে শুরু হবে হজ ফাইট। এ জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে হাজীদের থাকার জন্য ঘর ভাড়া করতে বেশির ভাগ বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকেরা অবস্থান করছেন। তারা জানিয়েছেন গত বছরের তুলনায় এ বছর ঘর ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। আল কুতুব হজ এজেন্সির মালিক মাওলানা কুতুব উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, সৌদি সরকার মক্কায় সংস্কার কাজ শেষ করায় বর্তমানে হাজীদের ধারণ ক্ষমতা অনেকে বেড়ে গেছে। প্রতিটি দেশের হাজী সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে এ বছর গত বারের চেয়ে ছয়-সাত লাখ বেশি হাজী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সৌদি আরবে সব ধরনের খরচ বেড়ে গেছে। গত বছর যে ঘরের ভাড়া ছিল ১৫০০ রিয়াল এ বছর সে ঘরের ভাড়া চাওয়া হচ্ছে দুই হাজার রিয়াল। সৌদির নিবন্ধিত এজেন্সির সাথে বাংলাদেশের এজেন্সির চুক্তি করতে হয়। এ জন্য মোয়াল্লেম সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। এ চার্জও এবার বেড়ে গেছে। গত বছর ৬-৭ শ’ রিয়াল থাকলেও এ বছর দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার রিয়াল। খাবারের দামও বেড়ে গেছে। গত বছর তিন বেলা খেতে যেখানে ২০ রিয়াল খরচ হতো এখন সেখানে ৩০ রিয়াল খরচ হবে। এ ছাড়া রিয়ালের দামও গত বছরের চেয়ে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ধর্মমন্ত্রণালয় মোয়াল্লেম ফি একদিকে তিন হাজার টাকা কম দিচ্ছে অন্য দিকে ফেরত দিয়েছে দেরিতে। এতে সৌদি আরবে আইবিএনএর মাধ্যমে টাকা আসতে দেরি হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কুতুব উদ্দিন বলেন, সব ক্ষেত্রে এভাবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন এজেন্সিগুলো খরচ বাঁচাতে অনেক দূরে ঘর ভাড়া করবে। এতে সেবার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরো এয়ার ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মাওলানা মাহমুদুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হজ প্যাকেজ অনুযায়ী আমরা হাজী প্রতি মোয়াল্লেম ফি জমা দিয়েছি ২৩ হাজার ৪১৩ টাকা। কিন্তু ধর্মমন্ত্রণালয় এখন ২০ হাজার ৩৫১ টাকা ফেরত দিচ্ছে। এতে ৩০৬২ টাকা কম পাচ্ছি আমরা। এ টাকা নতুন করে হাজীদের কাছ থেকে নেয়া সম্ভব নয়। ফলে এজেন্সি মালিকদের গচ্চা দিতে হবে।
তবে এ ব্যাপারে ধর্মমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (হজ-১) মো: আবুল হাসান এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছেন, হজ প্যাকেজে ঘোষিত এক লাখ  ৫৬ হাজার ৫৩৭ টাকার মধ্যে জমানত হিসেবে ২৮ হাজার ৭৫২ টাকা গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকে সিটি চেক ইন, জমজম পানি, ১ শতাংশ হারে অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া, সৌদি হজ মন্ত্রণালয় ও সৌদি জেনারেল কার সিন্ডিকেটের অনুকূলে ব্যাংক গ্যারান্টি, স্থানীয় সার্ভিস চার্জ, হজযাত্রীদের কল্যাণ তহবিল, টলিব্যাগ এবং প্রশিক্ষণ ফি বাবদ আট হাজার ৪০১ টাকা কেটে রেখে ২০ হাজার ৩৫১ টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে, যা গত মার্চ মাসেই এজেন্সিগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল।
গত ৬ জুলাই বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের পক্ষ থেকে ধর্মসচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, হজ প্যাকেজ-২০১৭ এ ঘোষিত ব্যয়ের খাতে বিমান ভাড়া বাবদ এক লাখ ২৪ হাজার ৭২৩ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও গত ৪ জুলাই বাংলাদেশ বিমান বিমান টিকিটের মূল্য এক লাখ ২৭ হাজার ৫৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে ঘোষিত প্যাকেজ থেকে বিমান ভাড়া দুই হাজার ৮৬৭ টাকা বেশি ধরা হয়েছে। তারা আরো জানান, হজ প্যাকেজ যখন ঘোষণা করা হয় তখন ডলারের দাম ছিল ৮০ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ এখন দাম কমে ৮০ টাকা ২০ পয়সা হয়েছে। এ কারণে টিকিটের দাম ৪৫০ টাকা কমার কথা। অথচ কমানোর পরিবর্তে প্রায় তিন হাজার টাকা বাড়িয়ে দেয়া বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নয়।
হাবের কার্যনির্বাহী সদস্য ও হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নাসের নয়া দিগন্তকে বলেন, শুধু বিমান ভাড়া বৃদ্ধিই নয়, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেটের কবলে চলে গেছে। তাদের কাছ থেকে টিকিট কিনতে আমাদের আরো পাঁচ-ছয় হাজার টাকা বেশি গুণতে হবে। এ কারণে খরচও বেড়ে যাবে।
হজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে হাবের মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমান ভাড়া সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া মোয়াল্লেম ফি তিন হাজার টাকা কম দেয়া হচ্ছে। অবিলম্বে এজেন্সি মালিকদের এ টাকা ফেরত দিতে হবে। তিনি বলেন, হজে সব ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তারপরও এজেন্সিগুলো সর্বোচ্চ ভালো সেবা দেয়ার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু এভাবে খরচ বাড়লে সেবার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
 
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Today's Other News
• বাংলাদেশি পাসপোর্টে দেশে দেশে দেড় লাখ রোহিঙ্গা
• শাহজালালে দুর্ঘটনার কবলে ইন্ডিয়ান স্পাইস উড়োজাহাজ
More
Related Stories
News Source Link
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters